আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
৪- নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ৯১১
আন্তর্জাতিক নং: ৪৫৮-১
- নামাযের অধ্যায়
৩৫. ফজরের নামাযে কিরা’আত পাঠ
৯১১। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) ফজরের নামাযে ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ সূরা পড়তেন। তাঁর অন্যান্য নামায সংক্ষিপ্ত হত।
كتاب الصلاة
باب الْقِرَاءَةِ فِي الصُّبْحِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، حَدَّثَنَا سِمَاكُ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْرَأُ فِي الْفَجْرِ بِـ ( ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ) وَكَانَ صَلاَتُهُ بَعْدُ تَخْفِيفًا .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ব্যাখ্যাকারগণ হাদীসের শেষ অংশের দু'টি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ১. ফজরের সালাত ব্যতীত তাঁর অপরাপর সালাত যথাক্রমে যুহর, আসর মাগরিব ও এশা সংক্ষিপ্ত ও হালকা হতো এবং ফজর ব্যতীত এসব সালাতে কম কিরা'আত পাঠ করতেন। ২. প্রাক ইসলামী যুগে যখন সাহাবীদের সংখ্যা অত্যন্ত কম ছিল এবং নবী কারীম ﷺ এর পেছনে বিশেষত প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবীগণ জামা'আতে শরীক হতেন, তাই স্বভাবত তিনি সালাত দীর্ঘ করতেন। তারপর যখন মুসল্লী সংখ্যা বেড়ে গেল এবং তাদের মধ্যে দ্বিতীয় তৃতীয় মর্যাদার মু'মিনগণ শরীক হতে লাগল তখন তিনি তুলনামূলকভাবে সালাত সংক্ষিপ্ত ও হালকা করতে লাগলেন। জামা'আতে মুসল্লী সংখ্যা ক্রমে বেড়ে যাওয়ার ফলে এই আশংকা দেখা দেয় যে, তাদের মধ্যে কতিপয় রোগী, দুর্বল, বয়োবৃদ্ধ হতে পারে, যাদের জন্য দীর্ঘ কিরা'আত খুব কষ্টকর। যদিও উভয় ব্যাখ্যাই বাস্তব ক্ষেত্রে সঠিক। তথাপি অধমের ধারণায় দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটি সত্যের অধিক নিকটবর্তী।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)