শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
৪. যাকাতের অধ্যায়
হাদীস নং: ৩০১২
যাকাতের অধ্যায়
সুস্থ-সবল দরিদ্র ব্যক্তির জন্য সাদাকা হালাল কি-না।
৩০১২। আবু উমাইয়া (রাহঃ) ..... ওয়াহব (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট এল, তখন তিনি আরাফাতে অবস্থানরত ছিলেন, সে তাঁর নিকট তাঁর চাদরটি যাচনা করল। তিনি তাকে তা দিয়ে দিলেন, লোকটি তা নিয়ে চলে গেল। তারপর নবী করীম (ﷺ) বললেনঃ ভিক্ষাবৃত্তি হালাল নয়; তবে চরম দরিদ্র কিংবা দায়ভারে অতিষ্ঠ ব্যক্তির জন্য জায়িয আছে। অর্থ সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে যদি কেউ ভিক্ষা করে তবে কিয়ামতের দিন সে তার চেহারা খামচানো অবস্থায় নিয়ে আসবে এবং সে খাবে জাহান্নামের উত্তপ্ত পাথর। যদি কম হয় তাহলে কম, যদি বেশী হয় তাহলে বেশী।
বস্তুত এই হাদীসেও নবী করীম (ﷺ) সংবাদ দিয়েছেনঃ ভিক্ষাবৃত্তি দারিদ্র্য ও দায়ভারের কারণে হালাল হয়। এটি প্রমাণ বহন করে যে, ভিক্ষা বৃত্তি বিশেষত এই দুই কারণে বৈধ এবং এতে পঙ্গুত্ব ও অন্য অবস্থার কারণে ভিন্নতা হবে না।
বস্তুত এই হাদীসেও নবী করীম (ﷺ) সংবাদ দিয়েছেনঃ ভিক্ষাবৃত্তি দারিদ্র্য ও দায়ভারের কারণে হালাল হয়। এটি প্রমাণ বহন করে যে, ভিক্ষা বৃত্তি বিশেষত এই দুই কারণে বৈধ এবং এতে পঙ্গুত্ব ও অন্য অবস্থার কারণে ভিন্নতা হবে না।
كتاب الزكاة
3012 - مَا قَدْ حَدَّثَنَا أَبُو أُمَيَّةَ , قَالَ: ثنا الْمُعَلَّى بْنُ مَنْصُورٍ , قَالَ: أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ , قَالَ: أَخْبَرَنِي مُجَالِدٌ , عَنِ الشَّعْبِيِّ , عَنْ وَهْبٍ , قَالَ: «جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ وَاقِفٌ بِعَرَفَةَ , فَسَأَلَهُ رِدَاءَهُ , فَأَعْطَاهُ إِيَّاهُ , فَذَهَبَ بِهِ , ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لَا تَحِلُّ إِلَّا مِنْ مُدْقِعٍ أَوْ غُرْمٍ مُفْظِعٍ , وَمَنْ سَأَلَ النَّاسَ لِيُثْرِيَ بِهِ لَهُ , فَإِنَّهُ خُمُوشٌ فِي وَجْهِهِ , وَرَضْفٌ يَأْكُلُهُ مِنْ جَهَنَّمَ , إِنْ قَلِيلًا فَقَلِيلٌ , وَإِنْ كَثِيرًا فَكَثِيرٌ» فَأَخْبَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيْضًا فِي هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّ الْمَسْأَلَةَ تَحِلُّ بِالْفَقْرِ , وَالْغُرْمِ , فَذَلِكَ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّهَا تَحِلُّ بِهَذَيْنِ الْمَعْنَيَيْنِ خَاصَّةً , وَلَا يَخْتَلِفُ فِي ذَلِكَ حَالُ الزَّمِنِ وَلَا غَيْرِهِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসে ধনী দ্বারা ঐ ব্যক্তি উদ্দেশ্য, যে বর্তমানে সাহায্যের মুখাপেক্ষী ও অভাবী নয়, (যদিও সে নেসাবের মালিক ও সম্পদশালী নাও হয়।) এমন ব্যক্তির জন্য এবং ঐ সুস্থ-সবল ব্যক্তির জন্য, যে পরিশ্রম করে নিজের জীবিকা উপার্জন করতে পারে, এ হাদীসে সওয়াল করতে নিষেধ করা হয়েছে। সাধারণ নিয়ম ও মাসআলা এটাই যে, এমন ব্যক্তির জন্য কারো সামনে হাত পাতা উচিত নয়। হ্যাঁ, অভাব ও দারিদ্র্য যদি কাউকে একেবারে ধরাশায়ী করে দিয়ে থাকে আর সওয়াল ছাড়া তার অন্য কোন উপায় না থাকে অথবা কোন অর্থদণ্ড কিংবা কোন ভারী ঋণের বোঝা যদি তার উপর চেপে বসে থাকে এবং অন্যদের নিকট থেকে সাহায্য গ্রহণ ছাড়া এটা আদায় করতে না পারে, তাহলে এসব অবস্থায় তার জন্য সওয়াল করার ও সাহায্য প্রার্থনার অবকাশ রয়েছে।
হাদীসের শেষে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি প্রয়োজন ও অভাবের কারণে বাধ্য হয়ে নয়; বরং নিজের আর্থিক অবস্থা ভাল ও উন্নত করার জন্য অন্যের সামনে ভিক্ষার হাত প্রসারিত করে, তাকে কিয়ামতের দিন এ শাস্তি দেওয়া হবে যে, তার মুখমন্ডলে একটি বিশ্রী ক্ষত থাকবে। তাছাড়া ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে সে যা উপার্জন করেছিল সেটাকে জাহান্নামের উত্তপ্ত পাথর বানিয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে এটা ভক্ষণ করতে বাধ্য করা হবে।
হাদীসের শেষে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি প্রয়োজন ও অভাবের কারণে বাধ্য হয়ে নয়; বরং নিজের আর্থিক অবস্থা ভাল ও উন্নত করার জন্য অন্যের সামনে ভিক্ষার হাত প্রসারিত করে, তাকে কিয়ামতের দিন এ শাস্তি দেওয়া হবে যে, তার মুখমন্ডলে একটি বিশ্রী ক্ষত থাকবে। তাছাড়া ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে সে যা উপার্জন করেছিল সেটাকে জাহান্নামের উত্তপ্ত পাথর বানিয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে এটা ভক্ষণ করতে বাধ্য করা হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)