আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ৮৫২
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) পার্থিব বস্তুর প্রতি অনাসক্ত, ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে নিজের তুলনায় অপরকে প্রাধান্য দিতেন, দুর্বলদের মাঝে সম্পদ বণ্টন করে দিতেন। দানশীলতা আর অল্পে তুষ্ট থাকা ছিলো তাঁর স্বভাবজাত গুণ। তিনি পার্থিব বস্তুর চাইতে পরকালীন বিষয়কে অধিক ভালবাসতেন। এ ছাড়া তিনি কোন যাঞ্চাকারীকে কখনোই খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন না, কোন আবেদনকারীকেই নিষেধ করতেন না। আল্লাহ্ তাঁর উপর, তাঁর বংশধরদের উপর ও তাঁর মহীয়সী স্ত্রীদের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
৮৫২। হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে বললেন, হে আয়েশা! মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের জন্য দুনিয়াদারী শোভনীয় নয়। হে আয়েশা! মহান আল্লাহ্ স্থিরপ্রতিজ্ঞ নবী রাসূলদের কাছ থেকে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা ছাড়া আর কিছুতেই সন্তুষ্ট হন না। কাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি হোক কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত সর্বাবস্থায় তাঁদের ধৈর্য ধরতে হয় আর সে সব ব্যাপারে তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আমাকেও সেসব দায়িত্ব পালন করা ছাড়া আল্লাহ্ সন্তুষ্ট নন। মহান আল্লাহ্ বলেনঃ নবী-রাসূলদের মধ্যে যারা দৃঢ়চিত্ত ও স্থির প্রতিজ্ঞ, তারা যেরূপ ধৈর্য ধরেছেন, আপনিও অনুরূপ ধৈর্যধারণ করুন। আল্লাহ্‌র শপথ! আমার পক্ষে এ আদেশ পালন ছাড়া কোন গত্যন্তর নেই। আল্লাহ্‌র শপথ! আমার পক্ষে এ আদেশ পালন ছাড়া কোন গত্যন্তর নেই। আল্লাহ্‌র শপথ! আমি অবশ্যই তাদের মত ধৈর্যধারণ করবো এবং নিঃসন্দেহে এ ব্যাপারে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো। আর আল্লাহ্ সাহায্য ছাড়া কোন শক্তিই কার্যকর নয়।
أبواب الكتاب
بَابٌ: ذِكْرُ زُهْدِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَإِيثَارِهِ الْأَمْوَالَ عَلَى نَفْسِهِ، وَتَفْرِيقِهَا عَلَى الْمُخْفِينِ مِنْ أَصْحَابِهِ إِذِ الْكَرَمُ طَبْعُهُ، وَالْبُلْغَةُ مِنْ شَأْنِهِ، وَالْقَنَاعَةُ سَجِيَّتُهُ، وَاخْتِيَارِهِ الْبَاقِي عَلَى الْفَانِي، وَأَنَّهُ مِنْ عَادَتِهِ أَلَا يَرُدَّ سَائِلًا، وَلَا يَمْنَعَ طَالِبًا، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ.
852 - قَالَ أَبُو مُحَمَّدِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي حَاتِمٍ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَجَّاجِ، نَا السَّرِيُّ بْنُ حَبَّانَ، نَا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ، نَا مُجَالِدُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ: قَالَتْ لِي عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَا عَائِشَةُ، إِنَّ الدُّنْيَا لَا تَنْبَغِي لِمُحَمَّدٍ، وَلَا لِآلِ مُحَمَّدٍ، يَا عَائِشَةُ إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى لَمْ يَرْضَ مِنْ أُولِي الْعَزْمِ إِلَّا الصَّبْرَ عَلَى مَكْرُوهِهَا، وَالصَّبْرَ عَنْ مَحْبُوبِهَا، وَلَمْ يَرْضَ إِلَّا أَنْ كَلَّفَنِيَ مَا كَلَّفَهُمْ، وَقَالَ عَزَّ وَجَلَّ: {فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُولُو الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ} وَإِنِّي وَاللَّهِ مَا بُدَّ لِي مِنْ طَاعَتِهِ، وَإِنِّي وَاللَّهِ مَا بُدَّ لِي مِنْ طَاعَتِهِ، وَإِنِّي وَاللَّهِ لَأَصْبِرَنَّ كَمَا صَبَرُوا، وَأَجْهَدَنَّ، وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

اولو العزم শব্দের অর্থ, উচ্চ সাহসিকতাসম্পন্ন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ব্যক্তি। কোন মহান উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে জীবনপণ সাধনা ও চেষ্টার মাধ্যমে তা হাসিল করার দৃঢ়- প্রতিজ্ঞ ব্যক্তিগণ এ বিশেষণে ভূষিত হন। নবী-রাসূলগণ এ গুণের অধিকারী ছিলেন। তাঁদের নিবেদিত কাজে দুনিয়ার কোন প্রতিবন্ধকই তাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছার মাঝে বিপত্তি সৃষ্টি করতে পারেনি। আর পার্থিব কোন জৌলুসই তাদের দৃষ্টিকে বিপথগামীও করতে সক্ষম হয়নি। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জন ও পরকালীন সফলতা। সুতরাং তাঁরা জাগতিক সমুদয় প্রতারণাকে রাস্তার কাঁটা মনে করেছেন এবং ঘৃণাভরে তা দলিত-মথিত করে সামনে অগ্রসর হয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমাকেও তাঁদের ন্যায় ধৈর্য সহিষ্ণুতার চরম পরাকাষ্ঠা দেখাতে হবে এবং তাঁদের পদাংক অনুসরণ করতে হবে। তাঁরা যেমন সাহসিকতার সাথে কঠোর সাধনার মাধ্যমে দীনের পথকে করেছেন সুগম এবং দুনিয়ার কষ্টকে হাসিমুখে করেছেন বরণ, আমাকেও তাই করতে হবে। আল্লাহ্ মুসলিমদেরও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হবার তাওফীক দিন।