আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

১২- শরীআতে যিনা ব্যভিচারের দন্ড বিধি

হাদীস নং: ৭০৫
- শরীআতে যিনা ব্যভিচারের দন্ড বিধি
বল প্রয়োগে যেনা করতে বাধ্য করা হলে।
৭০৫। ইবনে শিহাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। একটি স্ত্রীলোককে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হলে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান ধর্ষণকারীকে (স্ত্রীলোকটির) মুহর প্রদান করার নির্দেশ দেন।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, যদি কোন স্ত্রীলোককে যেনা করতে বাধ্য করা হয়, তবে তার উপর হদ্দ (শাস্তি) কার্যকর হবে না। আর যে ব্যক্তি জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে তার উপর হদ্দ কার্যকর হবে। তার উপর যখনই হদ্দ কার্যকর হয় তখনি মুহর প্রদানের বাধ্যবাধকতা বাতিল হয়ে যায়। কারণ একই সংগমে হদ্দ এবং মুহর দুটোই কার্যকর হতে পারে না। কোনরূপ সন্দেহের কারণে হদ্দ মউকুফ হলে তার উপর মুহর প্রদান বাধ্যতামূলক হবে। ইমাম আবু হানীফা, ইবরাহীম নাখঈ এবং আমাদের ফিকহবিদদের এটাই সাধারণ মত।**
أبواب الحدود في الزناء
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ , حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ، أَنَّ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ مَرْوَانَ، قَضَى فِي امْرَأَةٍ أُصِيبَتْ مُسْتَكْرَهَةً بِصَدَاقِهَا عَلَى مَنْ فَعَلَ ذَلِكَ.
قَالَ مُحَمَّدٌ: إِذَا اسْتُكْرِهَتِ الْمَرْأَةُ فَلا حَدَّ عَلَيْهَا، وَعَلَى مَنِ اسْتَكْرَهَهَا الْحَدُّ، فَإِذَا وَجَبَ عَلَيْهِ الْحَدُّ بَطَلَ الصَّدَاقُ، وَلا يَجِبُ الْحَدُّ وَالصَّدَاقُ فِي جِمَاعٍ وَاحِدٍ، فَإِنْ دُرِئَ عَنْهُ الْحَدُّ بِشُبْهَةٍ وَجَبَ عَلَيْهِ الصَّدَاقُ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَإِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** জোর-জবরদস্তির কারণে কেউ যদি যেনা করতে বাধ্য হয়, তবে সে অপরাধীও সাব্যস্ত হবে না এবং শাস্তি পাওয়ার যোগ্যও হবে না। এক্ষেত্রে শুধু “কেউ জবরদস্তি কাজের জন্য দায়ী নয় শরীআতের এই সাধারণ মূলনীতিই প্রযোজ্য নয়, বরং স্বয়ং কুরআন মজীদই জোরপূর্বক ধর্ষিতা মহিলাদের ক্ষমার কথা ঘোষণা করেছে (সূরা নূর-এর ৩৩ নং আয়াত দ্রষ্টব্য)। হাদীস থেকে প্রমাণিত আছে যে, এক্ষেত্রে কেবল ধর্ষণকারীকেই শাস্তি দেয়া হয়েছে। “একটি স্ত্রীলোক অন্ধকারে নামাযে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হলো। পথিমধ্যে এক ব্যক্তি তাকে ধরে ফেলে এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। তার চিৎকারে চারদিক থেকে লোক জড়ো হলো এবং ধর্ষণকারী ধরা পড়লো। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে রজম করলেন এবং স্ত্রীলোকটিকে রেহাই দিলেন” (তিরমিযী, দারু কুতনী, ইবনে মাজা, বায়হাকী)। এসব দলীলের ভিত্তিতে ফিকহবিদগণ একমত হয়ে বলেছেন যে, এক্ষেত্রে ধর্ষিতা মহিলার কোন শাস্তি হবে না। অপরদিকে পুরুষ লোককেও যদি জোরপূর্বক যেনা করতে বাধ্য করা হয়, তবে ইমাম আবু ইউসুফ, মুহাম্মাদ, শাফিঈ ও হাসান ইবনে সালেহ-এর মতে তাকেও ক্ষমা করা হবে (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান