শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১১. শরীআত বিধিত দন্ডের অধ্যায়

হাদীস নং: ৫০৪২
শরীআত বিধিত দন্ডের অধ্যায়
৪. প্রায় ইচ্ছাকৃত হত্যা প্রাণের (হত্যা) অপেক্ষা নিম্ন পর্যায়ের অঙ্গ হানিতেও হয় কি না , যেমনিভাবে প্রাণের মধ্যে হয়?

ইমাম আবু জা'ফর তাহাবী (রাহঃ) বলেনঃ যদি কেউ বলে যে, যখন রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) থেকে প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে যে, কখনাে প্রাণ হত্যায় প্রায় ইচ্ছাকৃত হত্যাও হয়। তাহলে অনুরূপভাবে প্রাণ অপেক্ষা নিম্ন পর্যায়ের অঙ্গহানিতেও প্রায় ইচ্ছাকৃত হত্যা হবে। তিনি এ বিষয়ে সেই সমস্ত রিওয়ায়াত উল্লেখ করেছেন, যা আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে রিওয়ায়াত করেছি। তাতে তিনি বলেছেনঃ শােন! ইচ্ছাকৃত হত্যায় নিহত ব্যক্তি সে, যে কিনা চাবুক, লাঠি ও পাথর দ্বারা নিহত হয়েছে, তাতে দিয়াত হবে একশতটি উট, যেগুলাের মাঝে চল্লিশটি হবে গর্ভবতী উষ্ট্রী।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার বিরুদ্ধে আমাদের দলীল হলাে যে, নবী(ﷺ) থেকে প্রাণ হত্যার ব্যাপারে সেটিই বর্ণিত আছে, যা ঐ হাদীসে রয়েছে। কিন্তু প্রাণের (হত্যা) অপেক্ষা নিম্ন পর্যায়ের অঙ্গহানিতে তাঁর থেকে এর পরিপন্থী বর্ণিত আছে। আর সেই রিওয়ায়াতটি আমরা নিজস্ব সনদে এই গ্রন্থের শুরুতে রুবাইয়্যা (রাযিঃ)-এর ঘটনায় নকল করেছি। তিনি একবার এক দাসীকে থাপ্পড় মেরে তার সম্মুখের দাঁত ভেঙ্গে দিয়েছিলেন। অনন্তর তারা (দাসীর পরিজন) রাসূলুল্লাহ্(ﷺ)-এর দরবারে অভিযােগ দায়ের করলে তিনি কিসাসের নির্দেশ দেন।
আমরা লক্ষ্য করেছি যে, যদি থাপ্পড় মারা দ্বারা হত্যার (ন্যায় অপরাধ সংঘটিত) হয় তাহলে তাতে কিসাস ওয়াজিব হয় না। পক্ষান্তরে হত্যা অপেক্ষা নিম্নপর্যায়ের অঙ্গহানিতে কিসাস ওয়াজিব হয়। এতে প্রমাণিত হলাে যে, যে আমল প্রাণের (হত্যার) বিষয়ে প্রায় ইচ্ছাকৃত হত্যা সাব্যস্ত হয়, তা প্রাণের (হত্যা) অপেক্ষা নিম্ন পর্যায়ে (অঙ্গহানিতে) ইচ্ছাকৃত (হত্যা) হয়ে যায়। এই রিওয়ায়াতসমূহের বিশুদ্ধকরণ দ্বারা এটাই সাব্যস্ত হয়। আর ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ), ইমাম আবু ইউসুফ (রাহঃ) ও ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর অভিমত এটাই।

৫. কোন বক্তি মৃত্যুর সময় (মুমূর্ষ অবস্থায়) বলল, আমি যদি মরে যাই তাহলে অমুক আমাকে হত্যা করেছে

আবু জা'ফর তাহাবী (রাহঃ) বলেনঃ আমরা পূর্বে এই গ্রন্থের শুরুতে রিওয়ায়াত বর্ণনা করে এসেছি যে, রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) যখন ওই বালিকাকে জিজ্ঞাসা করলেন, যার মাথা (পাথর দ্বারা) থেতলে দেয়া হয়েছিল যে, কে তােমার মাথা চূর্ণ করেছে, অমুক ব্যক্তি? তখন সে মাথা নেড়ে ইশারায় (বলল) হ্যাঁ, অনন্তর রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) তার (চূর্ণকারীর) মাথা দুই পাথরের মাঝে চূর্ণ করে দেয়ার নির্দেশ দিলেন।

বিশ্লেষণ

একদল আলিম এই হাদীসের উপর আমলের দাবি করে বলছেন যে, যে ব্যক্তি মৃত্যু অবস্থায় দাবি করেছে যে, তাকে অমুকে হত্যা করেছে অতঃপর সে মৃত্যুবরণ করেছে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার বক্তব্য গ্রহণ করা হবে এবং যাকে হত্যাকারী বলে উল্লেখ করেছে তাকে (কিসাসরূপে) হত্যা করা হবে। পক্ষান্তরে অপরাপর আলিমগণ এ বিষয়ে তাদের বিরােধিতা করে বলেছেন যে, সম্ভবত নবী(ﷺ) ইয়াহুদীকেও জিজ্ঞাসা করেছেন এবং সে ঐ বিষয়ে স্বীকারােক্তি জ্ঞাপন করেছে, যা ওই বালিকা তার বিরুদ্ধে দাবি করেছিল। সুতরাং তিনি তার স্বীকারােক্তির কারণে তাকে হত্যা করেছেন, বালিকার দাবির কারণে নয়।

অতএব আমরা এ বিষয়ে বর্ণিত রিওয়ায়াতসমূহে দেখেছি যে, আমরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাতে কোন দলীল পাই কিনা? তাতে দেখা গেলােঃ
৫০৪২। ইব্‌ন আবী দাউদ (রাহঃ) ….. আনাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী(ﷺ) থেকে অনুরূপ রিওয়ায়াত করে কিছু অতিরিক্ত বাক্য নকল করে বলেছেন যে, তিনি সেই (ইয়াহুদী) কে জিজ্ঞাসা করেছেন। তখন সে বালিকার দাবি মুতাবিক স্বীকারােক্তি জ্ঞাপন করেছে। অনন্তর তিনি তার মাথা দুই পাথরের মাঝে থেতলে দিয়েছেন।
كتاب الحدود و الجنايات
بَابُ شِبْهِ الْعَمْدِ هَلْ يَكُونُ فِيمَا دُونَ النَّفْسِ كَمَا يَكُونُ فِي النَّفْسِ؟ قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: لَمَّا ثَبَتَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ النَّفْسَ قَدْ يَكُونُ فِيهَا شِبْهُ عَمْدٍ كَانَ كَذَلِكَ فِيمَا دُونَ النَّفْسِ وَذَكَرَ فِي ذَلِكَ الْآثَارَ الَّتِي قَدْ رَوَيْنَاهَا عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الَّتِي فِيهَا " أَلَا إِنَّ قَتِيلَ خَطَأِ الْعَمْدِ بِالسَّوْطِ وَالْعَصَا وَالْحَجَرِ فِيهِ مِائَةٌ مِنَ الْإِبِلِ مِنْهَا أَرْبَعُونَ خِلْفَةً فِي بُطُونِهَا أَوْلَادُهَا «. فَكَانَ مِنْ حُجَّتِنَا عَلَيْهِ فِي ذَلِكَ أَنَّهُ قَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي النَّفْسِ مَا قَدْ رُوِيَ عَنْهُ فِيهَا. وَقَدْ رُوِيَ عَنْهُ فِيمَا دُونَ النَّفْسِ مَا يُخَالِفُ ذَلِكَ وَهُوَ مَا قَدْ ذَكَرْنَاهُ بِإِسْنَادِهِ فِي أَوَّلِ هَذَا الْكِتَابِ فِي خَبَرِ» الرُّبَيِّعِ أَنَّهَا لَطَمْتُ جَارِيَةً فَكَسَرْتُ ثَنِيَّتَهَا فَاخْتَصَمُوا إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَرَ بِالْقِصَاصِ ". وَقَدْ رَأَيْنَا اللَّطْمَةَ إِذَا أَتَتْ عَلَى النَّفْسِ لَمْ يَجِبْ فِيهَا قَوَدٌ وَرَأَيْنَاهَا فِيمَا دُونَ النَّفْسِ قَدْ أَوْجَبَتِ الْقَوَدَ. فَثَبَتَ بِذَلِكَ أَنَّ مَا كَانَ فِي النَّفْسِ شِبْهُ عَمْدٍ أَنَّهُ فِيمَا دُونَ النَّفْسِ عَمْدٌ عَلَى تَصْحِيحِ هَذِهِ الْآثَارِ. وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ وَمُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ رِضْوَانُ اللهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ

بَابُ الرَّجُلِ يَقُولُ عِنْدَ مَوْتِهِ: إِنْ مِتُّ فَفُلَانٌ قَتَلَنِي قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: قَدْ رَوَيْنَا فِيمَا تَقَدَّمَ مِنْ هَذَا الْكِتَابِ «أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا سَأَلَ الْجَارِيَةَ الَّتِي رُضِخَ رَأْسُهَا مَنْ رَضَخَ رَأْسَكَ أَفُلَانٌ هُوَ؟ فَأَوْمَتْ بِرَأْسِهَا أَيْ نَعَمْ فَأَمَرَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِرَضْخِ رَأْسِهِ بَيْنَ حَجَرَيْنِ» . فَذَهَبَ قَوْمٌ إِلَى هَذَا الْحَدِيثِ فَزَعَمُوا أَنَّهُمْ قَلَّدُوهُ وَقَالُوا: مَنِ ادَّعَى - وَهُوَ فِي حَالِ الْمَوْتِ - أَنَّ فُلَانًا قَتَلَهُ ثُمَّ مَاتَ قَبْلَ قَوْلِهِ فِي ذَلِكَ وَقَتَلَ الَّذِي ذَكَرَ أَنَّهُ قَتَلَهُ. وَخَالَفَهُمْ فِي ذَلِكَ آخَرُونَ فَقَالُوا: قَدْ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَأَلَ الْيَهُودِيَّ فَأَقَرَّ بِمَا ادَّعَتِ الْجَارِيَةُ عَلَيْهِ مِنْ ذَلِكَ فَقَتَلَهُ بِإِقْرَارِهِ لَا بِدَعْوَى الْجَارِيَةِ. فَاعْتَبَرْنَا الْآثَارَ الَّتِي قَدْ جَاءَتْ فِي ذَلِكَ: هَلْ نَجِدُ فِيهَا عَلَى شَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ دَلِيلًا؟
5042 - فَإِذَا ابْنُ أَبِي دَاوُدَ
قَدْ حَدَّثَنَا قَالَ: ثنا أَبُو عُمَرَ الْحَوْضِيُّ قَالَ: ثنا هَمَّامٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ وَزَادَ قَالَ: فَسَأَلَهُ فَأَقَرَّ بِمَا ادَّعَتْ فَرَضَخَ رَأْسَهُ بَيْنَ حَجَرَيْنِ
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান