শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
৮. তালাক - ডিভোর্স অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৬৪৪
তালাক - ডিভোর্স অধ্যায়
৭. অনুচ্ছেদঃ যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলে যে, ‘কদরের রাতে তুমি তালাক’ তাহলে তালাক কখন প্রতিফলিত হবে?
৪৬৪৪। আবু উমাইয়া (রাহঃ) ….. যির ইব্ন হুবাইশ (রাহঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি উবাই ইব্ন কা'ব (রাযিঃ) কে বললাম, আব্দুল্লাহ্ ইব্ন মাস্উদ (রাযিঃ) লাইলাতুল কদর সম্পর্কে বলতেন, যে ব্যক্তি সারা বছর ইবাদতে কাটান, তিনি লাইলাতুল কদর পেতে পারেন। উবাই ইব্ন কা'ব (রাযিঃ) তখন বলেন, আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ্ ইব্ন মাস্উদ (রাযিঃ)-এর উপর আল্লাহ্ রহমত বর্ষণ করুন, যার প্রতি শপথ করা হয়, তিনি কি জানিয়ে দেননি যে, লাইলাতুল কদর রামাদান মাসেই হয়ে থাকে এবং তা হচ্ছে ২৭ শা রাত। যির (রাহঃ) বলেন, যখন আমি উবাই (রাযিঃ)-কে দেখলাম যে, তিনি ইনশাআল্লাহ বলা ব্যতীতই শপথ গ্রহণ করছেন, তখন আমি তাকে বললাম, আপনি তা কেমন করে জানলেন? তিনি বললেন, ঐ বাণী দ্বারা রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন, আমরা তা বিবেচনা করলাম ও গণনা করলাম। দেখা গেল তা ২৭ শা রাত। তার পরদিন সূর্যের কোন কিরণ ছিলনা।
আবু জা'ফর আত-তাহাবী (রাহঃ) বলেনঃ ইনিই হযরত উবাই ইব্ন কা'ব (রাযিঃ), যিনি রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) খবর পরিবেশন করেন যে, লাইলাতুল কদর হচ্ছে রামাদান মাসের ২৭শা রাত। আর তিনি বছরের সারাটা ইবাদত কারীর পক্ষে লাইলাতুল কদর অর্জন করার অভিমতের বিরােধিতা করেছেন, তবে আব্দুল্লাহ্ ইব্ন মাস্উদ (রাযিঃ) থেকে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে যে, লাইলাতুল কদর রামাদান মাসে সংঘটিত হয়। আর আবু যর (রাযিঃ) শপথ করে বলেছেন যে, আব্দুল্লাহ্ ইব্ন মাস্উদ (রাযিঃ) তা জানেন, কিন্তু ২৭ শা তারিখ সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারে ভিন্নমত পােষণ করেন।
আবু জা'ফর আত-তাহাবী (রাহঃ) বলেনঃ ইনিই হযরত উবাই ইব্ন কা'ব (রাযিঃ), যিনি রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) খবর পরিবেশন করেন যে, লাইলাতুল কদর হচ্ছে রামাদান মাসের ২৭শা রাত। আর তিনি বছরের সারাটা ইবাদত কারীর পক্ষে লাইলাতুল কদর অর্জন করার অভিমতের বিরােধিতা করেছেন, তবে আব্দুল্লাহ্ ইব্ন মাস্উদ (রাযিঃ) থেকে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে যে, লাইলাতুল কদর রামাদান মাসে সংঘটিত হয়। আর আবু যর (রাযিঃ) শপথ করে বলেছেন যে, আব্দুল্লাহ্ ইব্ন মাস্উদ (রাযিঃ) তা জানেন, কিন্তু ২৭ শা তারিখ সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারে ভিন্নমত পােষণ করেন।
كتاب الطلاق
4644 - حَدَّثَنَا أَبُو أُمَيَّةَ , قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ سَابِقٍ , قَالَ: ثنا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ , عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ , عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ , قَالَ: قُلْتُ لِأُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ: إِنَّ عَبْدَ اللهِ كَانَ يَقُولُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ: «مَنْ قَامَ الْحَوْلَ أَدْرَكَهَا» . فَقَالَ: رَحْمَةُ اللهِ عَلَى أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ , أَمَا وَالَّذِي يُحْلَفُ بِهِ , لَقَدْ عَلِمَ أَنَّهَا لَفِي رَمَضَانَ , وَأَنَّهَا لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ , قَالَ: فَلَمَّا رَأَيْتُهُ يَحْلِفُ لَا يَسْتَثْنِي قُلْتُ: مَا عِلْمُكَ بِذَلِكَ؟ قَالَ: «بِالْآيَةِ الَّتِي أَخْبَرَنَا بِهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , فَحَسَبْنَا وَعَدَدْنَا , فَإِذَا هِيَ لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ» , يَعْنِي أَنَّ الشَّمْسَ لَيْسَ لَهَا شُعَاعٌ. قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَهَذَا أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , يُخْبِرُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ , وَيَنْفِي قَوْلَ عَبْدِ اللهِ: مَنْ يَقُمِ الْحَوْلَ يُصِبْهَا. غَيْرَ أَنَّهُ قَدْ رُوِيَ عَنْ عَبْدِ اللهِ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ أَنَّهَا فِي رَمَضَانَ , عَلَى مَا قَدْ حَلَفَ عَلَيْهِ أُبَيٌّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ , أَنَّ عَبْدَ اللهِ قَدْ عَلِمَهُ , وَلَكِنَّهُ فِي خِلَافِ لَيْلَةِ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত উবাই ইবনে কা'ব রাযি.-এর উত্তর দ্বারা বুঝা গেল যে, তিনি যে নিশ্চিতভাবে এ কথা বলেছেন যে, শবে ক্বদর নির্দিষ্টভাবে সাতাশতম রাতেই হয়, একথা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেননি; বরং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যে একটি লক্ষণ বলে দিয়েছিলেন, তিনি যেহেতু এ লক্ষণ ও আলামতটি সাধারণতঃ সাতাশতম রাতের সকালেই দেখেছিলেন, এ জন্য প্রত্যয়ের সাথে তিনি এ মত পোষণ করে নিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনো তো এই বলেছেন যে, রমযানের শেষ দশ দিনে এর অনুসন্ধান কর, কখনো বলেছেন, শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে অনুসন্ধান কর, আবার কখনো শেষ দশকের পাঁচটি বেজোড় রাতের চার অথবা তিন রাতের কথা বলেছেন। কোন বিশেষ রাতকে তিনি নির্দিষ্ট করে দেননি। হ্যাঁ, অনেক অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন মানুষের অভিজ্ঞতা এই যে, এটা প্রায়ই সাতাশতম রাতেই হয়ে থাকে। শবে ক্বদরকে এভাবে অনির্দিষ্ট রাখার মধ্যে হেকমত ও রহস্য এটাই যে, একটিমাত্র রাতের জন্য বসে না থেকে আল্লাহপ্রেমিক বান্দারা যেন বিভিন্ন রাতে ইবাদত, যিকির ও দু‘আয় মশগুল থাকে। যারা এমন করবে, তাদের সাফল্য সুনিশ্চিত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)