মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
২. ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
হাদীস নং: ৮০
আন্তর্জাতিক নং: ২৩৮১০
ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
(১০) পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি ঈমান আনা এবং যে ব্যক্তি তাঁকে না দেখে ঈমান আনে তাঁর ফযীলত প্রসঙ্গে
(৮০) আব্দুর রহমান বিন জুবাইর বিন নুফাইর তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, একদা আমরা হযরত আল-মিকদাদ বিন আল-আসওয়াদ (রা)-এর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। এমন সময় জনৈক ব্যক্তি অতিক্রম করে যাচ্ছিল। সে বললো, মুবারকবাদ সেই দুই নয়নের প্রতি যা অবলোকন করেছে আল্লাহর রাসূলকে। আল্লাহর শপথ! আমাদেরও একান্ত ইচ্ছা হয় অবলোকন করি যা আপনি অবলোকন করেছেন। প্রত্যক্ষ করি যা আপনি প্রত্যক্ষ করেছেন। এতে মিকদাদ (রা) ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। আর এতে আমি বিস্মিত হলাম। কারণ লোকটি যা বলেছে তা তো ভালই । (যা হোক) এরপর তিনি আগন্তুকের প্রতি মুখ করে বললেন, কী করে একজন ব্যক্তি এমন একটি দৃশ্য কামনা করতে পারে যা আল্লাহ তা'আলা তার কাছ থেকে অদৃশ্য করে রেখেছেন! অথচ সে জানে না ঐ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করলে তার অবস্থা কেমন হত? আল্লাহর শপথ! আল্লাহর রাসূলের সান্নিধ্যে বহুসংখ্যক সম্প্রদায় এসেছে, কিন্তু তারা তাঁর দাওয়াত কবুল করে নি এবং তাঁর সত্যয়ন করে নি, ফলে তারা জাহান্নামের বাসিন্দা হয়েছে। (অতএব, তুমি যেসব লোকের দলভুক্ত হতে না এর নিশ্চয়তা তোমার কাছে আছে কি?)
তোমরা আল্লাহর দরবারে হামদ (প্রশংসা) করছো না কেন? আল্লাহ তোমাদেরকে এমন করে নির্বাচন করেছেন যে, তোমরা তোমাদের প্রভুকে জানতে পেরেছ তোমাদের নবী (ﷺ)-এর আনীত বিষয়সমূহের সত্যয়ন করে এবং অন্যের উপরে গযবের দায় চাপিয়ে তোমরা মুক্ত থেকেছ। আল্লাহ্ শপথ! আল্লাহ তাঁর রাসূল (ﷺ)-কে কঠিনতম এক সময়ে প্রেরণ করেছিলেন (সাধারণত অন্যান্য নবীগণকে যেসব সময়ে প্রেরণ করা হয়েছিল, তার তুলনায় কঠিনতম)। সেটি ছিল জাহিলী যুগ, যখন মূর্তিপূজার চেয়ে উত্তম কোন মতবাদ বা দীন ছিল না । এমনি এক সময়ে রাসূল (ﷺ) আগমন করলেন সত্য ও মিথ্যার মানদণ্ড নিয়ে। তিনি পৃথক করে দিলেন সত্যকে মিথ্যা থেকে। পার্থক্য নির্ণয় করলেন পিতা ও সন্তানের মধ্যে। (এমতাবস্থায়) কেউ দেখতে পেল তার পিতা, সন্তান ও ভাই কাফির রয়ে গিয়েছে এবং আল্লাহ (দয়াপরবশ হয়ে) ঈমানের জন্য তার অন্তরের তালা খুলে দিলেন, সে জানে, তার প্রিয়জনরা ঐ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে, নিশ্চিত দোযখে প্রবেশ করবে। সুতরাং এই অবস্থায় তার চক্ষু স্থির থাকতে পারে না ।
এ বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে বলেনঃ
وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ
“যারা প্রার্থনা করে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করুন যারা আমাদের জন্য নয়ন প্রীতিকর হবে।”
তোমরা আল্লাহর দরবারে হামদ (প্রশংসা) করছো না কেন? আল্লাহ তোমাদেরকে এমন করে নির্বাচন করেছেন যে, তোমরা তোমাদের প্রভুকে জানতে পেরেছ তোমাদের নবী (ﷺ)-এর আনীত বিষয়সমূহের সত্যয়ন করে এবং অন্যের উপরে গযবের দায় চাপিয়ে তোমরা মুক্ত থেকেছ। আল্লাহ্ শপথ! আল্লাহ তাঁর রাসূল (ﷺ)-কে কঠিনতম এক সময়ে প্রেরণ করেছিলেন (সাধারণত অন্যান্য নবীগণকে যেসব সময়ে প্রেরণ করা হয়েছিল, তার তুলনায় কঠিনতম)। সেটি ছিল জাহিলী যুগ, যখন মূর্তিপূজার চেয়ে উত্তম কোন মতবাদ বা দীন ছিল না । এমনি এক সময়ে রাসূল (ﷺ) আগমন করলেন সত্য ও মিথ্যার মানদণ্ড নিয়ে। তিনি পৃথক করে দিলেন সত্যকে মিথ্যা থেকে। পার্থক্য নির্ণয় করলেন পিতা ও সন্তানের মধ্যে। (এমতাবস্থায়) কেউ দেখতে পেল তার পিতা, সন্তান ও ভাই কাফির রয়ে গিয়েছে এবং আল্লাহ (দয়াপরবশ হয়ে) ঈমানের জন্য তার অন্তরের তালা খুলে দিলেন, সে জানে, তার প্রিয়জনরা ঐ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে, নিশ্চিত দোযখে প্রবেশ করবে। সুতরাং এই অবস্থায় তার চক্ষু স্থির থাকতে পারে না ।
এ বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে বলেনঃ
وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ
“যারা প্রার্থনা করে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করুন যারা আমাদের জন্য নয়ন প্রীতিকর হবে।”
كتاب الإيمان والإسلام
(10) باب في الإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم وفضل من آمن به ولم يره
(80) وعن عبد الرحمن بن جبير بن نفير عن أبيه قال جلسنا إلى المقداد بن الأسود رضي الله عنه يوما فمر به رجل فقال طوبى لهاتين العينين التي رأتا رسول الله صلى الله عليه وسلم والله لوددنا أننا رأينا ما رأيت وشهدنا ما شهدت فاستغضب فجعلت أعجب، ما قال إلا خيرا، ثم أقبل عليه فقال ما يحمل الرجل على أن يتمنى محضرا غيبه الله عنه لا يدري لو شهده كيف يكون فيه والله لقد حضر رسول الله صلى الله عليه وسلم أقوام أكبهم الله على مناخرهم في جهنم لم يجيبوه ولم يصدقوه أَوَلا تحمدون الله إذ أخرجكم لا تعرفون إلا ربكم مصدقين لما جاء به نبيكم قد كفيتم البلاء بغيركم والله لقد بعث الله النبي صلى الله عليه وسلم على أشد حال بعث الله عليها نبيا من الأنبياء في فترة وجاهلية ما يرون أن دينا أفضل من عبادة الأوثان فجاء بفرقان فرق به
بين الحق والباطل وفرق بين الوالد ووالده حتى إن كان الرجل ليرى والده وولده وأخاه كافرا وقد فتح الله قفل قلبه للإيمان يعلم أنه إن هلك دخل النار فلا يقر عينه وهو يعلم أن حبيبه في النار وأنها التي قال الله عز وجل (وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ) [الفرقان: 74]
بين الحق والباطل وفرق بين الوالد ووالده حتى إن كان الرجل ليرى والده وولده وأخاه كافرا وقد فتح الله قفل قلبه للإيمان يعلم أنه إن هلك دخل النار فلا يقر عينه وهو يعلم أن حبيبه في النار وأنها التي قال الله عز وجل (وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ) [الفرقان: 74]