আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

২- নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৫০
- নামাযের অধ্যায়
নামাযে তাশাহহুদ পাঠ।
১৫০। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর সাথে নামায পড়তাম তখন বলতাম, 'আস-সালামু আলাল্লাহ্' (আল্লাহর উপর শান্তি বর্ষিত হোক)। একদিন রাসূলুল্লাহ ﷺ নামায শেষে আমাদের দিকে ফিরে বলেনঃ তোমরা 'আস-সালামু আলাল্লাহ্' বলো না। আল্লাহ তাআলাই হচ্ছেন শান্তিদাতা (তাঁর এক নাম সালাম)। বরং তোমরা বলোঃ

التحيات لله والصلوات والطيبات السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته السلام علينا وعلى عباد الله الصلحين اشهد، أن لا اله الا الله واشهد أن محمدا عبده ورسول

ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর শিখানো তাশাহ্হুদের মধ্যে শব্দে কম-বেশী বা বাড়ানো-কমানো অপছন্দ করতেন।**
أبواب الصلاة
قَالَ مُحَمَّدٌ , أَخْبَرَنَا مُحِلُّ بْنُ مُحرِزٍ الضَّبِّيُّ، عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ بْنِ وَائِلٍ الأَسْدِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْنَا: السَّلامُ عَلَى اللَّهِ، فَقَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلاتَهُ ذَاتَ يَوْمٍ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا، فَقَالَ: لا تَقُولُوا السَّلامُ عَلَى اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّلامُ، وَلَكِنْ قُولُوا: «التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنْ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ» .
قَالَ مُحَمَّدٌ: وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَكْرَهُ أَنْ يُزَادَ فِيهِ حَرْفٌ، أَوْ يُنْقَصُ مِنْهُ حَرْفٌ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ যেভাবে আমাদের কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন ঠিক সেভাবে আমাদের তাশাহ্হুদ শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেনঃ

التحيات المباركات الصلوات الطيبات الله السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته السلام علينا وعلى عباد الله الصلحين أشهد أن لا اله الا الله وأشهد أن
محمدا عبده ورسوله .

জাবের (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের যেভাবে সূরা শিখাতেন ঠিক সেভাবে আমাদের তাশাহ্হুদ শিখাতেন। তিনি বলতেনঃ

بسم الله وبالله التحيات لله والصلوات والطيبات السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته السلام علينا وعلى عباد الله الصلحيـن أشهد أن لا اله الا الله وأشهد أن محمدا عبده ورسوله أسأل الله الجنة وأعوذ بالله من النار النسائي).

সামান্য শাব্দিক পার্থক্য সহকারে বিভিন্ন সাহাবী থেকে এসব তাশাহ্হুদ বর্ণিত হয়েছে (যদিও এগুলোর মধ্যে অর্থগত দিক থেকে খুব একটা পার্থক্য নেই)। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শব্দে তাশাহ্হুদ পড়েছেন ও শিক্ষা দিয়েছেন। সুতরাং উল্লেখিত তাশাহ্হুদের যে কোন একটি পড়া জায়েয। ইমাম মালেক (র) আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা)-র তাশাহ্হুদ গ্রহণ করেছেন এবং ইমাম আবু হানীফা (র), ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (র) ও অধিকাংশ হাদীস বিশারদ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা)-র তাশাহ্হুদ গ্রহণ করেছেন। তার এই তাশাহ্হুদ বুখারী-মুসলিমসহ অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে উল্লেখ আছে। হাদীস বিশারদগণ এ ব্যাপারে একমত যে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বর্ণিত তাশাহ্হুদ অন্যান্য সব তাশাহহুদের তুলনায় অধিকতর সহীহ এবং বিভিন্ন রাবী কর্তৃক বর্ণিত এই তাশাহহুদের মূল পাঠে (মতন) কোন পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না। অনন্তর সনদের দিক থেকেও এই তাশাহ্হুদ অধিক শক্তিশালী এবং মারফূ ইমামদের মতভেদ শুধু তুলনামূলকভাবে কোনটি উত্তম তা নিয়ে।
ইমাম বুখারী ও অপরাপর মুহাদ্দিসগণ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা)-সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, “রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন জীবিত ছিলেন তখন আমরা তাশাহুদে “আস-সালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু পড়তাম। কিন্তু তাঁর ইন্তেকালের পর আমরা এর পরিবর্তে “আস-সালামু আলান নাবিয়্যি" পড়তে থাকলাম। বায়হাকী ও অন্যান্য গ্রন্থে এই কথা বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা)-র তাশাহ্হুদেও "আস-সালামু আলান নাবিয়্যি এসেছে। তাবিঈ আতা (র) বলেন, “রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন জীবিত ছিলেন, সাহাবীগণ তাশাহুদে “আস-সালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু" পড়তেন। কিন্তু তাঁর ইন্তেকালের পর “আস-সালামু আলান নাবিয়্যি পড়তেন" (মুসনাদে আবদুর রাযযাক)। তবে একদল সাহাবী রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর ইন্তেকালের পরও তাঁর শিখানো তাশাহ্হুদই পড়েছেন বলে বিভিন্ন হাদীসে উল্লেখ আছে (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান