ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার
৪. যাকাতের অধ্যায়
হাদীস নং: ১২১৫
যাকাতের অধ্যায়
মেয়েদের ব্যবহৃত অলঙ্কারের যাকাত
(১২১৫) আমর ইবন শুআইব তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বলেন, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আগমন করে। তার সাথে তার একটি মেয়ে ছিল । তার মেয়ের হাতে সোনার দুইটি মোটা চুড়ি ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তুমি কি এর যাকাত প্রদান কর? সে বলে, না। তিনি বলেন, তুমি কি পছন্দ কর যে, তোমাকে আল্লাহ কিয়ামতের দিন এই দুইটির পরিবর্তে আগুনের দুইটি চুড়ি পরাবেন? তখন সে চুড়ি দুইটি খুলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে প্রদান করে এবং বলে, এগুলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) এর জন্য ।
كتاب الزكاة
عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده أن امرأة أتت رسول الله صلى الله عليه وسلم ومعها ابنة لها وفي يد ابنتها مسكتان غليظتان من ذهب فقال لها أتعطين زكاة هذا؟ قالت لا قال أيسرك أن يسورك الله بهما يوم القيامة سوارين من نار؟ قال فخلعتهما فألقتهما إلى النبي صلى الله عليه وسلم وقالت هما لله عز وجل ولرسوله
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
(আবু দাউদ ও নাসায়ি। ইবনুল কাত্তান হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন । মুনযিরি বলেন, হাদীস প্রমাণ হিসাবে নির্ভরযোগ্য। হাকিম এই অর্থে একটি হাদীস আয়িশার সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে সঙ্কলিত করেছেন এবং সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন)। [সুনান আবু দাউদ, হাদীস-১৫৬৩; সুনান নাসায়ি, হাদীস- ২৪৭৯; সুনান তিরমিযি, হাদীস-৬৩৭]
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণিত, এক মহিলা তার এক মেয়েকে নিয়ে নবী করীম (ﷺ) এর দরবারে আসল। তার মেয়েটির হাতে দু'টি মোটা ও ভারী চুড়ি ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কি এর যাকাত আদায় কর? উত্তরে সে বলল, না। তিনি তখন বললেন: তোমার কি এটা ভাল লাগবে যে, এ দু'টির (যাকাত আদায় না করার) কারণে আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তোমাকে আগুনের দু'টি চুড়ি পরিয়ে দেন? এ কথা শুনে সে চুড়ি দু'টি খুলে ফেলল এবং নবী করীম (ﷺ) এর সামনে রেখে দিয়ে বলল, এগুলো এখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য। -আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ্
২. হযরত উম্মে সালামা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সোনার আওযাহ (এক বিশেষ ধরনের বালা) পরতাম। তাই আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। এটা কি কানযের অন্তর্ভুক্ত? (যার উপর জাহান্নামের আযাবের ধমকি এসেছে।) তিনি উত্তর দিলেন: যে মাল যাকাতের নেসাব পর্যন্ত পৌঁছে যায়, আর এর যাকাত আদায় করে দেওয়া হয়, এটা কানয (অন্যায় সঞ্চয় নয়।) -মুয়াত্তা মালেক, আবু দাউদ
এসব হাদীসের ভিত্তিতেই ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) বলেন যে, সোনা-রূপার অলংকার যদি নেসাব পরিমাণ হয়, তাহলে এগুলোর যাকাত দিতে হবে। তবে ইমাম মালেক, শাফেয়ী ও আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহঃ)-এর নিকট অলংকারাদিতে যাকাত কেবল তখনই ফরয- যখন এগুলো ব্যবসার জন্য রাখা হয় অথবা মালকে সংরক্ষণ করার জন্য তৈরী করা হয়ে থাকে। কিন্তু যেসব অলংকার কেবল ব্যবহার ও সাজ-সজ্জার জন্য থাকে, এ তিন ইমামের মতে এগুলোর উপর যাকাত নেই।
এ মাসআলাটিতে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যেও মতবিরোধ ছিল। তবে হাদীস দ্বারা ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ)-এর মতের সপক্ষেই বেশী সমর্থন পাওয়া যায়। এ জন্যই শাফেয়ী মাযহাবের বিজ্ঞ আলেমগণও এ মাসআলায় হানাফী মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। যেমন, তফসীরে কবীরে ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী (রহঃ) এ নীতিই অবলম্বন করেছেন এবং লিখেছেন যে, প্রকাশ্য দলীলসমূহ এ মতকেই অধিক শক্তি যোগায়।
২. হযরত উম্মে সালামা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সোনার আওযাহ (এক বিশেষ ধরনের বালা) পরতাম। তাই আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। এটা কি কানযের অন্তর্ভুক্ত? (যার উপর জাহান্নামের আযাবের ধমকি এসেছে।) তিনি উত্তর দিলেন: যে মাল যাকাতের নেসাব পর্যন্ত পৌঁছে যায়, আর এর যাকাত আদায় করে দেওয়া হয়, এটা কানয (অন্যায় সঞ্চয় নয়।) -মুয়াত্তা মালেক, আবু দাউদ
এসব হাদীসের ভিত্তিতেই ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) বলেন যে, সোনা-রূপার অলংকার যদি নেসাব পরিমাণ হয়, তাহলে এগুলোর যাকাত দিতে হবে। তবে ইমাম মালেক, শাফেয়ী ও আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহঃ)-এর নিকট অলংকারাদিতে যাকাত কেবল তখনই ফরয- যখন এগুলো ব্যবসার জন্য রাখা হয় অথবা মালকে সংরক্ষণ করার জন্য তৈরী করা হয়ে থাকে। কিন্তু যেসব অলংকার কেবল ব্যবহার ও সাজ-সজ্জার জন্য থাকে, এ তিন ইমামের মতে এগুলোর উপর যাকাত নেই।
এ মাসআলাটিতে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যেও মতবিরোধ ছিল। তবে হাদীস দ্বারা ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ)-এর মতের সপক্ষেই বেশী সমর্থন পাওয়া যায়। এ জন্যই শাফেয়ী মাযহাবের বিজ্ঞ আলেমগণও এ মাসআলায় হানাফী মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। যেমন, তফসীরে কবীরে ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী (রহঃ) এ নীতিই অবলম্বন করেছেন এবং লিখেছেন যে, প্রকাশ্য দলীলসমূহ এ মতকেই অধিক শক্তি যোগায়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)