আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

৬- হজ্ব - উমরার অধ্যায়

হাদীস নং: ৪৭৬
- হজ্ব - উমরার অধ্যায়
পদব্রজে অথবা বাহনে চড়ে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করা।
৪৭৬। নবী ﷺ -এর স্ত্রী উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে পড়লাম এবং তা রাসূলুল্লাহ ﷺ -কে জানালাম। তিনি বলেনঃ “তুমি লোকদের পিছনে পিছনে সওয়ারীতে চড়ে তাওয়াফ করো।” রাবী বলেন, আমি এভাবেই তাওয়াফ করলাম এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ বাইতুল্লাহর কাছে দুই রাকআত নামায পড়লেন। তিনি নামাযে সূরা তূর পাঠ করলেন।**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এ হাদীস অনুযায়ী আমল করি। অসুখ অথবা অন্য কোন ওজরের কারণে সওয়ারীতে আরোহণ করে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করায় কোন দোষ নেই। এজন্য কোনরূপ কাফফারাও দিতে হবে না। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং আমাদের সকল ফিকহবিদের এই মত।
ইমাম আবু হানীফা ও মালেকের মতে পদব্রজে তাওয়াফ করা ওয়াজিব। বিনা ওজরে বাহনে আরোহণ করে তাওয়াফ করলে একটি পশু কোরবানী করতে হবে। ইমাম শাফিঈর একমত অনুযায়ী বিনা ওজরে বাহনে চড়ে তাওয়াফ করা জায়েয। তার অপর মত অনুযায়ী তা জায়েয হলেও মাকরূহ।
كتاب الحج
بَابُ: الطَّوَافِ بِالْبَيْتِ رَاكِبًا أَوْ مَاشِيًا
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَوْفَلٍ الأَسَدِيُّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهَا قَالَتْ: " اشْتَكَيْتُ، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: طُوفِي مِنْ وَرَاءِ النَّاسِ وَأَنْتِ رَاكِبَةٌ، قَالَتْ: فَطُفْتُ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي إِلَى جَانِبِ الْبَيْتِ، وَيَقْرَأُ: بِ الطُّورِ وَكِتَابٍ مَسْطُورٍ "، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، لا بَأْسَ لِلْمَرِيضِ وَذِي الْعِلَّةِ أَنْ يَطُوفَ بِالْبَيْتِ مَحْمُولا، وَلا كَفَّارَةَ عَلَيْهِ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** বুখারী, মুসলিম, আবু দাঊদ ইত্যাদি গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, নবী ﷺ বিদায় হজ্জে উটে আরোহণ করে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, “বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ ﷺ উটের পিঠে সওয়ার হয়ে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেছেন। তিনি একটি মাথা বাঁকা লাঠির ইশারায় হাজারে আসওয়াদে চুমা দিতেন” (আবু দাউদ)। সাফিয়্যা বিনতে শায়বা (রা) বলেন, “রাসূলুল্লাহ ﷺ মক্কা বিজয়ের দিন উটের পিঠে সওয়ার হয়ে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেছেন । তিনি তাঁর হাতের লাঠির সাহায্যে হাজারে আসওয়াদ স্পর্শ করতেন” (আবু দাউদ)। জাবের (রা) বলেন, “বিদায় হজ্জের দিন রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর বাহনে চড়ে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেছেন এবং এই অবস্থায় সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করেছেন, যাতে লোকেরা তাঁকে দেখতে পায়, নিয়ম-কানূন সম্পর্কে অবহিত হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় বিষয় তাঁর কাছ থেকে জেনে নিতে পারে। সেদিন লোকজন তাঁকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছিল” (আবু দাউদ)। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, অসুস্থতার কারণে রাসূলুল্লাহ ﷺ সওয়ারীতে আরোহণ করে কাবাঘর তাওয়াফ করেছেন” (আবু দাউদ) (অনুবাদক)।
নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করছিল। তিনি বলেন, হে আল্লাহর বাঁদী। তুমি নিজ বাড়িতে অবস্থান করো, লোকদের কষ্ট দিও না। উমার (রা)-র ইন্তেকালের পর সেই মহিলা আবার মক্কায় আসলে তাকে বলা হলো, যে ব্যক্তি তোমাকে বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধ করেছিল, সে ধ্বংস হয়েছে। স্ত্রীলোকটি বললো, আল্লাহর শপথ! আমি এমন নারী নই যে, (একটি সঠিক ব্যাপারে) জীবিত অবস্থায় তার আনুগত্য করবো, আর তার মৃত্যুর পর তার অবাধ্যাচরণ করবো।
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)