শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১৯. শিকার,জবাই ও কুরবানীর বিধান
হাদীস নং: ৬২০৯
শিকার,জবাই ও কুরবানীর বিধান
যে সব দোষসহ হারাম শরীফে যবেহ করার জন্য কোন পশু প্রেরণ করা জায়েয নয় এবং যে সব দোযে কোন কুরবানীর পশু কুরবানী করা জায়েয নয়
৬২০৯। ফাহদ ..... হুজাইয়্যাহ ইব্ন আদী বলেন, একবার এক ব্যক্তি হযরত আলী (রাযিঃ)-এর কাছে এসে তাকে এমন পশু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল যার শিং ভাঙ্গা। তিনি বললেন, এতে তােমার কোন ক্ষতি নেই। সে পুনর জিজ্ঞেস করল, খোড়া পশু? তিনি বললেন, যদি যবেহ করার স্থানে পৌঁছতে পারে (তাহলে ক্ষতি নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নেই আমাদেরকে চক্ষু ও কান ভাল করে দেখার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
আলােচনা : আবু জাফর বলেন, এসব হাদীসে এমন পশু দ্বারা কুরবানী করতে নিষেধ করা হয়েছে, যার কানের অগ্রভাগ কিংবা নিম্নভাগ কর্তন করা হয়েছে। যে পশুর কানের অগ্রভাগ ফাটা তাকে مقابله বলা হয়, আর যার কানের নিম্বভাগ ফাটা তাকে বলা হয় مدابره হযরত সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রাযিঃ) غضباء الاذن যার কুরবানী করা নিষিদ্ধ তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, তা হলাে ঐ পশু যার কান অর্ধেক কাটা।
এ দ্বারা প্রমাণিত হলাে, কানে কোন দোষ থাকলে তাও কুরবানী করতে নিষেধ করা হয়েছে। আর আমাদের পক্ষে তা ত্যাগ করা জায়েয নয়। কারণ, হযরত বারা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস, যা আমরা বর্ণনা করেছি, দুটি কারণ হতে শূন্য হবে না। হয় হযরত আলী (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস হতে তাঁর বর্ণিত হাদীস পূর্বের হবে, সে ক্ষেত্রে হযরত আলী (রাযিঃ)-এর এ হাদীস তার হাদীসের ওপর অতিরিক্ত তথ্য দানকারী হাদীস হবে। অথবা তার [বারা (রাযিঃ)] হাদীস হতে হযরত আলী (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস পরে বর্ণিত হবে। তখন এ হাদীস নাসিখ হবে। আর হযরত আলী কর্তৃক বর্ণিত হাদীস সহীহ প্রমাণিত হবার পর আমরা যখন তা মানসূখ হয়েছে বলে জানতে পারিনি, সে ক্ষেত্রে হযরত বারা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের সাথে হযরত আলী (রাযিঃ)-এর এ হাদীসও প্রমাণিত বলে মেনে নিয়েছি এবং উভয় হাদীসের ওপর আমল করা ওয়াজিব বিবেচনা করেছি। কেউ যদি প্রশ্ন করে যে, আপনি ভাঙ্গা শিং বিশিষ্ট পশুকে কুরবানী করা মাকরূহ মনে করেন না। অথচ, জুরাই ইব্ন কুলায়ব হযরত আলী (রাযিঃ)-এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) হতে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাতে তাে এর থেকে নিষেধ করা হয়েছে।
তবে তার জবাবে বলা হবে, আমরা এ হাদীসকে এ কারণে ছেড়ে দিয়েছি যে, খােদ আলী (রাযিঃ) এরূপ পশু কুরবানী করায় কোন অসুবিধা আছে বলে মনে করেন না। যা আমরা হুজাইয়া ইবন আদী কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে তার থেকে বর্ণনা করেছি। এর দ্বারা আমরা জানতে পেরেছি যে, হযরত আলী (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর পরে ঐ হাদীসের বিপরীত কিছু বলতে পারবেন না যা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে শুনেছেন। হ.. পারেন কেবল তখন, যখন তাঁর নিকট পূর্বের হাদীস মানসূখ প্রমাণিত হবে। তবে ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ সায়রাফী কর্তৃক বর্ণিত যে। হাদীস আমরা হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছি, সে হাদীসের সনদ ও মতন সঠিক নয় মর্মে ইমাম বা বর্ণনা করেছেন।
আলােচনা : আবু জাফর বলেন, এসব হাদীসে এমন পশু দ্বারা কুরবানী করতে নিষেধ করা হয়েছে, যার কানের অগ্রভাগ কিংবা নিম্নভাগ কর্তন করা হয়েছে। যে পশুর কানের অগ্রভাগ ফাটা তাকে مقابله বলা হয়, আর যার কানের নিম্বভাগ ফাটা তাকে বলা হয় مدابره হযরত সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রাযিঃ) غضباء الاذن যার কুরবানী করা নিষিদ্ধ তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, তা হলাে ঐ পশু যার কান অর্ধেক কাটা।
এ দ্বারা প্রমাণিত হলাে, কানে কোন দোষ থাকলে তাও কুরবানী করতে নিষেধ করা হয়েছে। আর আমাদের পক্ষে তা ত্যাগ করা জায়েয নয়। কারণ, হযরত বারা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস, যা আমরা বর্ণনা করেছি, দুটি কারণ হতে শূন্য হবে না। হয় হযরত আলী (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস হতে তাঁর বর্ণিত হাদীস পূর্বের হবে, সে ক্ষেত্রে হযরত আলী (রাযিঃ)-এর এ হাদীস তার হাদীসের ওপর অতিরিক্ত তথ্য দানকারী হাদীস হবে। অথবা তার [বারা (রাযিঃ)] হাদীস হতে হযরত আলী (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস পরে বর্ণিত হবে। তখন এ হাদীস নাসিখ হবে। আর হযরত আলী কর্তৃক বর্ণিত হাদীস সহীহ প্রমাণিত হবার পর আমরা যখন তা মানসূখ হয়েছে বলে জানতে পারিনি, সে ক্ষেত্রে হযরত বারা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের সাথে হযরত আলী (রাযিঃ)-এর এ হাদীসও প্রমাণিত বলে মেনে নিয়েছি এবং উভয় হাদীসের ওপর আমল করা ওয়াজিব বিবেচনা করেছি। কেউ যদি প্রশ্ন করে যে, আপনি ভাঙ্গা শিং বিশিষ্ট পশুকে কুরবানী করা মাকরূহ মনে করেন না। অথচ, জুরাই ইব্ন কুলায়ব হযরত আলী (রাযিঃ)-এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) হতে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাতে তাে এর থেকে নিষেধ করা হয়েছে।
তবে তার জবাবে বলা হবে, আমরা এ হাদীসকে এ কারণে ছেড়ে দিয়েছি যে, খােদ আলী (রাযিঃ) এরূপ পশু কুরবানী করায় কোন অসুবিধা আছে বলে মনে করেন না। যা আমরা হুজাইয়া ইবন আদী কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে তার থেকে বর্ণনা করেছি। এর দ্বারা আমরা জানতে পেরেছি যে, হযরত আলী (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর পরে ঐ হাদীসের বিপরীত কিছু বলতে পারবেন না যা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে শুনেছেন। হ.. পারেন কেবল তখন, যখন তাঁর নিকট পূর্বের হাদীস মানসূখ প্রমাণিত হবে। তবে ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ সায়রাফী কর্তৃক বর্ণিত যে। হাদীস আমরা হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছি, সে হাদীসের সনদ ও মতন সঠিক নয় মর্মে ইমাম বা বর্ণনা করেছেন।
كتاب الصيد والذبائح والأضاحي
6209 - حَدَّثَنَا فَهْدٌ قَالَ: ثنا أَبُو نُعَيْمٍ , قَالَ: ثنا حَسَنُ بْنُ صَالِحٍ , وَحَدَّثَنَا فَهْدٌ قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ قَالَا جَمِيعًا , عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ , عَنْ حُجَيَّةَ بْنِ عَدِيٍّ قَالَ: أَتَى رَجُلٌ عَلِيًّا فَسَأَلَهُ عَنِ الْمَكْسُورَةِ الْقَرْنِ فَقَالَ: «لَا يَضُرُّكَ» ، قَالَ: عَرْجَاءُ؟ قَالَ: " إِذَا بَلَغَتِ الْمَنْسِكَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَسْتَشْرِفَ الْعَيْنَ وَالْأُذُنَ قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَفِي هَذِهِ الْآثَارِ النَّهْيُ عَنِ الْأُضْحِيَّةِ بِمُقَابَلَةٍ , أَوْ مُدَابَرَةٍ , وَذَلِكَ فِي الْأُذُنِ , مَا كَانَ مِنْ ذَلِكَ مِنْ قُبَالَةِ الْأُذُنِ , فَهُوَ مُقَابَلَةٌ , وَمَا كَانَ مِنْ أَسْفَلِهَا , فَهُوَ مُدَابَرَةٌ. وَبَيَّنَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ عَضْبَاءَ الْأُذُنِ الْمَنْهِيَّ عَنْ ذَبْحِهَا فِي الْأُضْحِيَّةِ فَقَالَ هِيَ الْمَقْطُوعَةُ نِصْفُ أُذُنِهَا. فَثَبَتَ بِذَلِكَ مَا نَهَى عَنْهُ مِنْ ذَلِكَ فِي الْأُذُنِ , وَلَمْ يَجُزْ لَنَا تَرْكُهُ , لِأَنَّ حَدِيثَ الْبَرَاءِ الَّذِي ذَكَرْنَا , لَا يَخْلُو مِنْ أَحَدِ وَجْهَيْنِ: إِمَّا أَنْ يَكُونَ مُتَقَدِّمًا , عَلَى حَدِيثِ عَلِيٍّ هَذَا , فَيَكُونُ حَدِيثُ عَلِيٍّ هَذَا , زَائِدًا عَلَيْهِ أَوْ يَكُونُ مُتَأَخِّرًا عَنْهُ , فَيَكُونُ نَاسِخًا لَهُ. فَلَمَّا لَمْ يُعْلَمْ نَسْخُ حَدِيثِ عَلِيٍّ بَعْدَمَا قَدْ عَلِمْنَا ثُبُوتَهُ , جَعَلْنَاهُ ثَابِتًا مَعَ حَدِيثِ الْبَرَاءِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , وَأَوْجَبْنَا الْعَمَلَ بِهِمَا جَمِيعًا. فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: فَأَنْتَ لَا تَكْرَهُ عَضْبَاءَ الْقَرْنِ , وَفِي حَدِيثِ جُرَيِّ بْنِ كُلَيْبٍ , عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّهْيُ عَنْهَا. قِيلَ لَهُ: إِنَّمَا تَرَكْنَا ذَلِكَ , لِأَنَّ عَلِيًّا رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , لَمْ يَرَ بِذَلِكَ بَأْسًا , فِيمَا قَدْ رَوَيْنَا عَنْهُ , فِي حَدِيثِ حُجَيَّةَ بْنِ عَدِيٍّ , فَعَلِمْنَا بِذَلِكَ أَنَّ عَلِيًّا رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , لَمْ يَقُلْ بَعْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خِلَافَ مَا قَدْ سَمِعَهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا بَعْدَ ثُبُوتِ نَسْخِ ذَلِكَ عِنْدَهُ. وَأَمَّا حَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ , رَوَيْنَاهُ عَنْهُ مِنْ حَدِيثِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدٍ الصَّيْرَفِيِّ , فَحَدِيثٌ فَاسِدٌ فِي إِسْنَادِهِ وَمَتْنِهِ , قَدْ بَيَّنَ ذَلِكَ شُعْبَةُ