আশ-শামাঈলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ- ইমাম তিরমিযী রহঃ
শামাইলে নববীর পরিচ্ছেদসমূহ
হাদীস নং: ১৮৭
শামাইলে নববীর পরিচ্ছেদসমূহ
আহার গ্রহণকালে রাসূলুল্লাহ্ -এর ওযূর বিবরণ
১৮৭।ইয়াহ্ইয়া ইবন মুসা ও কুতায়বা (রাহঃ)... সালমান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি তাওরাতে তিলাওয়াত করেছি যে, আহারের পরে উযূ করার মধ্যে বরকত নিহিত আছে। বিষয়টি নবী (ﷺ) -এর কাছে উল্লেখ করলাম এবং তাওরাতে যা অধ্যয়ন করেছি তা তাঁকে অবহিত করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন : খাবার গ্রহণের আগে ও পরে উযূ করার মধ্যে বরকত নিহিত
أبواب الشمائل المحمدية والخصائل المصطفوية
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ قَالَ : حَدَّثَنَا قَيْسُ بْنُ الرَّبِيعِ ، ( ح ) وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْكَرِيمِ الْجُرْجَانِيُّ ، عَنْ قَيْسِ بْنِ الرَّبِيعِ ، عَنْ أَبِي هَاشِمٍ ، عَنْ زَاذَانَ ، عَنْ سَلْمَانَ قَالَ : قَرَأْتُ فِي التَّوْرَاةِ أَنَّ بَرَكَةَ الطَّعَامِ الْوُضُوءُ بَعْدَهُ ، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، وَأَخْبَرْتُهُ بِمَا قَرَأْتُ فِي التَّوْرَاةِ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : بَرَكَةُ الطَّعَامِ الْوُضُوءُ قَبْلَهُ وَالْوُضُوءُ بَعْدَهُ.
হাদীসের ব্যাখ্যা:
কুরআন পাক থেকে জানা যায় যে, যে শিক্ষা ও উপদেশ পূর্ববর্তী নবীদের মাধ্যমে এসেছিল, আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) এর মাধ্যমে এর পূর্ণতা দান করেছেন। যেমন এরশাদ হয়েছে: اليوم أكملت لكم دينكم অর্থাৎ, আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণতা দান করলাম। এর আলোকে হাদীসের মর্ম এই হয় যে, তাওরাতে পানাহারের আদব প্রসঙ্গে কেবল খাওয়ার পর হাত ধোয়াকে বরকতের কারণ বলা হয়েছিল এবং এর প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মাধ্যমে খাওয়ার আগেও হাতমুখ ধোয়ার উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। আর তিনি বলেছেন যে, এটাও বরকতের কারণ হয়।
বরকত একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ (রহ) 'হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা' গ্রন্থে এ হাদীস এবং খাওয়ার মধ্যে বরকত সংক্রান্ত অন্যান্য কিছু হাদীসের বরাত দিয়ে যা কিছু লিখেছেন, এর সারকথা এই যে, কোন খাবার জিনিসে বরকত হওয়ার অর্থ এটাও হয় যে, খাদ্যের আসল উদ্দেশ্য যা থাকে, সেটা ভালোভাবে অর্জিত হয়, খানা স্বাদ ও তৃপ্তির সাথে খাওয়া হয়, মন পরিতৃপ্ত হয়, অন্তর খুশী হয়, স্বস্তি আসে, অল্প পরিমাণই যথেষ্ট হয়ে যায়। এর দ্বারা ভালো রক্ত, পুষ্টি ইত্যাদি সৃষ্টি হয়ে শরীর গঠন হয়, এর উপকারিতা দীর্ঘস্থায়ী হয়, এর দ্বারা নফসের অবাধ্যতা ও উদাসীনতা সৃষ্টি হয় না; বরং আল্লাহর শোকর ও আনুগত্যের তাওফীক লাভ হয়।
প্রকৃতপক্ষে এসব ঐ বাস্তবতারই লক্ষণ, যাকে হাদীসে বরকত বলা হয়েছে। 'কানযুল উম্মালে' তাবারানীর বরাতে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.-এর বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: খাওয়ার পূর্বে ও পরে হাত ধোয়া দারিদ্র বিদূরণকারী ও নবীদের তরীকা। তাছাড়া একথাও স্পষ্ট যে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধির দাবীও এটাই যে, হাত ও মুখ যেগুলো খাদ্য গ্রহণের যন্ত্র- এগুলোকে খাওয়ার পূর্বেও ধুয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া চাই এবং খাবার শেষেও পরিষ্কার করে নেওয়া চাই।
হযরত সালমান ফারসীর এ হাদীসে; বরং এ ধারার অন্যান্য হাদীসেও হাত মুখ ধোয়ার জন্য 'ওযু' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এর দ্বারা ঐ ওযু উদ্দেশ্য নয়, যা নামাযের জন্য করা হয়; বরং কেবল হাতমুখ ধোয়াই উদ্দেশ্য। অন্যকথায় এভাবেও বলা যায় যে, নামাযের ওযু তো সেটাই, যা সর্বজন বিদিত। আর খাওয়ার ওযু কেবল এই যে, হাত ও মুখ যা খাবার গ্রহণে ব্যবহৃত হয়- এগুলো ধুয়ে নেওয়া হবে এবং ভালোরূপে পরিষ্কার করে নেওয়া হবে। কোন কোন হাদীসে স্পষ্টভাবেও একথা উল্লেখিত হয়েছে।
বরকত একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ (রহ) 'হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা' গ্রন্থে এ হাদীস এবং খাওয়ার মধ্যে বরকত সংক্রান্ত অন্যান্য কিছু হাদীসের বরাত দিয়ে যা কিছু লিখেছেন, এর সারকথা এই যে, কোন খাবার জিনিসে বরকত হওয়ার অর্থ এটাও হয় যে, খাদ্যের আসল উদ্দেশ্য যা থাকে, সেটা ভালোভাবে অর্জিত হয়, খানা স্বাদ ও তৃপ্তির সাথে খাওয়া হয়, মন পরিতৃপ্ত হয়, অন্তর খুশী হয়, স্বস্তি আসে, অল্প পরিমাণই যথেষ্ট হয়ে যায়। এর দ্বারা ভালো রক্ত, পুষ্টি ইত্যাদি সৃষ্টি হয়ে শরীর গঠন হয়, এর উপকারিতা দীর্ঘস্থায়ী হয়, এর দ্বারা নফসের অবাধ্যতা ও উদাসীনতা সৃষ্টি হয় না; বরং আল্লাহর শোকর ও আনুগত্যের তাওফীক লাভ হয়।
প্রকৃতপক্ষে এসব ঐ বাস্তবতারই লক্ষণ, যাকে হাদীসে বরকত বলা হয়েছে। 'কানযুল উম্মালে' তাবারানীর বরাতে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.-এর বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: খাওয়ার পূর্বে ও পরে হাত ধোয়া দারিদ্র বিদূরণকারী ও নবীদের তরীকা। তাছাড়া একথাও স্পষ্ট যে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধির দাবীও এটাই যে, হাত ও মুখ যেগুলো খাদ্য গ্রহণের যন্ত্র- এগুলোকে খাওয়ার পূর্বেও ধুয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া চাই এবং খাবার শেষেও পরিষ্কার করে নেওয়া চাই।
হযরত সালমান ফারসীর এ হাদীসে; বরং এ ধারার অন্যান্য হাদীসেও হাত মুখ ধোয়ার জন্য 'ওযু' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এর দ্বারা ঐ ওযু উদ্দেশ্য নয়, যা নামাযের জন্য করা হয়; বরং কেবল হাতমুখ ধোয়াই উদ্দেশ্য। অন্যকথায় এভাবেও বলা যায় যে, নামাযের ওযু তো সেটাই, যা সর্বজন বিদিত। আর খাওয়ার ওযু কেবল এই যে, হাত ও মুখ যা খাবার গ্রহণে ব্যবহৃত হয়- এগুলো ধুয়ে নেওয়া হবে এবং ভালোরূপে পরিষ্কার করে নেওয়া হবে। কোন কোন হাদীসে স্পষ্টভাবেও একথা উল্লেখিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: