ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার

৫. রোযার অধ্যায়

হাদীস নং: ১৩৪২
রোযার অধ্যায়
স্বামীর উপস্থিতিতে স্ত্রীর নফল সিয়াম পালন
(১৩৪২) আবু হুরাইরা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কোনো মহিলার জন্য তার স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া (নফল) সিয়াম পালন বৈধ নয়।
كتاب الصيام
عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعا:لا يحل للمرأة أن تصوم وزوجها شاهد إلا بإذنه... غير رمضان

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

(বুখারি ও মুসলিম। আবু দাউদের বর্ণনায়: 'রামাদানের সিয়াম ছাড়া')। [সহীহ বুখারি, হাদীস-৫১৯৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস-১০২৬; সুনান আবু দাউদ, হাদীস-২৪৫৮; সুনান তিরমিযি, হাদীস-৭৮২; সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস-১৭৬১]

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীছে স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর জন্য নফল রোযা রাখা অবৈধ করা হয়েছে। স্বামীর অনুমতি ছাড়া নফল রোযা রাখতে নিষেধ করা হয়েছে এ কারণে যে, তাতে করে স্বামীর হক আদায় বিঘ্নিত হতে পারে।
যে-কোনও ইবাদত নফল শুরু করলে তা পূরণ করা ওয়াজিব হয়ে যায়। কাজেই স্ত্রী যদি নফল রোযা রাখে, তার তা অবশ্যই পূরণ করতে হবে। এখন স্বামীর যদি এমন কোনও প্রয়োজন দেখা দেয়, যা মেটাতে গেলে তার রোযা ভাঙতে হবে, তবে পরে তা কাযা করা জরুরি হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে এক তো ইবাদত শুরুর পর তা ভাঙতে হচ্ছে, যা পসন্দনীয় নয়। আবার পরে কাযা করাটাও সম্ভব নাও হতে পারে। যদি আগেই মৃত্যু হয়ে যায়, তবে একটা ওয়াজিব আমলের দায় নিয়েই মৃত্যু হল। আর যদি স্থায়ীভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে, যদ্দরুন রোযা রাখা সম্ভব না হয়, তবে ফিদয়া দিতে হবে। মোটকথা কোনও-না কোনও বিপত্তি থেকেই যায়। এর থেকে বাঁচার উপায় হল স্বামী উপস্থিত থাকাকালে তার অনুমতি ছাড়া রোযা রাখা হতে বিরত থাকা।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

এ হাদীছটির শিক্ষা সুস্পষ্ট। স্বামীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অনুমতি ছাড়া স্ত্রী নফল রোযা রাখবে না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)