আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ
৬- হজ্ব - উমরার অধ্যায়
হাদীস নং: ৪১০
- হজ্ব - উমরার অধ্যায়
কোরবানীর পশু পথিমধ্যে চলতে অক্ষম হয়ে পড়লে ।
৪১০। আমর ইবনে উবায়দুল্লাহ আল-আনসারী (রাহঃ) সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহঃ)-কে বুদনা (কুরবানীর পশু) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, যা তার স্ত্রী মানত করেছিল। সাঈদ জবাব দিলেন, তা উট এবং বাইতুল্লা চত্বর হলো তার কোরবানীর স্থান। তবে মানত করার সময় সে কোন নির্দিষ্ট স্থানের নাম উল্লেখ করে থাকলে তা সেখানেই যবেহ করতে হবে। যদি উট পাওয়া না যায় তবে তার পরিবর্তে একটি গরু এবং গরুও না পাওয়া গেলে দশটি বকরী কোরবানী করতে হবে। রাবী বলেন, অতঃপর আমি এ ব্যাপারে সালেম ইবনে আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞেস করলাম । তিনিও সাঈদের অনুরূপ কথা বলেন। তবে তিনি বলেন, উটের পরিবর্তে গরুও না পাওয়া গেলে সাতটি বকরী কোরবানী করতে হবে। রাবী বলেন, অতঃপর আমি খারিজা ইবনে যায়েদ ইবনে সাবিতের কাছে গিয়ে একই বিষয় জিজ্ঞেস করলাম। তিনি সালেমের অনুরূপ জওয়াব দিলেন। রাবী বলেন, অতঃপর আমি আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলীর কাছে গেলাম, তিনিও সালেমের অনুরূপ জওয়াব দিলেন।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, উট ও গরুকে 'বুদনা' বলে। তা যে কোন স্থানে কোরবানী করা যেতে পারে। কিন্তু যদি তা হেরেম শরীফের এলাকায় যবেহ করার নিয়াত করা হয়ে থাকে, তবে তা সেখানেই যবেহ করতে হবে এবং এটা তার পক্ষ থেকে হায়ি হবে। উট ও গরু একত্রে সাতজনে কোরবানী করতে পারে, এর অধিক নয়। ইমাম আবু হানীফা এবং আমাদের অন্যান্য ফিকহবিদেরও এই মত।**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, উট ও গরুকে 'বুদনা' বলে। তা যে কোন স্থানে কোরবানী করা যেতে পারে। কিন্তু যদি তা হেরেম শরীফের এলাকায় যবেহ করার নিয়াত করা হয়ে থাকে, তবে তা সেখানেই যবেহ করতে হবে এবং এটা তার পক্ষ থেকে হায়ি হবে। উট ও গরু একত্রে সাতজনে কোরবানী করতে পারে, এর অধিক নয়। ইমাম আবু হানীফা এবং আমাদের অন্যান্য ফিকহবিদেরও এই মত।**
كتاب الحج
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، أَنَّهُ سَأَلَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ، عَنْ بَدَنَةٍ جَعَلَتْهَا امْرَأَةٌ عَلَيْهَا، قَالَ: فَقَالَ سَعِيدٌ: " الْبُدْنُ مِنَ الإِبِلِ، وَمَحِلُّ الْبُدْنِ الْبَيْتُ الْعَتِيقُ إِلا أَنْ تَكُونَ سَمَّتْ مَكَانًا مِنَ الأَرْضِ فَلْتَنْحَرْهَا حَيْثُ سَمَّتْ، فَإِنْ لَمْ تَجِدْ بَدَنَةً فَبَقَرَةٌ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ بَقَرَةً فَعَشَرٌ مِنَ الْغَنَمِ، قَالَ: ثُمَّ سَأَلْتُ سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ: مِثْلَ مَا قَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ: إِنْ لَمْ تَجِدْ بَقَرَةً، فَسَبْعٌ مِنَ الْغَنَمِ، قَالَ: ثُمَّ جِئْتُ خَارِجَةَ بْنَ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ فَسَأَلْتُهُ، فَقَالَ مِثْلَ مَا قَالَ سَالِمٌ، ثُمَّ جِئْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ، فَقَالَ مِثْلَ مَا قَالَ سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ "، قَالَ مُحَمَّدٌ: الْبُدْنُ مِنَ الإِبِلِ وَالْبَقَرِ، وَلَهَا أَنْ تَنْحَرَهَا حَيْثُ شَاءَتْ إِلا أَنْ تَنْوِيَ الْحَرَمَ، فَلا تَنْحَرْهَا إِلا فِي الْحَرَمِ وَيَكُونُ هَدْيًا، وَالْبَدَنَةُ مِنَ الإِبِلِ وَالْبَقَرِ تُجْزِئُ عَنْ سَبْعَةٍ، وَلا تُجْزِئُ عَنْ أَكْثَرِ مِنْ ذَلِكَ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
** গোটা অনুচ্ছেদে কোরবানীর পশুর পরিভাষা হিসাবে দু'টি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছেঃ হাদয়ি (الهدى) এবং বুদন (البدن)। কুরআন মজীদে 'হাদয়ি' শব্দটি সূরা বাকারার ১৯৬ নং আয়াতে তিনবার, সূরা মাইদার ২, ৯৫ ও ৯৭ নং আয়াতে একবার করে এবং সূরা ফাত্হ্-এর ১৫ নং আয়াতে একবার ব্যবহৃত হয়েছে। এসব স্থানে শব্দটির অর্থ করা হয়েছে “কোরবানীর পশু"। উল্লেখিত আয়াতগুলো পাঠে অনুধাবন করা যায় যে, হজ্জযাত্রীগণ মক্কায় কোরবানীর উদ্দেশ্যে যেসব পশু নিজেদের সাথে করে নিয়ে যান হাদয়ি (الهدى) শব্দের দ্বারা এই ধরনের পশুকে বুঝানো হয়েছে। মান্নতের কোরবানীর পশু বুঝাতেও শব্দটির ব্যবহার দেখা যায়। অপরদিকে 'বুদন' শব্দটি সাধারণ কোরবানীর পশুকে বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। কুরআন মজীদের শুধু এক জায়গায়ই (সূরা হজ্জের ৩৬ নং আয়াত) শব্দটি উল্লেখিত হয়েছে। আরবী ভাষায় কেবল উটের জন্যই এই শব্দ ব্যবহৃত হয়। কিন্তু নবী ﷺ কোরবানীর ক্ষেত্রে উটের সংগে গরুকেও এই শব্দের মধ্যে শামিল করেছেন ।
একটি উট যেমন সাতভাগে কোরবানী করা যায়, অনুরূপভাবে একটি গরুও সাতভাগে কোরবানী করা যায়। হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা) বলেনঃ
أمرنا رسول الله ﷺ ان نشترك في الأضاحي البدنة عن سبعة والبقرة عن سبعة
“রাসূলুল্লাহ কোরবানীর ব্যাপারে আমাদেরকে পরস্পরের সাথে শরীক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একটি উটে সাত ব্যক্তি এবং একটি গরুতেও সাত ব্যক্তি শরীক হতে পারে” (মুসলিম)।
ইবরাহীম নাখঈ, আবু হানীফা, মালেক, মুহাম্মাদ এবং এক বর্ণনা অনুযায়ী আবু ইউসুফের মতে সামর্থ্যবান মুসলমানদের উপর কোরবানী করা ওয়াজিব। কিন্তু শাফিঈ, আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং আবু ইউসুফের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী কোরবানী করা সুন্নাত ।
এখানে একটি কথা জেনে রাখা ভালো যে, মক্কা শরীফে কোরবানীর দিন হাজ্জীদের ঈদের নামায পড়তে হয় না। এই দিন তারা প্রথমে জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করেন, অতঃপর কোরবানী করেন, অতঃপর মাথার চুল কাটান, অতঃপর কাবা ঘর তাওয়াফ করেন এবং কোন কোন হাজ্জীকে সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করতে হয় (অনুবাদক)।
একটি উট যেমন সাতভাগে কোরবানী করা যায়, অনুরূপভাবে একটি গরুও সাতভাগে কোরবানী করা যায়। হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা) বলেনঃ
أمرنا رسول الله ﷺ ان نشترك في الأضاحي البدنة عن سبعة والبقرة عن سبعة
“রাসূলুল্লাহ কোরবানীর ব্যাপারে আমাদেরকে পরস্পরের সাথে শরীক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একটি উটে সাত ব্যক্তি এবং একটি গরুতেও সাত ব্যক্তি শরীক হতে পারে” (মুসলিম)।
ইবরাহীম নাখঈ, আবু হানীফা, মালেক, মুহাম্মাদ এবং এক বর্ণনা অনুযায়ী আবু ইউসুফের মতে সামর্থ্যবান মুসলমানদের উপর কোরবানী করা ওয়াজিব। কিন্তু শাফিঈ, আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং আবু ইউসুফের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী কোরবানী করা সুন্নাত ।
এখানে একটি কথা জেনে রাখা ভালো যে, মক্কা শরীফে কোরবানীর দিন হাজ্জীদের ঈদের নামায পড়তে হয় না। এই দিন তারা প্রথমে জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করেন, অতঃপর কোরবানী করেন, অতঃপর মাথার চুল কাটান, অতঃপর কাবা ঘর তাওয়াফ করেন এবং কোন কোন হাজ্জীকে সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করতে হয় (অনুবাদক)।