মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
৭. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৩৩
নামাযের অধ্যায়
(৬) পরিচ্ছেদ: আসরের নামায পরিত্যাগকারী সময়ের পরে আদায়কারীর শাস্তির বর্ণনা
(১৩৩) আনাস ইবন্ মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেন যে, আমি কি তোমাদেরকে মুনাফিকের নামায সম্পর্কে বলবো? মুনাফিকের নামায হচ্ছে, তারা সূর্য শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্যবর্তী হওয়া পর্যন্ত আসরের নামায বিলম্ব করতে থাকে এবং মোরগের ন্যায় ঠোকর মারে অর্থাৎ তড়িঘড়ি করে নামায সেরে ফেলে। যাতে তারা আল্লাহর স্মরণের খুব কম সময়ই পেয়ে থাকে।
(মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও অন্যান্য।)
(মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও অন্যান্য।)
كتاب الصلاة
(6) باب فى وعيد من ترك العصر أو أخرها عن وقتها
(133) عن أنس بن مالكٍ رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ألا أخبركم بصلاة المنافق، يدع العصر حتَّى إذا كانت بين قرني الشَّيطان أو على قرني الشَّيطان قام فنقرها نقرات الدِّيك لا يذكر الله فيها إلاَّ قليلًا.
হাদীসের ব্যাখ্যা:
নামায মুসলমানের চোখ শীতলকারী এবং অন্তরের শান্তি দানকারী। নামাযের সময় উপস্থিত হলে স্রষ্টার সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য মু'মিনের মন ব্যাকুল হয়ে উঠে। তাই মুমিন ব্যক্তি তার যাবতীয় কাজকর্ম ত্যাগ করে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য সময় মত নামাযে মশগুল হয়। অপরদিকে মুনাফিকের নিকট নামায খুবই অপছন্দনীয়। মানুষকে দেখানোর জন্য বা কোনরূপ স্বার্থের বশবর্তী হয়ে সে নামায পড়ে। যেহেতু তার মনে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মহব্বত নেই এবং বিচারের দিনেও বিশ্বাসী নয় তাই নামাযের প্রতি মুনাফিকের কোন অনুরাগ নেই। হৃদয়ের আকর্ষণ না থাকার দরুন মুনাফিক সময়মত নামায পড়তে পারে না। কোন কাজের বাহানা করে বিলম্ব করতে থাকে। কোন কাজ না থাকলেও অনর্থক বসে বসে সময় নষ্ট করে। অন্তিম সময়ে নামাযের জন্য দাঁড়ালেও মন তার নামাযের জন্য প্রস্তুত থাকে না, নামাযের আদাব ও আরকান পূর্ণভাবে আদায় করে না। তাই সবদিক থেকে তার নামায অপূর্ণ এবং ত্রুটিযুক্ত থাকে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)