শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১৩. যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৬৫৭
যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
১০. যে বিক্রয়ে এমন শর্ত আরোপ করা হয়, যা তার অংশ নয়
৫৬৫৭। আলী ইবন শায়বা বলেন, ..... শা'বী হযরত জাবির ইবন আব্দিল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন, একবার তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সহিত একটা উটের ওপর আরোহন করে সফর করছিলেন, কিন্তু এক পর্যায়ে উট চলতে অক্ষম হয়ে পড়ল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) (পেছন হতে এসে) তাঁকে ধরে ফেললেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, জাবির! তোমার কি অবস্থায়? তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার উট চলতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কাছে কি কিছু আছে। তিনি তাঁকে একটা বাঁশ কিংবা একটা কাঠ দিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তা দিয়ে উটকে তাড়া করলেন, কিংবা আঘাত করলেন। ফলে উট এত দ্রুত চলতে লাগল, যেমন পূর্বে কখনো চলেনি। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে বললেন, উটটা আমার নিকট এক উকিয়ার (চল্লিশ দিরহাম) বিনিময়ে বিক্রয় কর। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এটা আপনারই উট (বিক্রয়ের প্রয়োজন নেই) অবশেষে এক উকিয়ার বিনিময়ে বিক্রয় করতেই হলো। কিন্তু তার উপর সোয়ার হয়ে আমার পরিবার পর্যন্ত পৌঁছবার শর্ত করলাম। আমি যখন মদীনায় আগমন করলাম, তখন উট নিয়ে তাঁর দরবারে উপস্থিত হলাম। তাঁকে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এই আপনার উট। তখন তিনি বললেন, সম্ভবতঃ তুমি ধারণা করেছ, আমি তোমার উট নিয়ে নিব। হে বিলাল! থলে হতে তাকে একটি উকিয়া প্রদান কর। আর হযরত জাবিরকে বললেন, তুমি তোমার উট নিয়ে যাও, উট ও উকিয়া দুটোই তোমার।
আলোচনা
আবু জা'ফর তাহাবী (রাহঃ) বলেনঃ উলামা-ই কিরামের একটি জামাত বলেন, যখন কেউ কারো কাছে নির্দিষ্ট মূল্যে কোন চতুষ্পদ প্রাণী এই শর্তে বিক্রয় করে যে, সে কোন নির্দিষ্ট স্থানে আরোহণ করে যাবে, তবে এ বিক্রয় জায়িয এবং তার শর্তও জায়িয। হযরত জাবির (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত এ হাদীস দ্বারা তারা দলীল পেশ করেন।
উলামা-ই কিরাম অন্য একটি জামাত এর বিপরীত মত পোষণ করেন। এরপর তারা আবার দু দলে বিভক্ত হয়েছেন। একদল বলেন, এরূপ শর্ত করে বিক্রয় করলে বিক্রয় তো জায়িয, কিন্তু শর্ত বাতিল। অপর দলটি বলেন, বিক্রয়ই ফাসিদ। এ অনুচ্ছেদে আমরা দু'দলের মতামতেরই বিস্তারিত আলোচনা করব। ইনশাআল্লাহ্। প্রথম দলের বিপরীতে এ দুটি দল যে দলীল পেশ করেন, তা এই যে, হযরত জাবির (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত যে হাদীস আমরা উল্লেখ করেছি, তার দুটি অর্থ রয়েছে, যা প্রমাণ করে যে, প্রথম দলের পক্ষে তা কোনভাবেই দলীল হতে পারে না। একটি অর্থ হলো উল্লেখিত ঘটনায় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হযরত জাবির (রাযিঃ)-এর সহিত যখন ক্রয়-বিক্রয়ের আলোচনা করছিলেন, তখন হযরত জাবির (রাযিঃ) এর সোয়ার হতে যাবার কোন শর্ত ছিলনা। হযরত জাবির (রাযিঃ) বললেন, আমি বিক্রয় করলাম। এবং আমার পরিবার পর্যন্ত পৌঁছবার জন্য বাহন হিসেবে পেতে চাই।
এ হাদীসের ব্যাখ্যা হলো এই যে, উট বিক্রয় তো ঐ কথার ওপরই হয়েছে, যেমন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ক্রয় বিক্রয়ের আলোচনার সময় করেছিলেন। এবং হযরত জাবির (রাযিঃ) মদীনায় তাঁর পরিবার পর্যন্ত সোয়ার হবার যে অনুরোধ জানিয়েছিলেন তা হয়েছিল বিক্রয়ের পরে। সওয়ার হবার বিষয়টি بيع (বিক্রয়) হতে পৃথক ভাবে আলোচনায় এসেছিল। সুতরাং এ ঘটনা একথা প্রমাণ করে না যে, ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তির মধ্যে যদি সওয়ার হবার শর্ত আরোপ করা হয়, তবে তখন তার হুকুম কি হবে? চুক্তি হতে পৃথক হয়ে শর্ত আরোপ করলে যে হুকুম হয় তা-ই হবে, না কি ভিন্ন কোন হুকুম হবে? দ্বিতীয় দলীল হলো, হযরত জাবির (রাযিঃ) বলেন, যখন আমি মদীনায় আগমন করলাম, তখন আমি উটটা নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এই আপনার উট। তখন তিনি বললেন, সম্ভবতঃ তুমি ধারণা করেছ, আমি তোমার উট নেয়ার জন্য তোমাকে আটকিয়ে রেখেছি। হে বিলাল। তুমি তাকে একটি উকিয়া প্রদান কর। [আর জাবির (রাযিঃ)-কে বললেন] তুমি তোমার উট নিয়ে যাও। উট ও উকিয়া দু'টিই তোমার।
এ বক্তব্য একথাই প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর প্রথম বক্তব্য ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ছিল না। সুতরাং সওয়ার হওয়ার শর্ত মূল চুক্তিভুক্ত হলেও তা প্রমাণযোগ্য নয়। কারণ, যে চুক্তির মধ্যে এ শর্ত আরোপ করা হয়েছিল, বাস্তবে তা কোন ক্রয়-বিক্রয়ই ছিল না। আর যেহেতু রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উটের মালিক হননি, সুতরাং হযরত জাবির (রাযিঃ)-এর পক্ষ হতে সওয়ার হবার শর্ত আরোপ করা এমন জিনিসের মধ্যেই আরোপ করা, যার মালিক তিনি নিজেই। সুতরাং যে ক্রয়-বিক্রয় ক্রেতার মালিকানা অধিকার প্রতিষ্ঠা করে তার মধ্যে শর্ত আরোপ করা হলে যে কি হুকুম হবে, এ ঘটনায় তা প্রমাণ করার জন্য কোন দলীল নেই।
যারা 'শর্ত বাতিল, বিক্রয় বৈধ' বলেন, তারা হযরত বারীরা (রাযিঃ)-এর হাদীসকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করেনঃ
আলোচনা
আবু জা'ফর তাহাবী (রাহঃ) বলেনঃ উলামা-ই কিরামের একটি জামাত বলেন, যখন কেউ কারো কাছে নির্দিষ্ট মূল্যে কোন চতুষ্পদ প্রাণী এই শর্তে বিক্রয় করে যে, সে কোন নির্দিষ্ট স্থানে আরোহণ করে যাবে, তবে এ বিক্রয় জায়িয এবং তার শর্তও জায়িয। হযরত জাবির (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত এ হাদীস দ্বারা তারা দলীল পেশ করেন।
উলামা-ই কিরাম অন্য একটি জামাত এর বিপরীত মত পোষণ করেন। এরপর তারা আবার দু দলে বিভক্ত হয়েছেন। একদল বলেন, এরূপ শর্ত করে বিক্রয় করলে বিক্রয় তো জায়িয, কিন্তু শর্ত বাতিল। অপর দলটি বলেন, বিক্রয়ই ফাসিদ। এ অনুচ্ছেদে আমরা দু'দলের মতামতেরই বিস্তারিত আলোচনা করব। ইনশাআল্লাহ্। প্রথম দলের বিপরীতে এ দুটি দল যে দলীল পেশ করেন, তা এই যে, হযরত জাবির (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত যে হাদীস আমরা উল্লেখ করেছি, তার দুটি অর্থ রয়েছে, যা প্রমাণ করে যে, প্রথম দলের পক্ষে তা কোনভাবেই দলীল হতে পারে না। একটি অর্থ হলো উল্লেখিত ঘটনায় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হযরত জাবির (রাযিঃ)-এর সহিত যখন ক্রয়-বিক্রয়ের আলোচনা করছিলেন, তখন হযরত জাবির (রাযিঃ) এর সোয়ার হতে যাবার কোন শর্ত ছিলনা। হযরত জাবির (রাযিঃ) বললেন, আমি বিক্রয় করলাম। এবং আমার পরিবার পর্যন্ত পৌঁছবার জন্য বাহন হিসেবে পেতে চাই।
এ হাদীসের ব্যাখ্যা হলো এই যে, উট বিক্রয় তো ঐ কথার ওপরই হয়েছে, যেমন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ক্রয় বিক্রয়ের আলোচনার সময় করেছিলেন। এবং হযরত জাবির (রাযিঃ) মদীনায় তাঁর পরিবার পর্যন্ত সোয়ার হবার যে অনুরোধ জানিয়েছিলেন তা হয়েছিল বিক্রয়ের পরে। সওয়ার হবার বিষয়টি بيع (বিক্রয়) হতে পৃথক ভাবে আলোচনায় এসেছিল। সুতরাং এ ঘটনা একথা প্রমাণ করে না যে, ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তির মধ্যে যদি সওয়ার হবার শর্ত আরোপ করা হয়, তবে তখন তার হুকুম কি হবে? চুক্তি হতে পৃথক হয়ে শর্ত আরোপ করলে যে হুকুম হয় তা-ই হবে, না কি ভিন্ন কোন হুকুম হবে? দ্বিতীয় দলীল হলো, হযরত জাবির (রাযিঃ) বলেন, যখন আমি মদীনায় আগমন করলাম, তখন আমি উটটা নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এই আপনার উট। তখন তিনি বললেন, সম্ভবতঃ তুমি ধারণা করেছ, আমি তোমার উট নেয়ার জন্য তোমাকে আটকিয়ে রেখেছি। হে বিলাল। তুমি তাকে একটি উকিয়া প্রদান কর। [আর জাবির (রাযিঃ)-কে বললেন] তুমি তোমার উট নিয়ে যাও। উট ও উকিয়া দু'টিই তোমার।
এ বক্তব্য একথাই প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর প্রথম বক্তব্য ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ছিল না। সুতরাং সওয়ার হওয়ার শর্ত মূল চুক্তিভুক্ত হলেও তা প্রমাণযোগ্য নয়। কারণ, যে চুক্তির মধ্যে এ শর্ত আরোপ করা হয়েছিল, বাস্তবে তা কোন ক্রয়-বিক্রয়ই ছিল না। আর যেহেতু রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উটের মালিক হননি, সুতরাং হযরত জাবির (রাযিঃ)-এর পক্ষ হতে সওয়ার হবার শর্ত আরোপ করা এমন জিনিসের মধ্যেই আরোপ করা, যার মালিক তিনি নিজেই। সুতরাং যে ক্রয়-বিক্রয় ক্রেতার মালিকানা অধিকার প্রতিষ্ঠা করে তার মধ্যে শর্ত আরোপ করা হলে যে কি হুকুম হবে, এ ঘটনায় তা প্রমাণ করার জন্য কোন দলীল নেই।
যারা 'শর্ত বাতিল, বিক্রয় বৈধ' বলেন, তারা হযরত বারীরা (রাযিঃ)-এর হাদীসকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করেনঃ
كتاب البيوع و الصرف
بَابُ الْبَيْعِ يُشْتَرَطُ فِيهِ شَرْطٌ لَيْسَ مِنْهُ
5657 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ شَيْبَةَ قَالَ: ثنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ قَالَ: أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ أَبِي زَائِدَةَ , عَنِ الشَّعْبِيِّ , عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّهُ كَانَ يَسِيرُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى جَمَلٍ لَهُ فَأَعْيَاهُ , فَأَدْرَكَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «مَا شَأْنُكَ يَا جَابِرُ؟» فَقَالَ: أُعْيِيَ نَاضِحِي يَا رَسُولَ اللهِ فَقَالَ: «أَمَعَكَ شَيْءٌ؟» فَأَعْطَاهُ قَضِيبًا أَوْ عُودًا , فَنَخَسَهُ بِهِ , أَوْ قَالَ ضَرَبَهُ , فَسَارَ سَيْرَةً لَمْ يَكُنْ يَسِيرُ مِثْلَهَا. فَقَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بِعْنِيهِ بِأُوقِيَّةٍ» قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ , هُوَ نَاضِحُكَ. قَالَ: فَبِعْتُهُ بِأُوقِيَّةٍ , وَاسْتَثْنَيْتُ حُمْلَانَهُ , حَتَّى أُقْدِمَ عَلَى أَهْلِي , فَلَمَّا قَدِمْتُ أَتَيْتُهُ بِالْبَعِيرِ، فَقُلْتُ: هَذَا بَعِيرُكَ يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ: «لَعَلَّكَ تَرَى أَنِّي إِنَّمَا حَبَسْتُكَ , لِأَذْهَبَ بِبَعِيرِكَ , يَا بِلَالُ , أَعْطِهِ مِنَ الْعَيْبَةِ أُوقِيَّةً وَقَالَ انْطَلِقْ بِبَعِيرِكَ , فَهُمَا لَكَ» قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَذَهَبَ قَوْمٌ إِلَى أَنَّ الرَّجُلَ إِذَا بَاعَ مِنْ رَجُلٍ دَابَّةً , بِثَمَنٍ مَعْلُومٍ , عَلَى أَنْ يَرْكَبَهَا الْبَائِعُ إِلَى مَوْضِعٍ مَعْلُومٍ , أَنَّ الْبَيْعَ جَائِزٌ , وَالشَّرْطَ جَائِزٌ , وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ بِحَدِيثِ جَابِرٍ هَذَا. [ص:42] وَخَالَفَهُمْ فِي ذَلِكَ آخَرُونَ , ثُمَّ افْتَرَقَ الْمُخَالِفُونَ لَهُمْ عَلَى فِرْقَتَيْنِ , فَقَالَتْ فِرْقَةٌ: الْبَيْعُ جَائِزٌ , وَالشَّرْطُ بَاطِلٌ. وَقَالَتْ فِرْقَةٌ: الْبَيْعُ فَاسِدٌ , وَسَنُبَيِّنُ مَا ذَهَبَتْ إِلَيْهِ الْفِرْقَتَانِ جَمِيعًا , فِي هَذَا الْبَابِ , إِنْ شَاءَ اللهُ تَعَالَى. فَكَانَ مِنَ الْحُجَّةِ لِهَاتَيْنِ الْفِرْقَتَيْنِ جَمِيعًا , عَلَى الْفِرْقَةِ الْأُولَى فِي حَدِيثِ جَابِرٍ الَّذِي ذَكَرْنَا , أَنَّ فِيهِ مَعْنَيَيْنِ , يَدُلَّانِ أَنْ لَا حُجَّةَ لَهُمْ فِيهِ. فَأَمَّا أَحَدُ الْمَعْنَيَيْنِ , فَإِنَّ مُسَاوَمَةَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِجَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , إِنَّمَا كَانَتْ عَلَى الْبَعِيرِ , وَلَمْ يَشْتَرِطْ فِي ذَلِكَ لِجَابِرٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ رُكُوبًا , قَالَ جَابِرٌ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: فَبِعْتُهُ وَاسْتَثْنَيْتُ حُمْلَانَهُ إِلَى أَهْلِي. فَوَجْهُ هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّ الْبَيْعَ إِنَّمَا كَانَ عَلَى مَا كَانَتْ عَلَيْهِ الْمُسَاوَمَةُ , مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ كَانَ الِاسْتِثْنَاءُ لِلرُّكُوبِ مِنْ بَعْدُ , فَكَانَ ذَلِكَ الِاسْتِثْنَاءُ مَفْصُولًا مِنَ الْبَيْعِ , لِأَنَّهُ إِنَّمَا كَانَ بَعْدَهُ , فَلَيْسَ فِي ذَلِكَ حُجَّةٌ تَدُلُّنَا كَيْفَ حُكْمُ الْبَيْعِ , لَوْ كَانَ ذَلِكَ الِاسْتِثْنَاءُ مَشْرُوطًا فِي عُقْدَتِهِ , هَلْ هُوَ كَذَلِكَ أَمْ لَا؟ وَأَمَّا الْحُجَّةُ الْأُخْرَى , فَإِنَّ جَابِرًا رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: فَلَمَّا قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْبَعِيرِ , فَقُلْتُ: هَذَا بَعِيرُكَ يَا رَسُولَ اللهِ. قَالَ لَعَلَّكَ تَرَى أَنِّي إِنَّمَا حَبَسْتُكَ لِأَذْهَبَ بِبَعِيرِكَ , يَا بِلَالُ أَعْطِهِ أُوقِيَّةً , وَخُذْ بَعِيرَكَ. فَهُمَا لَكَ، فَدَلَّ ذَلِكَ أَنَّ ذَلِكَ الْقَوْلَ الْأَوَّلَ , لَمْ يَكُنْ عَلَى التَّبَايُعِ. فَلَوْ ثَبَتَ أَنَّ الِاشْتِرَاطَ لِلرُّكُوبِ , كَانَ فِي أَصْلِهِ بَعْدَ ثُبُوتِ هَذِهِ الْعِلَّةِ , لَمْ يَكُنْ فِي هَذَا الْحَدِيثِ حُجَّةٌ , لِأَنَّ الْمُشْتَرَطَ فِيهِ ذَلِكَ الشَّرْطُ , لَمْ يَكُنْ بَيْعًا. وَلِأَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَكُنْ مَلَكَ الْبَعِيرَ عَلَى جَابِرٍ , فَكَانَ اشْتِرَاطُ جَابِرٍ لِلرُّكُوبِ , اشْتِرَاطًا فِيمَا هُوَ لَهُ مَالِكٌ. فَلَيْسَ فِي هَذَا دَلِيلٌ عَلَى حُكْمِ ذَلِكَ الشَّرْطِ , لَوْ وَقَعَ فِي بَيْعٍ يُوجِبُ الْمِلْكَ لِلْمُشْتَرِي كَيْفَ كَانَ حُكْمُهُ؟ وَذَهَبَ الَّذِينَ أَبْطَلُوا الشَّرْطَ فِي ذَلِكَ , وَجَوَّزُوا الْبَيْعَ إِلَى حَدِيثِ بَرِيرَةَ