মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৩২
নামাযের অধ্যায়
(৬) পরিচ্ছেদ: আসরের নামায পরিত্যাগকারী সময়ের পরে আদায়কারীর শাস্তির বর্ণনা
(১৩২) 'আলা ইবন আব্দুর রহমান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং আনসারদের এক ব্যক্তি যোহরের নামায পড়ে আনাস (রা)-এর নিকট গেলাম, তিনি তখন দাসীকে ওযূর পানি দিতে বললেন, আমরা তখন বললাম, আপনি কোন নামায় পড়বেন? তিনি বললেন, আসরের নামায। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বললাম, আমরা এইমাত্র যোহরের নামায পড়েছি। তখন তিনি বলেন আমি রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, এ জাতীয় নামায হচ্ছে মুনাফিকের। কেননা তারা সূর্য শয়তানের দুইশিং-এর মধ্যবর্তী স্থানে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে নামায পড়ে এবং এতে তারা আল্লাহর যিকিরের সুযোগ খুব কমই পায়।
(অন্য বর্ণনায় আনাস (রা) বলেন) ইহা হচ্ছে মুনাফিকের নামায। তিনবার বলেন। তাদের মধ্যে কেউ সূর্য হরিদ্রবর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আসরের নামায না পড়ে বসে থাকে এবং সূর্য যখন শয়তানের শিংয়ের মধ্যে চলে যায় তখন সে দাঁড়িয়ে চারবার ঠোকর মারে অর্থাৎ খুব তড়িঘড়ি করে চার রাক'আত নামায আদায় করে তাতে সে আল্লাহর যিকিরের খুব কম সময়ই পেয়ে থাকে।
(মুসলিম, বায়হাকী, আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ ।)
كتاب الصلاة
(6) باب فى وعيد من ترك العصر أو أخرها عن وقتها
(132) عن العلاء بن عبد الرحمن قال دخلنا على أنس بن مالك أنا ورجل من الأنصار حين صلينا الظهر، فدعا الجارية بوضوء، فقلنا له أىَّ صلاة تصلى؟ قال العصر، قال قلنا إنما صلينا الظهر الآن، فقال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول تلك صلاة المنافق، يترك الصلاة حتى إذا كانت فى قرنى الشيطان أو بين قرنى الشيطان صلى لا يذكر الله فيها إلا قليلًا (وعنه من
طريقٍ ثانٍ بنحوه وفيه قال أنسٌ) تلك صلاة المنافقين ثلاث مرَّاتٍ يجلس أحدهم حتَّى إذا اصفرَّت الشَّمس وكانت بين قرني شيطانٍ قام نقر أربعًا لا يذكر الله فيها إلاَّ قليلًا.

হাদীসের ব্যাখ্যা:

নামায মুসলমানের চোখ শীতলকারী এবং অন্তরের শান্তি দানকারী। নামাযের সময় উপস্থিত হলে স্রষ্টার সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য মু'মিনের মন ব্যাকুল হয়ে উঠে। তাই মুমিন ব্যক্তি তার যাবতীয় কাজকর্ম ত্যাগ করে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য সময় মত নামাযে মশগুল হয়। অপরদিকে মুনাফিকের নিকট নামায খুবই অপছন্দনীয়। মানুষকে দেখানোর জন্য বা কোনরূপ স্বার্থের বশবর্তী হয়ে সে নামায পড়ে। যেহেতু তার মনে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মহব্বত নেই এবং বিচারের দিনেও বিশ্বাসী নয় তাই নামাযের প্রতি মুনাফিকের কোন অনুরাগ নেই। হৃদয়ের আকর্ষণ না থাকার দরুন মুনাফিক সময়মত নামায পড়তে পারে না। কোন কাজের বাহানা করে বিলম্ব করতে থাকে। কোন কাজ না থাকলেও অনর্থক বসে বসে সময় নষ্ট করে। অন্তিম সময়ে নামাযের জন্য দাঁড়ালেও মন তার নামাযের জন্য প্রস্তুত থাকে না, নামাযের আদাব ও আরকান পূর্ণভাবে আদায় করে না। তাই সবদিক থেকে তার নামায অপূর্ণ এবং ত্রুটিযুক্ত থাকে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান