ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার

৩. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৭৮১
নামাযের অধ্যায়
মসজিদের মধ্যে শিশু ও পাগলদের প্রবেশ করানো, বিবাদ-বিসম্বাদ করা, উচ্চস্বরে কথা বলা এবং অপরাধীদের শরীআত নির্ধারিত শান্তি কার্যকর করা মাকরূহ। মসজিদগুলোতে ওযুখানা রাখা এবং আগর-সুগন্ধি জ্বালিয়ে সুগন্ধময় করা উচিত
(৭৮১) তাবিয়ি মাকহুল (৫০-১১২ হি.) বলেন, মুআয ইবন জাবাল (মৃ: ১৮ হি.) রা. বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা তোমাদের মসজিদগুলোকে বিমুক্ত রাখবে তোমাদের শিশুদের থেকে, তোমাদের ঝগড়া বিবাদ থেকে, শরীআত নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড ও অন্যান্য শাস্তি কার্যকর করা থেকে, তোমাদের ক্রয় ও বিক্রয় থেকে। তোমরা তোমাদের মসজিদগুলোকে শুক্রবারে আগর-সুগন্ধি জ্বালিয়ে সুগন্ধময় করবে । আর মসজিদের প্রবেশ পথের নিকট ওযুখানা তৈরী করবে।
كتاب الصلاة
عن مكحول رفعه إلى معاذ بن جبل رضي الله عنه مرفوعا: جنبوا مساجدكم صبيانكم وخصوماتكم وحدودكم وشراءكم وبيعكم وجمروها يوم جمعكم واجعلوا على أبوابها مطاهركم... ومجانينكم وأصواتكم وسل سيوفكم

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

হাদীসটি তাবারানি সঙ্কলিত করেছেন। হাদীসটি মুরসাল অর্থাৎ মুনকাতি’ । কারণ তাবিয়ি মাকহুল সাহাবি মুআয ইবন জাবালের মৃত্যুর পরে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি মুআযের হাদীস অন্য কোনো এক বা একাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে শুনেছেন যাদের নাম তিনি উল্লেখ করেন নি। তবে মাকহুল পর্যন্ত হাদীসটির সনদ শক্তিশালী।

তাবারানি অনুরূপ অর্থে একটি হাদীস আবু দারদা, আবু উমামা ও ওয়াসিলা রা. থেকে সঙ্কলিত করেছেন। এই হাদীসে অতিরিক্ত বলা হয়েছে, ‘এবং তোমাদের পাগলদের থেকে, তোমাদের উচ্চস্বর থেকে এবং তোমাদের তরবারি উন্মুক্ত করা থেকে’ । তাবারানির এই হাদীসটির সনদ যয়ীফ। ইবন মাজাহ যয়ীফ সনদে ওয়াসিলা রা.র সূত্রে হাদীসটি সঙ্কলিত করেছেন। [তাবারানি, আল মু'জামুল কাবীর, হাদীস-৭৬০১ ও ২০/১৭৩, হাদীস-৩৬৯; সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস-৭৫০]

[গ্রন্থকার টীকায় বলেছেন, “আল্লামা হাইসামি মাজমাউয যাওয়ায়িদে হাদীসটি উল্লেখ করে বলেন, ‘এর সনদে মাকহুল রয়েছেন, তিনি মুআয় থেকে শ্রবণ করেন নি'। এতে বোঝা যায়, সনদের অন্য রাবীগণ নির্ভরযোগ্য”। শুআইব আরনাউত বলেন, এর সনদে ইয়াহইয়া ইবন আলা' রয়েছেন, তিনি পরিত্যক্ত, মিথ্যায় অভিযুক্ত। তিনি ইবন মাজাহর সনদকে 'অত্যন্ত দুর্বল' বলেছেন। কেননা সনদের রাবী হারিস ইবন নাবহান পরিত্যক্ত, উতবাহ ইবন ইয়াকযান দুর্বল এবং আবু সায়ীদ শামি অজ্ঞাতপরিচয় । আর তাবারানি সঙ্কলিত আবু দারদা, আবু উমামা ও ওয়াসিলার হাদীসে রয়েছেন আলা' ইবন কাসীর, তিনি পরিত্যক্ত; সুতরাং এ হাদীসের অনুবর্তনে তুষ্ট হবার কিছু নেই। দেখুন বাইহাকি, আস সুনানুল কুবরা ১০/১৭৭; শুআইব আরনাউত, তাহকীক সুনান ইবন মাজাহ ১/৪৮২; হাইসামি, মাজমাউয যাওয়ায়িদ ২/২৬; আসকালানি, আত তালখীসুল হাবীর ৪/৪৫৭; সাখাবি, আল মাকাসিদুল হাসানাহ, পৃ. ২৮৬; আলবানি, ইরওয়াউল গালীল ৭/৩৬২; আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, খুতবাতুল ইসলাম, পৃ. ১৬২; জাকারিয়া হাসনাবাদী, প্রচলিত জাল হাদীস, পৃ. ১২৯। সম্পাদক]
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান