মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ২১৫
নামাযের অধ্যায়
(২) পরিচ্ছেদঃ ঘুমিয়ে থাকার কারণে যে ব্যক্তি ফজরের নামায পড়তে পারলো না অথচ বেলা উঠে গেল
(২১৫) ইয়াযিদ ইবন্ সুলাইহ, যি-মিখমার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি ছিলেন, হাবশার অধিবাসী এক লোক, তিনি মহানবীর (ﷺ)-এর খেদমত করতেন, তিনি বলেন, আমরা তাঁর (নবীর) সাথে এক সফরে ছিলাম, তখন ফিরতি পথে তিনি দ্রুত চলেন। এরূপ করা হয়েছিল রসদ-এর স্বল্পতার দরুন, তখন তাঁকে এক লোক বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনার পেছনের লোকেরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন, তখন তিনি থেমে গেলেন বাকি অন্যরাও তাঁর সাথে থেমে গেলেন। অবশেষে সকলেই তাঁর কাছে একত্রিত হলেন। তখন তিনি বললেন, তোমরা কি কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিতে চাও? অথবা কেউ একজন তাঁকে এ কথা বললেন, তখন তিনি নেমে পড়লেন লোকেরাও নেমে পড়ল। তারপর তিনি বললেন। আজকের রাত্রে কে আমাদের পাহারা দিবে? তখন আমি বললাম, আমিই পাহারা দিব। আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য কুরবানী হিসেবে কবুল করুন। অতঃপর আমার হাতে তাঁর উষ্ট্রীর লাগাম তুলে দিলেন। তারপর বললেন এখানে অবস্থান কর। আহমকের মত (নামাযের সময়ের কথা) ভুলে যেও না। তিনি বলেন, তখন আমি রাসূল (ﷺ) ও আমার উস্ত্রীর লাগাম হাতে নিলাম, অতঃপর স্বল্প দূরে গেলাম, তারপর উস্ত্রী দুটির লাগাম ছেড়ে দিলাম চরার জন্য। আমি এতদুভয়কে দেখতে ছিলাম এমন সময় আমার ঘুম এসে গেল। আর আমি কিছু অনুভব করতে পারলাম না। অবশেষে আমার মুখমণ্ডলে সূর্যের আলোর তাপ অনুভব করলাম। তারপর জাগ্রত হয়ে ডানে বাঁয়ে দেখলাম, দেখতে পেলাম আমার বাহন দু'টি অদূরেই, তারপর আমি নবী (ﷺ) ও আমার উস্ত্রীর লাগাম ধরলাম, তারপর আমার নিকটতম লোকটির কাছে গেলাম এবং তাঁকে জাগালাম। তাঁকে বললাম, তোমরা কি নামায পড়েছ? তিনি বললেন, না। অতঃপর একজন আর একজনকে জাগালেন। এমনকি নবী (ﷺ)-ও জাগলেন, তখন তিনি বললেন, হে বিলাল, আমাকে মশক থেকে কিছু পানি দিতে পার? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহ আপনার জন্য আমাকে কুরবানী হিসেবে কবুল করুন, তারপর তাঁকে ওযুর পানি দিলেন, তারপর এমনভাবে ওযু করলেন যে ওযুর পানিতে মাটি প্রায় ভিজল না। তারপর বেলালকে আযান দিতে বললেন, তিনি আযান দিলেন, অতঃপর নবী (ﷺ) উঠে ফজরের পূর্বের দু'রাক'আত সুন্নাত আদায় করলেন, তাতে তাড়াহুড়া করলেন না। অতঃপর তাঁকে নির্দেশ দিলে তিনি নামাযের জন্য একামত দিলেন। তখন তিনি ফজরের ফরয পড়লেন ধীরে সুস্থে। তখন তাঁকে একজন বললেন, হে আল্লাহর নবী আমরা কসুর করেছি। নবী (ﷺ) বললেন, না। আল্লাহ পাক আমাদের রূহসমূহ কবয করে নিয়ে গেলেন, অতঃপর সেগুলো আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিলেন। তখন আমরা নামায আদায় করলাম।
(হায়ছামী হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, এটা আবু দাউদ, আহমদ ও তবারানী আউসাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আহমদের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصلاة
(2) باب من نام عن صلاة الصبح حتى طلعت الشمس
(215) عن يزيد بن صليحٍ عن ذى مخمرٍ وكان رجلا من الحبشة بخدم النبى صلى الله عليه وسلم قال كنا معه في سفر فأسرع السير حين انصرف، وكان يفعل ذلك لقلَّة الزَّاد، فقال له قائل يا رسول الله قد انقطع الناس وراءك، فحبس
وحبس الناس معه حتى تكافلوا إليه، فقال لهم هل لكم أن نهج هجعةً أو قال له قائل فنزل ونزلوا، فقال من يكلؤنا الليلة؟ فقلت أنا جعلنى الله فداك، فأعطانى خطام ناقته، فقال هاك لا تكونن لكع قال فأخذت بخطام ناقة رسول الله صلى الله عليه وسلم وبخطام ناقتى فتنحَّيت غير بعيد فخليت سبيلهما برعيان، فإنى كذلك أنظر إليهما حتى أخذنى النوم فلم أشعر بشئ حتى وجدت حرَّ الشمس على وجهى، فاستيقظت فنظرت يمينًا وشمالًا فإذا أنا بالرَّاحلتين منى غير بعيد، فأخذت بخطام ناقة النبى صلى الله عليه وسلم وبخطام ناقتى، فأتيت أدنى القوم فأيقظته، فقلت له أصليتم؟ قال لا، فأيقظ الناس بعضهم بعضًا حتى أستيقظ النبى صلى الله عليه وسلم فقال يا بلال هل لى في الميضأة يعنى الإداوة، قال نعم جعلنى الله فداءك، فأتاه بوضوء فتوضأ وضوءً لم يلتَّ منه التراب فأمر بلالًا فأذن، ثم قام النبى صلى الله عليه وسلم فصلى الركعتين قبل الصبح وهو غير عجلٍ، ثم أمره فأقام الصلاة فصلى وهو غير عجل، فقال له قائل يا نبى الله أفرطنا
قال لا، قبض الله أرواحنا وقد ردها إلينا وقد صلينا.
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান