ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার
৬. হজ্ব - উমরার অধ্যায়
হাদীস নং: ১৪৩০
হজ্ব - উমরার অধ্যায়
আরাফাতে অবস্থানই হজ্জ
(১৪৩০) আব্দুর রহমান ইবন ইয়া'মার রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, হজ্জ হল আরাফায় অবস্থান করা। যে ব্যক্তি মুযদালিফার রাতে (জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখের দিবাগত রাতে বা আরাফার দিনের পরবর্তী রাতে) ফজরের পূর্বে আসতে পারল সে হজ্জ পেয়ে গেল।
كتاب الحج
عن عبد الرحمن بن يعمر رضي الله عنه مرفوعا: الحج عرفة من جاء ليلة جمع قبل طلوع الفجر فقد أدرك الحج
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
(আহমাদ ও চার সুনানগ্রন্থ । তিরমিযি বলেন, (তাবি’-তাবিয়ি ফকীহ) ওয়াকী' ইবনুল জাররাহ (১৯৬ হি.) বলেন, এই হাদীসটি হজ্জের কর্মকাণ্ড বিষয়ক মূল হাদীস)। [মুসনাদ আহমাদ, হাদীস-১৮৭৭৪; সুনান আবু দাউদ, হাদীস-১৯৪৯; সুনান তিরমিযি, হাদীস-৮৮৯; সুনান নাসায়ি, হাদীস-৩০১৬; সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস-৩০১৫]
[গ্রন্থকার টীকায় বলেন, হাদীসটি ইমাম আহমাদ ও চার সুনানের সঙ্কলক শব্দের ভিন্নতাসহ উদ্ধৃত করেছেন। এখানে উদ্ধৃত শব্দ তিরমিযির। এবং ইমাম যাহাবি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। -সম্পাদক]
[গ্রন্থকার টীকায় বলেন, হাদীসটি ইমাম আহমাদ ও চার সুনানের সঙ্কলক শব্দের ভিন্নতাসহ উদ্ধৃত করেছেন। এখানে উদ্ধৃত শব্দ তিরমিযির। এবং ইমাম যাহাবি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। -সম্পাদক]
হাদীসের ব্যাখ্যা:
যেহেতু ওকূফে আরাফার উপর হজ্ব নির্ভর করে, তাই এর মধ্যে এতটুকু সুযোগ রাখা হয়েছে যে, কেউ যদি ৯ই যিলহজ্ব দিনের বেলা আরাফায় পৌঁছতে না পারে, (যা হচ্ছে ওকূফের আসল সময়,) সে যদি পরবর্তী রাতের কোন অংশেও সেখানে পৌঁছে যায়, তাহলে তার ওকূফ আদায় হয়ে যাবে এবং সে হজ্ব থেকে বঞ্চিত গণ্য হবে না।
আরাফার দিনের পরের দিনটি অর্থাৎ, ১০ই যিলহজ্ব হচ্ছে কুরবানীর দিন। এ দিন একটি জামরায় রমী, কুরবানী ও মাথা মুড়ানোর পর ইহরামের বাধ্যবাধকতা শেষ হয়ে যায় এবং এ দিনেই মক্কায় গিয়ে তাওয়াফে যিয়ারত করতে হয়। তারপর মিনায় বেশীর চেয়ে বেশী তিন দিন আর কমপক্ষে দু'দিন অবস্থান করে তিনটি জামরাতেই পাথর নিক্ষেপ করা হজ্বের আহকামের অন্তর্ভুক্ত। তাই কোন ব্যক্তি যদি ১১ ও ১২ই যিলহজ্ব জামরায় পাথর নিক্ষেপ করে মিনা থেকে চলে যায়, তাহলে তার উপর কোন গুনাহ্ বর্তাবে না। আর কেউ যদি ১৩ তারিখও অবস্থান করে এবং পাথর নিক্ষেপ করে নেয়, তাহলে এটাও জায়েয।
আরাফার দিনের পরের দিনটি অর্থাৎ, ১০ই যিলহজ্ব হচ্ছে কুরবানীর দিন। এ দিন একটি জামরায় রমী, কুরবানী ও মাথা মুড়ানোর পর ইহরামের বাধ্যবাধকতা শেষ হয়ে যায় এবং এ দিনেই মক্কায় গিয়ে তাওয়াফে যিয়ারত করতে হয়। তারপর মিনায় বেশীর চেয়ে বেশী তিন দিন আর কমপক্ষে দু'দিন অবস্থান করে তিনটি জামরাতেই পাথর নিক্ষেপ করা হজ্বের আহকামের অন্তর্ভুক্ত। তাই কোন ব্যক্তি যদি ১১ ও ১২ই যিলহজ্ব জামরায় পাথর নিক্ষেপ করে মিনা থেকে চলে যায়, তাহলে তার উপর কোন গুনাহ্ বর্তাবে না। আর কেউ যদি ১৩ তারিখও অবস্থান করে এবং পাথর নিক্ষেপ করে নেয়, তাহলে এটাও জায়েয।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)