আপনার জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর

সকল মাসায়েল একত্রে দেখুন

৪৮৪
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,

আমাদের এলাকার একটি মেয়ে তার পছন্দের একটি ছেলেকে বিবাহ করতে চাচ্ছিল। কিন্তু তার মা-বাবা অন্যত্র বিয়ে ঠিক করেন। বিবাহের দিন তার মতামত জানতে চাইলে মেয়ে হাঁ-না কিছুই না বলে চুপ থাকে। তবে মনে মনে সে নারাজ ছিল। এ অবস্থায় তার আকদ হয়ে যায়। এবং মেয়েটি নারাজ থাকলেও মা-বাবার কথায় স্বামীর বাড়িতে চলে যায়। এবং দু‘মাস তার সাথে সংসার করে। এরপর একদিন হঠাৎ সে পালিয়ে গিয়ে পূর্বোক্ত ছেলেটির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তার সাথে ঘর-সংসার শুরু করে। এটা নিয়ে এলাকায় অনেক তোলপাড় চলছে। মেয়েটির দাবি, সে প্রথম বিবাহে রাজি ছিল না। তাই তা সহীহ হয়নি। জানার বিষয় হল, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মেয়েটির কথা কি ঠিক? তার প্রথম বিবাহ সহীহ হয়েছে কি না? এবং সে যে দ্বিতীয় বিবাহ করল এর হুকুম কী?

question and answer iconউত্তর দিয়েছেন: মাসিক আলকাউসার
৯ অক্টোবর, ২০২০
৩৭১
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,

আমার এক বন্ধু এক মেয়েকে ফোনে বিয়ে করে। সে মেয়েটিকে ফোনে বলে, আমি তোমাকে এত টাকার মহরে বিবাহ করলাম, তুমি রাজী থাকলে কবুল বল। মেয়েটি তখন কবুল বলে। ফোনে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে ছেলের দুজন বন্ধুও মেয়ের কবুল বলা শুনেছিল। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের অভিভাবক তাদেরকে ভিন্ন জায়গায় বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের উভয়ে বলে, আমাদের তো বিয়ে হয়ে গেছে। আমরা পরস্পর স্বামী-স্ত্রী। তাই অন্য কোথাও আমরা বিয়ে করব না।

আমার প্রশ্ন হচ্ছে, তাদের বিবাহ কি শুদ্ধ হয়েছে? এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী? বর্তমানে তাদের বাবা-মা চাচ্ছেন তারা একে অপরকে তালাক দিয়ে দিক। এটা কি বৈধ হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

question and answer iconউত্তর দিয়েছেন: মাসিক আলকাউসার
৯ অক্টোবর, ২০২০
৩৭৩
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,

গত বছর আমার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পরই স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য হয়। সে বিভিন্ন পর-পুরুষের সাথে ফোনে কথা বলে, তাদের সাথে আড্ডা দেয়। তাকে অনেক বোঝানোর পরও কাজ হয়নি; বরং সে বারবার বলে, আমাকে ছেড়ে দাও। আমাকে তালাক দিয়ে দাও। আমার স্ত্রীরা পারিবারিকভাবে বেশ ধনী। তাই মুরব্বীদের সাথে পরামর্শ করে তাকে খোলা তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমার এক চাচা বললেন, তুমি খোলা তালাক বাবদ তিন লাখ টাকা নাও। মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাই, আমি কি আমার স্ত্রী থেকে তালাক বাবদ উক্ত টাকা গ্রহণ করতে পারব?

উল্লেখ্য, আমার বিয়ের মহর ছিল আড়াই লাখ টাকা। বিয়ের সময় স্বর্ণালংকারের মাধ্যমে তা আদায় করে দিয়েছি।

question and answer iconউত্তর দিয়েছেন: মাসিক আলকাউসার
৯ অক্টোবর, ২০২০
৩৪১
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,

আমার এক বন্ধু এক মেয়েকে বিয়ে করে। সাত মাসের গর্ভবতী অবস্থায় মেয়েটি পালিয়ে গিয়ে আরেক ছেলের সাথে সংসার শুরু করে। এর এক মাস পর প্রথম স্বামী ঐ মেয়েকে তালাক প্রদান করে। পালিয়ে যাওয়ার তিন মাস পর একটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। পরবর্তীতে মেয়েটি কাযী অফিসে গিয়ে ঐ ছেলেটিকে বিয়ে করে নেয়। সন্তানের লালন-পালন ঐ মেয়ে এবং তার দ্বিতীয় স্বামীই করে যাচ্ছে। প্রথম স্বামীকে লালন-পালন করা এমনকি দেখার সুযোগ দিতেও তারা রাজি না। এখন আমি জানতে চাই-

ক. ঐ কন্যা সন্তানের পিতা হিসেবে পরিচয় কে পাবে?

খ. সন্তানটির লালন-পালনের অধিকার কে রাখে?

উল্লেখ্য যে, সন্তানটির নানী জীবিত এবং সন্তানটির লালন-পালনে সে আগ্রহী। আর দ্বিতীয় স্বামী সন্তানটির মাহরাম নয়।

গ. এমন অপারগতাবস্থায় সন্তানের খোঁজ-খবর না নেওয়ার দ্বারা প্রথম স্বামী গুনাহগার হবে কি না?

ঘ. ঐ সন্তানের লালন-পালনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্বামীর কোনো অধিকার আছে কি না?

question and answer iconউত্তর দিয়েছেন: মাসিক আলকাউসার
৯ অক্টোবর, ২০২০
৩৩৮
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,

কিছু দিন আগে আমার স্ত্রী একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তিকাল করে। আমার ছোট দুটি সন্তান আছে। তাদের লালন-পালনের জন্য একজন বিধবা নারীর প্রয়োজন। এক বিধবা নারীর সঙ্গে আমার বিয়ের কথা চলছে, যে আমার ছোট ভাইকে দুধ পান করিয়েছিল। এলাকার কিছু লোক বলছে, এ মহিলা যেহেতু আমার ছোট ভাইয়ের দুধ মা, তাই এ দুধ সম্পর্কের সব বিধিনিষেধ আমার সাথেও কার্যকর হবে। অবশ্য এ বিষয়ে ভিন্ন কথাও অনেকে বলেছে, যা আমার কাছে শক্তিশালী মনে হয়েছে। সার্বিকভাবে ঐ বিধবাকে পছন্দ হওয়া সত্ত্বেও শুধু এই আপত্তির কারণে বিয়েটি আটকে আছে। তাই মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, আসলেই কি মহিলাটি আমার ছোট ভাইয়ের দুধ মা হওয়ার কারণে তার সাথে আমারও দুধের সম্পর্ক হয়ে গেছে, ফলে তাকে বিয়ে করা আমার জন্য বৈধ নয়? এক্ষেত্রে শরীয়তের সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে পেরেশানি থেকে মুক্ত করবেন।

question and answer iconউত্তর দিয়েছেন: মাসিক আলকাউসার
৯ অক্টোবর, ২০২০
৩১২
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,

আমার বিয়ে হয়েছে প্রায় তিন বছর হয়েছে। প্রথম দেড় বছর মোটমুটি ভালো কাটলেও এরপরই সমস্যা শুরু হয়। সমস্যার সূচনা আমার স্ত্রীর ফেইসবুক চালানো নিয়ে। সে বিভিন্ন মানুষের সাথে মেসেজ আদান-প্রদান করত। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার কথা কাটাকাটিও হয়। সে বারবার বলত, আমি ফেইসবুক চালালে তোমার সমস্যা কোথায়? এক মাস আগে এ নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে বলে ফেলি, ফেইসবুক চালালে আমার ঘরে আর থাকতে পারবে না। পরের দিন আমি অফিসে যাওয়ার পর সে তার বাবার বাসায় চলে যায়। আমার ও আমার পরিবারের লোকদের কয়েকবার চেষ্টার পরও সে আসেনি। পরে আমি মুরব্বীদের সাথে পরামর্শ করে তাকে তালাক দিয়ে দিই।

আমার প্রশ্ন হচ্ছে, যেহেতু তার দোষেই আমাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে তাই মহর, তালাক পরবর্তী ইদ্দতের ভরণ-পোষণ এগুলো দিতে কি আমি বাধ্য? তাছাড়া আমার স্ত্রী পারিবারিকভাবে বেশ সচ্ছল।

question and answer iconউত্তর দিয়েছেন: মাসিক আলকাউসার
৯ অক্টোবর, ২০২০
২৬৫
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,

এক সপ্তাহ আগে আমার মেয়েকে তার বাবা বিবাহ দিয়ে দেয় লন্ডনপ্রবাসী এক ছেলের সঙ্গে। বিয়ে পড়ানো থেকে নিয়ে বিয়ের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা তিনি সম্পন্ন করেন মেয়েকে কোনো কিছু জানানো ছাড়াই। মেয়ের অনুপস্থিতিতে এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হয় সিলেটে আমার শ্বশুর বাড়িতে। আমি ও আমার মেয়ে তখন ঢাকায়। এক দিন পর বিয়ের কাবিননামাসহ মেয়ের এক চাচা ও ছেলে পক্ষের বেশ কয়েকজন আমাদের ঢাকাস্থ বাসায় আসেন কাবিননামায় মেয়ের স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য। তারা যতক্ষণ ছিলেন মেয়ে তাদের সামনে বা আড়ালে সম্মতিসূচক কোনো কথা বলেনি। এমনকি কাবিননামাতেও স্বাক্ষর করেনি। একপর্যায়ে কাবিননামার পত্রটি তারা ওভাবেই টেবিলের উপর রেখে চলে যান। আমি সেটা তুলে রাখিÑ মেয়ের বাবা এলে তাকে ফেরত দেওয়ার জন্য।

এর দুই দিন পর মেয়ের বাবা ও বড় চাচা এবং ছেলে ও ছেলে পক্ষের আত্মীয়স্বজন রীতিমত উপস্থিত হয়ে বিবাহ উত্তর পর্বগুলোর জন্য তাগাদা দিতে থাকে। কিন্তু মেয়ে বা আমার দিক থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তারা সামনাসামনি বসার প্রস্তাব দেয়। বসার পর ছেলে বলে, ‘মৌনতাই সম্মতির লক্ষণ। তোমার কাছে তো বিয়ে অনুষ্ঠিত হবার খবরসহ কাবিননামা পৌঁছেছে। তখন তো কিছু বলনি বা কাবিননামার কাগজ ফেরত দাওনি?’ জবাবে মেয়ে বলে, আমি তো এ বিয়ে কবুল করিনি। কাবিননামা ফেরত নিতে না বলার অর্থই কি বিয়ে মেনে নেওয়া?

উল্লেখ্য, এ বিয়েতে তার এবং আমার অনাগ্রহের বড় কারণ ছেলের বয়স। মেয়ের বয়স ২৪  বছর আর ছেলের বয়স হল ৩৮। তাছাড়া আমরা চাচ্ছি, ধার্মিক কোনো দেশী ছেলের সঙ্গে সম্বন্ধ করতে। অপরদিকে মেয়ের বাবা ও চাচাদের ইচ্ছা, প্রবাসী ব্যবসায়ী কোনো ছেলের সঙ্গে মেয়েকে বিবাহ দেওয়া। এই বিবাহে মেয়ের সম্মতিসূচক স্পষ্ট কোনো বক্তব্য না পাওয়া সত্ত্বেও মেয়ের বাবা এবং ছেলে পক্ষের লোকেরা বলছেন, বিয়ে হয়ে গেছে। মেয়েকে আমরা নিয়ে যাব। এখন আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি, এই বিয়ে কি আদৌ সংঘটিত হয়েছে? শরীয়ত কী বলে? সঠিক উত্তর জানিয়ে আশ্বস্ত করবেন।

question and answer iconউত্তর দিয়েছেন: মাসিক আলকাউসার
৯ অক্টোবর, ২০২০
২২২
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,

আমাদের সমাজে বিয়ের পূর্বে কিছু ব্যাপার ইদানীং লক্ষ্য করা যাচ্ছে; যেমন ক. বরপক্ষ যখন মেয়ে দেখতে যায় এবং কথা প্রসঙ্গে মেয়ের উচ্চতা সম্পর্কে জানতে চায় তখন বলা হয় যে, মেয়ের উচ্চতা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি। যদিও বাস্তবে মেয়ের উচ্চতা চার ফুট দশ ইঞ্চি। খ. অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শ্যামবর্ণের মেয়েদের বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করে ফর্সা হিসেবে বরপক্ষের সামনে উপস্থাপন করা হয়। গ. আবার ছেলের মাসিক বেতনের ব্যাপারে কথা উঠলে যা প্রকৃত বেতন তার থেকে অনেক বাড়িয়ে বলা হয়।

এখন সম্মানিত মুফতী ছাহেবানের নিকট আমার জানার বিষয় হচ্ছে, উল্লিখিত বিষয়গুলো বিবাহের মত একটা পবিত্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধোঁকা বা প্রতারণার শামিল কি না এবং এই ধরনের ইস্যু নিয়ে বিয়ের পর সমস্যা দেখা দিলে কী করা উচিত?

 

question and answer iconউত্তর দিয়েছেন: মাসিক আলকাউসার
৯ অক্টোবর, ২০২০
২০৬২
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,

এক মেযের সাথে আমার গোপনে পরিচয় হয়। স্থায়ী সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে আমার কয়েকজন বন্ধুবান্ধবসহ একটি রেস্টুরেন্টে একত্রিত হই। আমার এক বন্ধু কাজী অফিসের পিয়ন হিসেবে একজনকে নিয়ে আসে। সে কাজী অফিস থেকে বিবাহ রেজিস্ট্রি করার কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে আসে। এছাড়াও সরকারি দলিল-স্ট্যাম্পে একটি বিবাহ হলফনামা নিয়ে আসে। সেখানে আমরা উভয়ে স্বেচ্ছায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার নিমিত্তে স্বাক্ষর করি এবং নিকাহনামা রেজিস্টারেও উভয়ে স্বাক্ষর করি। সেখানে চারজন পুরুষও উপস্থিত ছিল। এছাড়া বিবাহ পড়ানোর উপযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা কাজী অফিসের কেউ উপস্থিত ছিল না। উক্ত কাগজপত্রে স্বাক্ষরের মাধ্যমে ১,০০,০০১ টাকা দেনমোহরের শর্তে আমরা বিবাহ সম্পন্ন করি। কিন্তু এক্ষেত্রে আমরা কেউই ইজাব-কবুল বলিনি। পিয়ন আমাদের বললেন, আপনারা দুজন স্বামী স্ত্রী। এরপর আমরা যার যার মতো চলে আসি।

বিয়ের ২-৩ মাসের পর থেকে আমাদের মধ্যে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বাকবিতন্ডা হয়। ৩-৪ মাস পর এক পুরুষ শিক্ষক নিয়ে পর্দার ব্যাপারে আমার সাথে ওর ঝগড়া হয়। আমি রাগ করে একপর্যায়ে বলেছিলাম, তুমি যদি কালকে, পরশু এবং এর পরের দিন তার কাছে পড় তাহলে তুমি যথাক্রমে এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক। পরে জানতে পারি, সে তিন দিনই পড়েছিল। এখন প্রশ্ন হল, ক) আমাদের বিবাহ কি সঠিক হয়েছিল? খ) আমাদের মধ্যে তালাক হয়েছিল কি? গ) এখন আমি পারিবারিকভাবে ওকে ঘরে তুলতে বা বিয়ে করতে চাই। এজন্য আমার কী করা উচিত বা আদৌ কি তা সম্ভব?


question and answer iconউত্তর দিয়েছেন: মাসিক আলকাউসার
৮ অক্টোবর, ২০২০