আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ২১৮
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর পথচলা এবং চলাপথে এদিক সেদিক দৃষ্টিপাত করার নীতি
২১৮। হযরত হাসান ইব্ন আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত হিন্দ ইব্ন আবু হালা (রাযিঃ)-এর কাছে নবী (ﷺ) - এর পথচলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম । তখন তিনি বললেন, নবী (ﷺ) সামান্য ঝুঁকে পথ চলতেন। গাম্ভীর্য ও ঔদার্য রক্ষাপূর্বক তিনি পা তুলতেন। তাঁর পথ চলায় ঈষৎ দ্রুততা ছিলো। চলার সময় মনে হতো তিনি যেন ঢালু ভূমি দিয়ে অবতরণ করছেন। কিংবা বর্ণনাকারী বলেছেন, তিনি যেন কোনো ঢালু ভূমিতে হ্যাঁটছেন। এভাবে তিনি যখন কারোর দিকে দৃষ্টিপাত করতেন তখন সম্পূর্ণভাবে তার দিকে ফিরে তিনি দৃষ্টিপাত করতেন। (পথ চলার সময়) তাঁর চোখের দৃষ্টি যমীনের দিকে অবনমিত থাকতো। এ জন্য আসমানের দিকে তাকানো অপেক্ষা যমীনের দিকে তাঁর দৃষ্টি অধিক থাকতো। অধিকাংশ সময় তিনি চোখের পার্শ্বদেশ দিয়ে তাকাতেন। (লজ্জাশীলতার কারণে) পূর্ণচোখে তাকানো পছন্দ করতেন না। পথচলার সময় সাহাবীদেরকে এভাবে আগে আগে হ্যাঁটতে দিতেন যেন নিজে পেছন থেকে তাদের পরিচালনা করছেন। পথিমধ্যে কারো সঙ্গে দেখা হলে সর্বাগ্রে তিনিই সালাম দিতেন।
أبواب الكتاب
صِفَةُ مَشْيِهِ وَالْتِفَاتِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
218 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ، نَا عُبَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْهَبَّارِيُّ. وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ جَمِيلٍ، نَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا جُمَيْعُ بْنُ عُمَيْرٍ الْعِجْلِيُّ، حَدَّثَنِي رَجُلٌ، مِنْ وُلْدِ أَبِي هَالَةَ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ: سَأَلْتُ هِنْدَ بْنَ أَبِي هَالَةَ عَنْ مَشْي النَّبِيِّ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: كَانَ يُمْشَى تَكَفِّيًا، وَيَخْطُو هَوْنًا ذَرِيعَ الْمِشْيَةِ، إِذَا مَشَى كَأَنَّمَا يَتَصَبَّبُ، أَوْ يَمْشِي فِي صَبَبٍ، إِذَا الْتَفَتَ الْتَفَتَ جَمِيعًا، خَافِضَ الطَّرْفِ، نَظَرُهُ إِلَى الْأَرْضِ أَكْثَرُ مِنْ نَظَرِهِ إِلَى السَّمَاءِ، جُلُّ نَظَرِهِ الْمُلَاحَظَةُ، يَسُوقُ أَصْحَابَهُ، وَيَبْدُرُ مَنْ لَقِيَهُ بِالسَّلَامِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উপরোক্ত হাদীসেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথচলার নীতি আলোচনা করা হয়েছে। পূর্বে উল্লেখিত হাদীসের তুলনায় আলোচ্য হাদীসে কতিপয় অতিরিক্ত গুণের উল্লেখ পাওয়া যায়। যেমনঃ
১. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামর অধিকাংশ সময় চোখের দৃষ্টি অবনমিত করে রাখতেন। এদিক সেদিক তাকাতেন না। সাধারণত মাটির দিকেই পতিত থাকতো তাঁর দৃষ্টি। কখনো কখনো আকাশের দিকে দৃষ্টি তুলে তাকাতেন কিন্তু তা ছিলো ওহী লাভের অপেক্ষায় ।
২. তিনি যখন কারোর দিকে তাকাতেন তখন অতিশয় লজ্জাশীলতার কারণে কখনো পূর্ণচোখে তাকাতেন না। বরং একপার্শ্ব দিয়ে তাকাতেন।
৩. তিনি যেহেতু কিছুটা দ্রুত চলতেন তাই সাহাবীদেরকে নিজের সামনে হাঁটতে দিতেন। ফলে তারাও যেন সমান্তরালে দ্রুত চলেন এবং তাদের কেউ যেন পিছিয়ে না পড়েন। সাথে সাথে এ ভাবে পেছনে চলার মধ্যে নিজের নম্রতা ও বিনয়ের প্রকাশও উদ্দেশ্য ছিল। দাম্ভিক ও অহংকারীদের ন্যায় সকলের আগে আগে চলাকে তিনি পছন্দ করতেন না। অপর হাদীসে বলা হয়েছে যে, সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আগে আগে চলার মধ্যে আরো একটি গূঢ় রহস্য ছিল এই যে, তার পশ্চাৎ দিকটি ফেরেশতাদের হাঁটার জন্য রক্ষিত হতো। হাদীসটিতে বলা হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পশ্চাদদিকে ফেরেশ্তাগণ হাঁটেন। উভয় বর্ণনার মধ্যে কোন বৈপরীত্য নেই। একটি কাজের পেছনে একাধিক রহস্য বিদ্যমান থাকা বিচিত্র নয়। বিশেষত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ এর কাজকর্মসমূহ অগণিত হিকমত ও রহস্যপূর্ণ ছিল। আর তিনি শ্রেষ্ঠ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিসাবে এমনটাই হওয়া বাঞ্ছনীয়।
৪. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিয়ম ছিলো তিনি যখনই কারোর সাক্ষাতে যেতেন তখন সালাম দানে নিজেই অগ্রবর্তী থাকতেন। মহান আল্লাহ্ এ মহান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর বংশধরের প্রতি অগণিত ও অসংখ্য দরূদ ও সালাম নাযিল করুন। আমীন!
১. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামর অধিকাংশ সময় চোখের দৃষ্টি অবনমিত করে রাখতেন। এদিক সেদিক তাকাতেন না। সাধারণত মাটির দিকেই পতিত থাকতো তাঁর দৃষ্টি। কখনো কখনো আকাশের দিকে দৃষ্টি তুলে তাকাতেন কিন্তু তা ছিলো ওহী লাভের অপেক্ষায় ।
২. তিনি যখন কারোর দিকে তাকাতেন তখন অতিশয় লজ্জাশীলতার কারণে কখনো পূর্ণচোখে তাকাতেন না। বরং একপার্শ্ব দিয়ে তাকাতেন।
৩. তিনি যেহেতু কিছুটা দ্রুত চলতেন তাই সাহাবীদেরকে নিজের সামনে হাঁটতে দিতেন। ফলে তারাও যেন সমান্তরালে দ্রুত চলেন এবং তাদের কেউ যেন পিছিয়ে না পড়েন। সাথে সাথে এ ভাবে পেছনে চলার মধ্যে নিজের নম্রতা ও বিনয়ের প্রকাশও উদ্দেশ্য ছিল। দাম্ভিক ও অহংকারীদের ন্যায় সকলের আগে আগে চলাকে তিনি পছন্দ করতেন না। অপর হাদীসে বলা হয়েছে যে, সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আগে আগে চলার মধ্যে আরো একটি গূঢ় রহস্য ছিল এই যে, তার পশ্চাৎ দিকটি ফেরেশতাদের হাঁটার জন্য রক্ষিত হতো। হাদীসটিতে বলা হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পশ্চাদদিকে ফেরেশ্তাগণ হাঁটেন। উভয় বর্ণনার মধ্যে কোন বৈপরীত্য নেই। একটি কাজের পেছনে একাধিক রহস্য বিদ্যমান থাকা বিচিত্র নয়। বিশেষত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ এর কাজকর্মসমূহ অগণিত হিকমত ও রহস্যপূর্ণ ছিল। আর তিনি শ্রেষ্ঠ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিসাবে এমনটাই হওয়া বাঞ্ছনীয়।
৪. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিয়ম ছিলো তিনি যখনই কারোর সাক্ষাতে যেতেন তখন সালাম দানে নিজেই অগ্রবর্তী থাকতেন। মহান আল্লাহ্ এ মহান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর বংশধরের প্রতি অগণিত ও অসংখ্য দরূদ ও সালাম নাযিল করুন। আমীন!
বর্ণনাকারী: