মুস্তাহাযা নারীর কুরআন স্পর্শ এবং তিলাওয়াতের বিধান
প্রশ্নঃ ১৩২১৭৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ইশতেহাজা হলে কোরআন শরীফ স্পর্শ করা যাবে কিনা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ইস্তিহাযা (استحاضہ) এমন এক অবস্থাকে বলা হয়, যাতে একজন নারী তার হায়েজের দিনগুলো এবং নিফাস (সন্তান প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব) ছাড়াও রক্তক্ষরণ দেখে। মুস্তাহাযা নারীর ক্ষেত্রে ঋতুবতী নারীর বিধান প্রযোজ্য হয় না; বরং এটি 'হাদাসে আসগার' বা অজু না থাকার মতো একটি অবস্থা। এই কারণে মুস্তাহাযা নারীর জন্য কুরআন পড়া জায়েজ এবং সে যদি অজু করে নেয়, তবে তার জন্য কাগজের পবিত্র কুরআন স্পর্শ করাও জায়েজ। অজু ছাড়া কুরআন স্পর্শ করা যাবে না।
মুস্তাহাযা নারী (যার ঋতুস্রাব বা নিফাস ছাড়া অন্য কারণে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ হয়), যদি তার এই রক্তক্ষরণ অনবরত চলতে থাকে, তবে সেই নারী শরীয়তের দৃষ্টিতে ‘মাজুর’ বা অক্ষম ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত হবে।
শরীয়তের পরিভাষায় ‘মাজুর’ এমন ব্যক্তিকে বলা হয়, যার অজু ভাঙার কোনো একটি কারণ (যেমন: বায়ু নির্গত হওয়া, রক্ত পড়া, প্রস্রাবের ফোঁটা পড়া ইত্যাদি) অনবরত চলতে থাকে এবং কোনো এক নামাজের পুরো ওয়াক্তের মধ্যে সে এতটুকু সময়ও পায় না যে, পবিত্র হয়ে ওই ওয়াক্তের ফরজ নামাজ আদায় করতে পারবে।
সুতরাং, যার استحاضہ (ইস্তিহাযা) বা অসুস্থতাজনিত রক্ত অনবরত ঝরতে থাকে, সেই মাজুর নারীর বিধান হলো— সে প্রতিটি ফরজ নামাজের ওয়াক্তের জন্য নতুন করে অজু করবে। এরপর ওই অজু দিয়ে সেই ওয়াক্তের ভেতর ফরজ, সুন্নত, নফল এবং কাজা—সব ধরণের নামাজ আদায় করতে পারবে। এমনকি ওই একই অজু দিয়ে সে পবিত্র কুরআন স্পর্শ করে তেলাওয়াতও করতে পারবে। শুধুমাত্র স্পর্শ করে তেলাওয়াতের জন্য পুনরায় অজু করা তার ওপর আবশ্যক নয়।
তবে যদি উক্ত ওজর বা সমস্যা ছাড়া অন্য কোনো কারণে অজু ভেঙে যায়, তবে পুনরায় অজু করা জরুরি হবে।
’’( قوله: والمستحاضة ومن به سلس البول والرعاف الدائم إلى آخره) وكذا من به انفلات ريح واستطلاق بطن، ( قوله: فيصلون بذلك الوضوء ما شاءوا من الفرائض والنوافل )، وكذا النذور والواجبات ما دام الوقت باقياً‘‘.
(1/131 -الجوہرۃ النیرۃ)
"ودم الاستحاضة حکمه کرعاف دائم وقتًا کاملاً لایمنع صومًا وصلاةً ولو نفلاً وجماعَا؛ لحدیث: توضئي وصلي وإن قطر الدم علی الحصیر". (الدرالمختارعلی صدر ردالمحتار:ج؍۱،ص؍۲۹۸، باب الحیض)
و في الشامية: ’’(قَوْلُهُ: لَا يَمْنَعُ صَوْمًا إلَخْ) أَيْ وَلَا قِرَاءَةً وَمَسَّ مُصْحَفٍ وَدُخُولَ مَسْجِدٍ، وَكَذَا لَا تُمْنَعُ عَنْ الطَّوَافِ إذَا أَمِنَتْ مِنْ اللَّوْثِ، قُهُسْتَانِيٌّ عَنْ الْخِزَانَةِ ط‘‘.(١/ ٢٩٨)
"والمستحاضة ومن به سلس البول والرعاف الدائم والجرح الذي لایرقأ یتوضؤن لوقت کل صلاة فیصلون بذلک الوضوء في الوقت ماشاؤا من الفرائض والنوافل". (الهدایة على صدر البنایة:ج؍۱،ص؍۴۷۹،باب الحیض)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন