মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৬. পবিত্রতা অর্জন

হাদীস নং: ১২১
পবিত্রতা অর্জন
(৫) পরিচ্ছেদঃ মল-মূত্র ত্যাগের সময় কিবলার দিকে মুখ করা বা কিবলাকে পিছনে রাখার নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে
(১২১) আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি তো তোমাদের পিতার ন্যায়। তোমাদের কেউ যখন নির্জন স্থানে (মল-মূত্রত্যাগের স্থানে) গমন করবে, তখন সে কিবলার দিকে মুখ করবে না এবং কিবলাকে পিছনেও রাখবে না। (আবু হুরায়রা বলেন) আর তিনি আমাদেরকে গোবর-ঘুটে ও শুকনো পঁচা হাড় শৌচকর্মের ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন। আর কেউ তার ডান হাত শৌচকর্মে ব্যবহার করবে না।
[শাফিয়ী, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবন হিব্বান। ইমাম মুসলিম হাদীসটি সংক্ষিপ্তভাবে সংকলিত করেছেন।]
كتاب الطهارة
(5) باب النهى عن استقبال القبلة او استدبارها وقت الحاجة
(121) عن ابى هريرة رضى الله عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال انما انا لكم مثل الوالد، اذا أتيتم الغائط فلا تستقبلوا القبلة ولا تستدبروها، ونهى عن الروث (2) والرومة ولا يستطيب (3) الرجل بيمينه

হাদীসের ব্যাখ্যা:

পানাহার যেমন মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত। ঠিক তেমনি পেশাব মানুষের একান্ত আবশ্যকীয় বিষয়। নবী কারীম ﷺ যেমন মানব জীবনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন, ঠিক তেমনি পেশাব-পায়খানা থেকে পবিত্র হওয়ার বিষয়ে সমীচীন অসমীচীন তথা জায়িয না জায়িয ইত্যাদি বিষয়ের দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন। উল্লিখিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ তিনটি দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

১. পেশাব পায়খানা করার সময় এমনভাবে বসা চাই যাতে কিবলার দিক সামনে কিংবা পিছনে না থাকে। এ হচ্ছে কিবলার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আদব ও দাবী। প্রত্যেক বিবেকবান সচেতন ব্যক্তির কাছেই পেশাব পায়খানা করার সময় কিবলার মত কোন পবিত্র জিনিস সামনে কিংবা পেছনে রাখা শিষ্টাচার পরিপন্থী কাজ বলে বিবেচিত হয়।

২. ডান হাত সাধারণত পানাহার, লেখা, কোন কিছু ধরা ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়। ডানহাত জন্মগতভাবে বামহাতের তুলনায় অধিক শক্তিশালী এবং বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। কাজেই তা ইস্তিঞ্জা কালে অপবিত্রতা দূরীকরণের লক্ষ্যে ব্যবহার না করাই উচিত। বিষয়টি এরূপ যে, প্রত্যেক সচেতন ভদ্র ব্যক্তিই শৈশবে তার সন্তানদের এ শিষ্টাচার ও ভদ্রোচিত পদ্ধতি রপ্ত করানো অত্যাবশ্যক মনে করে।

৩. তৃতীয় দিক নির্দেশনা হচ্ছে এই যে, কোন জীব-জন্তুর হাড় কিংবা শুকনা গোবর দ্বারা ইস্তিঞ্জা থেকে পবিত্র হওয়ার প্রয়োজন মিটানো উচিত নয়। যদিও জাহিলিয়্যা যুগে আরবরা দু'টি বস্তু পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করত। এজন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ (স.) দু'টি বস্তু দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা থেকে স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন। মোটকথা হল দু'টি বস্তু দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা প্রত্যেক ভদ্র ও রুচি সম্পন্ন মানুষের কাছে অশোভন বিবেচিত হয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান