ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার

৬. হজ্ব - উমরার অধ্যায়

হাদীস নং: ১৩৯২
হজ্ব - উমরার অধ্যায়
মুহরিম ব্যক্তি কী পরিধান করবেন এবং কী পরিধান করবেন
(১৩৯২) আব্দুল্লাহ ইবন উমার রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে প্রশ্ন করা হল, ইহরামকারী বা ইহরামরত ব্যক্তি কী কী পোশাক পরিধান করবে? তিনি তখন বলেন, সে জামা, পাগড়ি, পাজামা ও টুপি পরিধান করবে না। আর যে পোশাককে যা'ফরান বা ‘ওয়ারস'** স্পর্শ করেছে সে পোশাকও পরিধান করবে না । যদি সে স্যান্ডেল বা চপ্পল না পায় তাহলে চামড়ার মোজা পরিধান করবে এবং তাকে এমনভাবে কেটে নেবে যেন তা পায়ের গুল্ফ (ankle) বা গোড়ালির উপরের গিরার নীচে থাকে।
كتاب الحج
عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم ما يلبس المحرم من الثياب؟ فقال لا يلبس القميص ولا العمائم ولا السراويلات ولا البرنس ولا ثوبا مسه زعفران ولا ورس وإن لم يجد نعلين فليلبس الخفين وليقطعهما حتى يكونا أسفل من الكعبين... ولا تنتقب المرأة المحرمة ولا تلبس القفازين

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

(বুখারি ও মুসলিম । বুখারির এক বর্ণনায় এই হাদীসের শেষে নবী (ﷺ) আরো বলেন, ইহরামরত মহিলা মুখের নেকাব পরিধান করবে না এবং হাতমোজাদ্বয় পরিধান করবে না)। [সহীহ বুখারি, হাদীস-১৫৪৩, ১৮৩৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস-১১৭৭; সুনান নাসায়ি, হাদীস-২৬৬৭; সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস-২৯২৯]

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ হাদীসে জামা, শেলওয়ার, পাগড়ী ইত্যাদি কেবল কয়েকটি কাপড়ের নাম নিয়েছেন, যেগুলোর সে সময় প্রচলন ছিল। এ বিধানই প্রযোজ্য হবে ঐসব কাপড়ের বেলায়, যেগুলো বিভিন্ন যুগে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মাঝে ও বিভিন্ন দেশে এসব উদ্দেশ্যের জন্য ব্যবহার করা হয় অথবা ভবিষ্যতে ব্যবহার করা হবে- যেসব উদ্দেশ্যের জন্য জামা, শেলওয়ার ও পাগড়ী ইত্যাদি ব্যবহার করা হত।
জাফরান তো একটি প্রসিদ্ধ জিনিস, ওয়ারসও এক ধরনের সুগন্ধিযুক্ত কমলা রঙের পাতা। এ দু'টি জিনিসই যেহেতু সুগন্ধি হিসাবে ব্যবহৃত হত, এজন্য ইহরাম অবস্থায় এমন কাপড় পরিধান করতেও নিষেধ করা হয়েছে, যাতে জাফরান অথবা ওয়ারসের স্পর্শ লেগেছে।

প্রশ্নকারী ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেছিল, "মুহরিম ব্যক্তি কেমন কাপড় পরিধান করবে?" হুযূর (ﷺ) উত্তরে বললেন: "অমুক অমুক কাপড় পরতে পারবে না।" এ উত্তরে তিনি যেন একথাও শিখিয়ে দিলেন যে, জিজ্ঞাসা করার বিষয় এটা নয় যে, মুহরিম ব্যক্তি কি ধরনের কাপড় পরবে; বরং এটা জিজ্ঞাসা করা উচিত ছিল যে, তার জন্য কোন ধরনের কাপড় পরা নিষেধ। কেননা, ইহরামের প্রভাব এটাই পড়ে থাকে যে, কোন কোন কাপড় ও কোন কোন জিনিস যেগুলোর ব্যবহার সাধারণ অবস্থায় জায়েয থাকে- ইহরামের কারণে এগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এ জন্য এটা জিজ্ঞাসা করা চাই যে, ইহরাম অবস্থায় কোন্ কোন্ কাপড় ও কোন কোন্ জিনিসের ব্যবহার নিষিদ্ধ ও নাজায়েয হয়ে যায়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)