শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১৯. শিকার,জবাই ও কুরবানীর বিধান
হাদীস নং: ৬২১০
শিকার,জবাই ও কুরবানীর বিধান
যে সব দোষসহ হারাম শরীফে যবেহ করার জন্য কোন পশু প্রেরণ করা জায়েয নয় এবং যে সব দোযে কোন কুরবানীর পশু কুরবানী করা জায়েয নয়
৬২১০। আব্দুল গনী ইবন রিফাআ আবু আকীল ...... মুহাম্মাদ ইবন কুরযা হযরত আবু সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, (তবে আমরা তার থেকে সরাসরি শুনিনি) একবার তিনি কুরবানী করার জন্য একটা ভেড়া ক্রয় করেন। অতঃপর চিতা বাঘ তার লেজ অথবা লেজের অংশ খেয়ে ফেললাে। এ সম্পর্কে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তুমি সেটাই কুরবানী কর।
বস্তুত আমরা যা উল্লেখ করেছি, তাতে এ হাদীসের সনদ ফাসিদ এবং এর মতনও ফাসিদ। কারণ তিনি তার বক্তব্যে বলেছেন, قطع ذنبه أو بعض ذنبه অর্থাৎ লেজ কর্তন করেছে অথবা একাংশ কর্তন করেছে। যদি তার লেজের একাংশ কর্তিত হয় তবে সেক্ষেত্রে সম্ভাবনা আছে যে, কর্তিত অংশ লেজের এক-চতুর্থাংশের চেয়ে কম হবে। আর তখন তাে কেউ-ই তার কুরবানী করতে নিষেধ করেন না। আর হাদীস যদি তেমনই হয়।যেমন ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, আর তার বর্ণিত হাদীসে রয়েছে انه قطع اليته তবে সেক্ষেত্রে তার অংশবিশেষের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ অংশবিশেষ কর্তন করা হলেও قطع اليته বলা হয়। যেমন অংশগুলাের এক অংশ কাটা হলেও বলা হয় قطع اصبحه
এ সব হাদীসকে সহীহ মানা হলে হযরত বারা ইবন আযিব (রাযিঃ)-এর হাদীসে যে চারটি দোষের কথা বলা হয়েছে তার একটি দোষ কোন পশুতে পাওয়া গেলে তা কুরবানী করা নিষিদ্ধ হবে। অনুরূপ কানের সম্মুখভাগে কিংবা পশ্চাৎভাগে কাটা হলে তার কুরবানী করা নিষিদ্ধ হবে। مقابله ও مدابرة এর অর্থ হলো যে পশুর কানের অগ্রভাগে ও পশ্চাতভাগের বেশী অংশ কর্তন করা হয়েছে। আর যখন কুরবানী পশুর মধ্যে এ ধরনের দোষ (আংশিক কর্তিত হওয়া) হলে তা কুরবানীর জন্য যথেষ্ট নয়, সেক্ষেত্রে পূর্ণ কান কাটা হলো তা যথেষ্ট না হওয়া অধিকতর শ্রেয়। নযর ও যুক্তি : অনুরূপভাবে আমাদের নযর ও যুক্তির দাবি এটাই যে, ছাগলের কোন অংশ কাটা হলে, যেমন ওলান কিংবা তার নিতম্ব (اليه) তবে সে ক্ষেত্রে তা কুরবানী করা নিষিদ্ধ হবে, যখন তা পুরাটা কর্তিত হবে । আর আংশিক কর্তিত হলে আমাদের উলামা-ই কিরাম ভিন্নভিন্ন মত পােষণ করেন। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কর্তিত অংশ এক-চতুর্থাংশ কিংবা তার চেয়ে বেশী হলে সে পশুর কুরবানী জায়েয নয় কিন্তু এক-চতুর্থাংশের কম হলে কুরবানী করা যাবে। অপরদিকে ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, কর্তিত অংশ যদি অর্ধেক কিংবা তার চেয়ে বেশী হয়, তবে ঐ পশুর কুরবানী জায়েয নয়। আর অর্ধেকের কম হলে কোন অসুবিধা নেই। অবশ্য ইমাম আবু ইউসুফ (রাহঃ) বলেন, একবার তিনি তার এই মত ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বললেন, আমার মত তােমার মতের মতই। এ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) তার পূর্বের মত হতে ইমাম আবু ইউসুফ (রাহঃ)-এর মতের প্রতি রুজু করেছেন।
হযরত সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব العضباء -এর যে ব্যাখ্যা পেশ করেছেন, অর্থাৎ যে পশুর অর্ধেক কান কাটা, তাকে العضباء বলা হয়। যার কুরবানী করা নিষিদ্ধ। এটা ইমাম আবু ইউসুফ ও অন্যান্য আইম্মা-ই কিরামের মতের সাথে সংগতিপূর্ণ। আর যে সব পশুর মধ্যে এ দোষ বিদ্যমান, তা যখন কুরবানীর পশু হতে পারে না, তা حدي (হারাম শরীফে প্রেরণ করার যােগ্য) পশুও হতে পারে না।
বস্তুত আমরা যা উল্লেখ করেছি, তাতে এ হাদীসের সনদ ফাসিদ এবং এর মতনও ফাসিদ। কারণ তিনি তার বক্তব্যে বলেছেন, قطع ذنبه أو بعض ذنبه অর্থাৎ লেজ কর্তন করেছে অথবা একাংশ কর্তন করেছে। যদি তার লেজের একাংশ কর্তিত হয় তবে সেক্ষেত্রে সম্ভাবনা আছে যে, কর্তিত অংশ লেজের এক-চতুর্থাংশের চেয়ে কম হবে। আর তখন তাে কেউ-ই তার কুরবানী করতে নিষেধ করেন না। আর হাদীস যদি তেমনই হয়।যেমন ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, আর তার বর্ণিত হাদীসে রয়েছে انه قطع اليته তবে সেক্ষেত্রে তার অংশবিশেষের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ অংশবিশেষ কর্তন করা হলেও قطع اليته বলা হয়। যেমন অংশগুলাের এক অংশ কাটা হলেও বলা হয় قطع اصبحه
এ সব হাদীসকে সহীহ মানা হলে হযরত বারা ইবন আযিব (রাযিঃ)-এর হাদীসে যে চারটি দোষের কথা বলা হয়েছে তার একটি দোষ কোন পশুতে পাওয়া গেলে তা কুরবানী করা নিষিদ্ধ হবে। অনুরূপ কানের সম্মুখভাগে কিংবা পশ্চাৎভাগে কাটা হলে তার কুরবানী করা নিষিদ্ধ হবে। مقابله ও مدابرة এর অর্থ হলো যে পশুর কানের অগ্রভাগে ও পশ্চাতভাগের বেশী অংশ কর্তন করা হয়েছে। আর যখন কুরবানী পশুর মধ্যে এ ধরনের দোষ (আংশিক কর্তিত হওয়া) হলে তা কুরবানীর জন্য যথেষ্ট নয়, সেক্ষেত্রে পূর্ণ কান কাটা হলো তা যথেষ্ট না হওয়া অধিকতর শ্রেয়। নযর ও যুক্তি : অনুরূপভাবে আমাদের নযর ও যুক্তির দাবি এটাই যে, ছাগলের কোন অংশ কাটা হলে, যেমন ওলান কিংবা তার নিতম্ব (اليه) তবে সে ক্ষেত্রে তা কুরবানী করা নিষিদ্ধ হবে, যখন তা পুরাটা কর্তিত হবে । আর আংশিক কর্তিত হলে আমাদের উলামা-ই কিরাম ভিন্নভিন্ন মত পােষণ করেন। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কর্তিত অংশ এক-চতুর্থাংশ কিংবা তার চেয়ে বেশী হলে সে পশুর কুরবানী জায়েয নয় কিন্তু এক-চতুর্থাংশের কম হলে কুরবানী করা যাবে। অপরদিকে ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, কর্তিত অংশ যদি অর্ধেক কিংবা তার চেয়ে বেশী হয়, তবে ঐ পশুর কুরবানী জায়েয নয়। আর অর্ধেকের কম হলে কোন অসুবিধা নেই। অবশ্য ইমাম আবু ইউসুফ (রাহঃ) বলেন, একবার তিনি তার এই মত ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বললেন, আমার মত তােমার মতের মতই। এ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) তার পূর্বের মত হতে ইমাম আবু ইউসুফ (রাহঃ)-এর মতের প্রতি রুজু করেছেন।
হযরত সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব العضباء -এর যে ব্যাখ্যা পেশ করেছেন, অর্থাৎ যে পশুর অর্ধেক কান কাটা, তাকে العضباء বলা হয়। যার কুরবানী করা নিষিদ্ধ। এটা ইমাম আবু ইউসুফ ও অন্যান্য আইম্মা-ই কিরামের মতের সাথে সংগতিপূর্ণ। আর যে সব পশুর মধ্যে এ দোষ বিদ্যমান, তা যখন কুরবানীর পশু হতে পারে না, তা حدي (হারাম শরীফে প্রেরণ করার যােগ্য) পশুও হতে পারে না।
كتاب الصيد والذبائح والأضاحي
6210 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْغَنِيِّ بْنُ رِفَاعَةَ أَبُو عَقِيلٍ، قَالَ: ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ: ثنا شُعْبَةُ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ قَرَظَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , قَالَ: وَلَمْ نَسْمَعْهُ مِنْهُ أَنَّهُ اشْتَرَى كَبْشًا لِيُضَحِّيَ بِهِ , فَأُكِلَ ذَنَبُهُ , أَوْ بَعْضُ ذَنَبِهِ , فَسَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ: «ضَحِّ بِهِ» فَقَدْ فَسَدَ إِسْنَادُ هَذَا الْحَدِيثِ , بِمَا قَدْ ذَكَرْنَا , وَفَسَدَ مَتْنُهُ , لِأَنَّهُ قَالَ قُطِعَ ذَنَبُهُ أَوْ بَعْضُ ذَنَبِهِ. فَإِنْ كَانَ الْبَعْضُ هُوَ الْمَقْطُوعَ , فَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ أَقَلَّ مِنْ رُبْعِهِ , وَذَلِكَ لَا يَمْنَعُ أَنْ يُضَحَّى بِهِ فِي قَوْلِ أَحَدٍ مِنَ النَّاسِ. وَلَوْ كَانَ الْحَدِيثُ , كَمَا رَوَاهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ , أَنَّهُ قَطَعَ أَلْيَتَهُ , لَاحْتَمَلَ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ أَيْضًا عَلَى بَعْضِهَا , لِأَنَّهُ قَدْ يُقَالُ: قَطَعَ أَلْيَتَهُ , إِذَا قَطَعَ بَعْضَهَا , كَمَا يُقَالُ: قَطَعَ إِصْبَعَهُ , إِذَا قَطَعَ بَعْضَهَا. [ص:171] فَتَصْحِيحُ هَذِهِ الْآثَارِ , يَمْنَعُ أَنْ يُضَحِّيَ بِالْأَرْبَعِ , الَّتِي فِي حَدِيثِ الْبَرَاءِ , أَوْ بِالْمُقَابَلَةِ وَالْمُدَابَرَةِ , وَهِيَ الْمَشْقُوقَةُ أَكْثَرُ أُذُنِهَا مِنْ قُبُلِهَا أَوْ مِنْ دُبُرِهَا. وَإِذَا كَانَ ذَلِكَ لَا يُجْزِئُ فِي الْأَضَاحِيِّ , فَالْمَقْطُوعَةُ الْأُذُنِ أَحْرَى أَنْ لَا تُجْزِئَ. وَكَذَلِكَ فِي النَّظَرِ عِنْدَنَا , كُلُّ عُضْوٍ قُطِعَ مِنْ شَاةٍ , مِثْلُ ضَرْعِهَا , أَوْ أَلْيَتِهَا , فَذَلِكَ يَمْنَعُ أَنْ يُضَحَّى بِهَا إِذَا قُطِعَ بِكَمَالِهِ , فَأَمَّا إِذَا قُطِعَ بَعْضُهُ , فَإِنَّ أَصْحَابَنَا رَحِمَهُمُ اللهُ يَخْتَلِفُونَ فِي ذَلِكَ. فَأَمَّا أَبُو حَنِيفَةَ , رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فَرُوِيَ عَنْهُ: الْمَقْطُوعُ مِنْ ذَلِكَ , إِذَا كَانَ رُبْعَ ذَلِكَ الْعُضْوِ فَصَاعِدًا , لَمْ يَصِحَّ بِمَا قُطِعَ ذَلِكَ مِنْهُ , وَإِنْ كَانَ أَقَلَّ مِنَ الرُّبْعِ , ضَحَّى بِهِ. وَقَالَ أَبُو يُوسُفَ وَمُحَمَّدٌ رَحِمَهُمَا اللهُ: إِذَا كَانَ الْمَقْطُوعُ مِنْ ذَلِكَ , هُوَ النِّصْفَ فَصَاعِدًا , فَلَا يُضَحَّى بِمَا إِذَا قُطِعَ ذَلِكَ مِنْهُ. وَإِنْ كَانَ أَقَلَّ مِنَ النِّصْفِ , فَلَا بَأْسَ أَنْ يُضَحَّى بِهَا. إِلَّا أَنَّ أَبَا يُوسُفَ رَحِمَهُ اللهُ ذَكَرَ أَنَّهُ ذَكَرَ هَذَا الْقَوْلَ لِأَبِي حَنِيفَةَ فَقَالَ لَهُ: قَوْلِي مِثْلُ قَوْلِكَ. فَثَبَتَ بِذَلِكَ رُجُوعُ أَبِي حَنِيفَةَ: رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ , عَنْ قَوْلِهِ الَّذِي قَدْ كَانَ قَالَهُ , إِلَى مَا حَدَّثَهُ بِهِ أَبُو يُوسُفَ. وَقَدْ وَافَقَ ذَلِكَ مِنْ قَوْلِهِمْ , مَا رَوَيْنَا عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ فِي هَذَا الْبَابِ , فِي تَفْسِيرِ الْعَضْبَاءِ الَّتِي قَدْ نُهِيَ عَنِ الْأُضْحِيَّةِ بِهَا , وَأَنَّهَا الْمَقْطُوعَةُ نِصْفُ أُذُنِهَا , وَكُلُّ مَا كَانَ مِنْ هَذَا , لَا يَكُونُ أُضْحِيَّةً , لِمَا قَدْ نَقَصَ مِنْهُ , فَإِنَّهُ لَا يَكُونُ هَدْيًا