ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার

৩. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৭৮৬
নামাযের অধ্যায়
রসুন বা অনুরূপ কিছু খেয়ে মসজিদে গমনের বিধান
(৭৮৬) জাবির রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি এই বৃক্ষের ফল, অর্থাৎ রসুন ভক্ষণ করবে সে যেন আমাদের মসজিদের নিকট আগমন না করে ।
كتاب الصلاة
عن جابر رضي الله عنه مرفوعا: من أكل من هذه الشجرة يعني الثوم فلا يقربن مسجدنا... من هذه الشجرة المنتنة... حتى يذهب ريحها... البصل والثوم والكراث

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

মুসলিমের বর্ণনায়: ‘এই দুর্গন্ধময় বৃক্ষ থেকে যে ভক্ষণ করবে'...। মুসলিমের দ্বিতীয় বর্ণনায়: ‘যতক্ষণ না তার গন্ধ দূর হয় ততক্ষণ সে মসজিদে আগমন করবে না'। বুখারি ও মুসলিমের অন্য বর্ণনায়: 'যে ব্যক্তি রসুন বা পেয়াজ ভক্ষণ করবে…'। মুসলিমের এক বর্ণনায়: ‘যে ব্যক্তি রসুন, পেয়াজ বা সাদা পেয়াজ জাতীয় তরকারি (leek) ভক্ষণ করবে...')। [সহীহ বুখারি, হাদীস-৮৫৪, ৮৫৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস-৫৬৩]

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, পিঁয়াজ-রসুন খেয়ে মাসজিদে আসা যাবে না। অবশ্য এ নিষেধাজ্ঞা শুধু উক্ত দ্রব্যদ্বয়ের সাথে সীমাবদ্ধ নয়। বরং মুখের দুর্গন্ধে মানুষ ও ফেরেশতারা কষ্ট পায় এমন যে কোন জিনিসের ব্যাপারেই এ হুকুম প্রযোজ্য হবে। কারণ মূল উদ্দেশ্য হলো মুসলমান এবং মসজিদের ফেরেশতা কষ্ট পায় এমন কাজ থেকে বেঁচে থাকা। যেমনটি বর্ণিত হয়েছে মুসলিম শরীফ-১১৩৪ নাম্বার হাদীসে। সুতরাং বিড়ি, সিগারেট, হুক্কা, গুল বা এ জাতীয় কোন জিনিস ব্যবহার করা অথবা গুরম্নত্ব সহকারে মেসওয়াক ব্যবহার না করা মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে যা মানুষের জন্য পীড়াদায়ক হয় সবই এ হুকুমের আওতাভুক্ত। রসূলুল্লাহ স.-এর উদ্দেশ্য এটা নয় যে, কেউ এগুলো ব্যবহার করবে, আর মাসজিদ ছেড়ে দিবে। বরং উদ্দেশ্য হলো মাসজিদে নিয়মিত আসবে। আর যে সব জিনিসের দ্বারা মানুষ কষ্ট পায় তা ছেড়ে দিবে।
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)