ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার

৩. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১০৮৮
নামাযের অধ্যায়
মৃতকে গোসল করানো ও কাফন পরানোর বিস্তারিত বিবরণ
(১০৮৮) উম্মু আতিয়্যাহ রা. বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কন্যার** মৃতদেহ গোসল করাচ্ছিলাম। সে সময়ে তিনি সেখানে আগমন করেন এবং বলেন, তোমরা তাকে তিনবার বা পাঁচবার বা তারও বেশীবার গোসল করাবে। পানি ও বদরি গাছের পাতা দিয়ে গোসল করাবে । শেষবারে কর্পূর ব্যবহার করবে। যখন তোমরা গোসল দান শেষ করবে তখন আমাকে জানাবে। উম্মু আতিয়্যাহ বলেন, আমরা যখন শেষ করলাম তখন তাঁকে জানালাম। তিনি তখন তাঁর নিজের সেলাইবিহীন খোলা লুঙ্গিটি আমাদের নিকট ফেলে দিলেন এবং বললেন, তোমরা তাকে প্রথমে এই কাপড়টির মধ্যে জড়াবে।
كتاب الصلاة
عن أم عطية رضي الله عنها قالت: دخل علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن نغسل ابنته فقال: إغسلنها ثلاثا أو خمسا أو أكثر من ذلك بماء وسدر واجعلن في الآخرة كافورا فإذا فرغتن فاذني فلما فرغنا آذناه فألقى إلينا حقوه فقال أشعرنها إياه

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

(বুখারি ও মুসলিম। বুখারির অন্য শব্দে: ‘গোসল করানোর সময় প্রথমে তার ডানদিক থেকে শুরু করবে এবং তার ওযুর অঙ্গগুলো দিয়ে শুরু করবে')। [সহীহ বুখারি, হাদীস-১২৫৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস-৯৩৯; সুনান আবু দাউদ, হাদীস-৩১৪২; সুনান তিরমিযি, হাদীস-৯৯০; সুনান নাসায়ি, হাদীস-১৮৮৬; সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস-১৪৫৮]

জুযকি এই হাদীসটি অন্য একটি সহীহ সনদে সঙ্কলিত করেছেন। তার বর্ণনায় উম্মু আতিয়্যাহ বলেন, আমরা তাকে ৫ টি কাপড় দিয়ে কাফনাবৃত করি এবং জীবিত মহিলা যেমন ওড়না পরেন তেমনভাবে তাকে ওড়নায় আবৃত করি ।

সম্ভবত উম্মু কুলসুম রা. ৯ হিজরিতে ৩০/৩২ বছর বয়সে ইস্তিকাল করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রথম মেয়ে যাইনাব ৮ হিজরিতে ইন্তিকাল করেন। অন্য মেয়ে রুকাইয়া ২ হিজরিতে ইন্তিকাল করেন। রাদিয়াল্লাহু আনহুন্না। (অনুবাদক)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

সহীহ্ মুসলিমে বর্ণিত অনরূপ এক রিওয়ায়াত থেকে জানা যায় যে, আলোচ্য হাদীসে নবী কারীম ﷺ-এর যে কন্যাকে গোসলের বিষয় বর্ণিত হয়েছে। তিনি হলেন তাঁর জ্যেষ্ঠা কন্যা হযরত যায়নাব (রা), আবুল আ'সের সাথে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। তিনি অষ্টম হিজরীর প্রথম দিকে ইন্তিকাল করেন। যে সকল মহিলা সাহাবী তাঁর গোসলে অংশগ্রহণ করছিলেন। তাঁদের মধ্যে আলোচ্য হাদীসের রাবী উম্মু আতিয়‍্যা আনসারিয়‍্যা (রা) ছিলেন অন্যতমা। এ ধরনের খিদমত আঞ্জাম দানের ক্ষেত্রে তিনি সদা প্রস্তুত থাকতেন। মৃত মহিলাদের লাশ গোসল করানোর ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য। বিশিষ্ট তাবিঈ ইবনে সীরীন (র) বলেন, আমি মৃতকে গোসল দানের পদ্ধতি তাঁর কাছেই শিখেছি।

আলোচ্য হাদীসে বরইপাতা দিয়ে পানি গরম করার বিষয় উল্লিখিত হয়েছে। কারণ এর দ্বারা সহজেই শরীরের ময়লা দূর হয়ে যায়। এই যুগে শরীর পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন করে তোলার লক্ষ্যে যেমন আমরা সাবান ব্যবহার করে থাকি, তেমনি সে যুগেও লোকেরা শরীরের ময়লা দূর করার উদ্দেশ্যে বরই পাতা দিয়ে পানি গরম করে নিত। তাই নবী কারীম ﷺ তিনবার গোসল করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং প্রয়োজনবোধে তিনবারেরও অধিক সংখ্যার ক্ষেত্রে হওয়ার দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত, কেননা বোজোড় সংখ্যা আল্লাহর কাছে পসন্দনীয়। অর্থাৎ তিন, পাঁচবার ও প্রয়োজনবোধে সাতবারও গোসল করানো যেতে পারে। শেষবারে কর্পূর মিশিয়েও গোসল দেওয়া যেতে পারে যাতে সুগন্ধি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ব্যবস্থাই মৃতের সম্মান ও মর্যাদার দিক স্পষ্ট।

রাসূলুল্লাহ ﷺ আলোচ্য হাদীসে নিজ কন্যাকে নিজের তহবন্দ দিয়ে গোসলকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, তারা যেন তা তার দেহের সাথে লাগিয়ে পরান। এ পর্যায়ে আলিমগণ বলেন, আল্লাহর কোন প্রিয় মকবুল বান্দার পোশাক যদি বরকতের উদ্দেশ্যে মৃতকে পরিয়ে দেওয়া হয় তবে তা যেমন জায়িয। তেমনি উপকৃত হওয়ারও আশা করা যেতে পারে। তবে এসবের উপর ভিত্তি করে যদি আমল বাদ দিয়ে অচেতনভাবে দিন কাটায়, তবে নিঃসন্দেহে তা হবে গুমরাহী।

আলোচ্য রিওয়ায়াত দ্বারা একথা বুঝা যাচ্ছে না যে, নবী তনয়াকে কয় কাপড়ে কাফন পরানো হয়েছে। কিন্তু হাফিয ইবনে হাজার (র) জাওযাকীর সূত্রে উম্মু আতিয়্যা (রা) থেকে এটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।

فكفناها في خمسة أثواب وخمرناها كما يخمر الحي

"আমরা নবী দূহিতাকে পাঁচটি কাপড় দ্বারা কাফন পরিয়েছি "এবং জীবিতাবস্থায় যেমন তিনি ওড়না পরতেন তেমনি তাকে ওড়না পরিয়েছি।"

এই হাদীসের উপর ভিত্তি করে মহিলাদের জন্য পাঁচটি কাপড় কাফনরূপে ব্যবহার করা সুন্নাতরূপে নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)
ফিকহুস সুনান - হাদীস নং ১০৮৮ | মুসলিম বাংলা