আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ৮২০
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ)-এর পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত এবং তা খত্‌ম করার সময়সীমা সম্পর্কে বর্ণনা
৮২০। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) অন্তত তিন দিনের কমে পবিত্র কুরআন খতম করতেন না।
أبواب الكتاب
ذِكْرُ قِرَاءَتِهِ الْقُرْآنَ وَمُدِّةِ خَتْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
820 - حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ الْحَسَنِ الْحَلَبِيُّ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ الْمِصِّيصِيُّ، نَا يُوسُفُ بْنُ الْغَرِقِ، عَنِ الطِّيبِ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: أَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ لَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ فِي أَقَلِّ مِنْ ثَلَاثٍ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উপরোক্ত হাদীসের আলোকে পবিত্র কুরআনে কারীমের তিলাওয়াত সম্পর্কীয় একটি আদব ও নীতি জানা যায়। পবিত্র কুরআন পাঠ করার মূল উদ্দেশ্য হলো তার অর্থ ও মর্ম অনুধাবন এবং আদেশ ও নিষেধসমূহ উপলব্ধি করে পাঠ করা। একজন আরবী ভাষা-ভাষী মানুষ যিনি কুরআন বুঝেন তার জন্য এ কুরআন পাঠ করে সমাপ্ত করতে অন্তত পক্ষে তিনদিন সময়ের দরকার। এতটুকু সময় হলে তার পক্ষে অর্থ বোঝাসহ তিলাওয়াত সম্পন্ন করা সহজ হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ন নিজেও এর প্রতি গুরুত্ব দিয়ে তিন দিনের কম সময়ে খতম করতেন না । সে মতে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও এ বিষয়গুলির প্রতি লক্ষ্য রাখতেন এবং তিন দিনের কম সময়ে পবিত্র কুরআন খতম করতেন না। পবিত্র কুরআন তিন দিনের কম সময়ের মধ্যেও অবশ্য তিলাওয়াত করে শেষ করা সম্ভব। হাফিযগণ তো কয়েক ঘন্টার মধ্যেই পাঠ করে শেষ করে ফেলেন। তিলাওয়াতের সাওয়াবও তাতে কম হয় না। তবে এতে খতমের আদব রক্ষিত হয় না। কেননা কুরআন খমের আদব হলো তার তিলাওয়াত, তাজবীদ ও কিরাআতের নির্ধারিত নিয়মানুসারে অর্থ ও উদ্দেশ্য বুঝে গভীর চিন্তা ও মনোযোগসহ তিলাওয়াত করা। অনুরূপভাবে এ কথার উদ্দেশ্য এমনটিও নয় যে, কুরআনের অর্থ বোঝা ব্যতিরেকে (নাউযুবিল্লাহ্) কুরআনের তিলাওয়াত নিরর্থক। বুঝে তিলাওয়াত করুন কিংবা না বুঝে, তাতে সাওয়াবের কোন কমতি হবে না। প্রতি শব্দের তিলাওয়াত অনুসারে ব্যক্তিকে দশ দশ নেকী প্রদান করা হবে। এর কারণ হলো, এটি আল্লাহ্‌র কালাম, কোন মানুষের কালাম নয়। আল্লাহ্‌র কালাম বলেই তার এ ব্যতিক্রমধর্মী নীতি। বলা হয়েছে যে, যেই ঘরে পবিত্র কুরআনের তিলাওয়াত চলে সে ঘরের উপর আল্লাহ্‌র রহমত বর্ষিত হয়। অদৃশ্য থেকে ফেরেশতাগণ পাক কালামের তিলাওয়াত শ্রবণের জন্য জড়ো হয়ে যান। কোন ব্যক্তি আল্লাহকে ভালবাসার দাবিই হলো তার হৃদয়ে আল্লাহ্‌র কালামের মুহব্বত বিদ্যমান থাকা। আল্লাহ্ পাক নিজেও যে সকল মানুষ তাঁর কালামের তিলাওয়াত করেন তাঁদেরকে বিশেষ ধরনের ইযযত ও সম্মান করে থাকেন। এক হাদীসে হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন মাসউদ (রা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইরশাদ উদ্ধৃত করে বলেন, যে ব্যক্তি পবিত্র কুরআন থেকে একটি অক্ষর তিলাওয়াত করে তাকে এক অক্ষরের বিনিময়ে একটি নেকী দান করা হয়। আল্লাহ্ পাকের নিয়মানুসারে এক নেকী সমান দশটি সাওয়াব। অর্থাৎ এক অক্ষরের বিনিময়ে ব্যক্তিকে দশটি সাওয়াব দান করা হয়। হাদীসটিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার বক্তব্যের অর্থ এ নয় যে, الم -একটি হরফ। বরং আমার উদ্দেশ্য 'আলিফ' একটি হরফ, 'লাম' একটি হরফ আর ‘মীম' একটি হরফ। অর্থাৎ এই الم একটি শব্দ, এখানে তিনটি অক্ষর আছে। অতএব এ শব্দটি তিলাওয়াত দ্বারা ত্রিশটি সাওয়াব অর্জিত হবে। (তিরমিযী) কুরআন পাকের ফযীলত সম্পর্কীয় ব্যাপারে শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা মুহাম্মদ যাকারিয়া (রা) রচিত ‘ফাযায়েলে কুরআন' গ্রন্থটি অধ্যয়নযোগ্য। এখানে আমাদের উদ্দেশ্য কেবল এতটুকু যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তিলাওয়াত করার মধ্যে কি নিয়ম ছিল তা সুস্পষ্ট করে দেওয়া। আর তা হলো যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন দিনের কমে পবিত্র কুরআন খতম করতেন না ।