শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
২. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৮৩৭
নামাযের অধ্যায়
আসরের পর দু’রাক’আতে
১৮৩৭। আলী ইবন শায়বা (রাহঃ) ..... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আসরের সালাত আদায় করেন। তারপর আমার গৃহে প্রবেশ করে দু'রাক'আত (সালাত) আদায় করেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, এরূপ সালাত তো আপনি (কোন দিন), আদায় করেননি। তিনি বললেন, আমার নিকট সম্পদ এসেছিলো যা আমাকে যুহর পরবর্তী দু'রাক'আত থেকে বিরত রেখেছে, উক্ত দু'রাক'আত আমি এখন আদায় করছি। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, উক্ত দু'রাক'আত ছুটে গেলে আমরা কি তা কাযা করতে পারব ? তিনি বললেন, না। এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যুহর পরবর্তী দু'রাকআতকে আসরের পরে কাযা করতে নিষেধ করেছেন। এতে বুঝা গেল যে, উক্ত দু'রাক'আত কারো কাযা হয়ে গেলে এর বিধান রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর বিধানের পরিপন্থী (অর্থাৎ সুন্নতের কাযা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর জন্য নির্দিষ্ট)। অতএব আসর পরবর্তী দু'রাক'আত এবং আসর পরবর্তী নফল সালাত কারো জন্য কোন মতেই জায়িয নেই।
তাছাড়া এটি যুক্তিভিত্তিক দলীলও বটে। আর তা এভাবে যে, যুহর পরবর্তী দু'রাক'আত ফরয নয়, এ দু'রাক'আত যখন ছুটে যায় এবং আসরের সালাত আদায় করে নেয়া হয়। আসরের পর যদি উক্ত দু'রাক'আত আদায় করা হয়, তাহলে উক্ত দু'রাক'আতকে এমন সময়ে নফলরূপে পড়া হবে যা নফলের ওয়াক্ত নয়। এ কারণেই আমাদেরকে আসর পরবর্তী নফল (সালাত) থেকে নিষেধ করা হয়েছে। আর উক্ত দু'রাক'আত এবং অবশিষ্ট নফল সালাত এ ব্যাপারে সমান আর এটি-ই হচ্ছে, আবু হানীফা (রাহঃ), আবু ইউসুফ (রাহঃ) ও মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর উক্তি ও অভিমত।
তাছাড়া এটি যুক্তিভিত্তিক দলীলও বটে। আর তা এভাবে যে, যুহর পরবর্তী দু'রাক'আত ফরয নয়, এ দু'রাক'আত যখন ছুটে যায় এবং আসরের সালাত আদায় করে নেয়া হয়। আসরের পর যদি উক্ত দু'রাক'আত আদায় করা হয়, তাহলে উক্ত দু'রাক'আতকে এমন সময়ে নফলরূপে পড়া হবে যা নফলের ওয়াক্ত নয়। এ কারণেই আমাদেরকে আসর পরবর্তী নফল (সালাত) থেকে নিষেধ করা হয়েছে। আর উক্ত দু'রাক'আত এবং অবশিষ্ট নফল সালাত এ ব্যাপারে সমান আর এটি-ই হচ্ছে, আবু হানীফা (রাহঃ), আবু ইউসুফ (রাহঃ) ও মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর উক্তি ও অভিমত।
كتاب الصلاة
1837 - وَذَلِكَ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ شَيْبَةَ حَدَّثَنَا قَالَ: ثنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ , قَالَ: أنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ , عَنِ الْأَزْرَقِ بْنِ قَيْسٍ , عَنْ ذَكْوَانَ , عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ , قَالَتْ: " صَلَّى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْعَصْرَ , ثُمَّ دَخَلَ بَيْتِي , فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ , فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، صَلَّيْتَ صَلَاةً لَمْ تَكُنْ تُصَلِّيهَا , قَالَ: «قَدِمَ عَلَيَّ مَالٌ فَشَغَلَنِي عَنْ رَكْعَتَيْنِ كُنْتُ أُصَلِّيهِمَا بَعْدَ الظُّهْرِ فَصَلَّيْتُهُمَا الْآنَ» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ أَفَنَقْضِيهِمَا إِذَا فَاتَتَا , قَالَ: «لَا» فَنَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ أَحَدًا أَنْ يُصَلِّيَهُمَا بَعْدَ الْعَصْرِ قَضَاءً عَمَّا كَانَ يُصَلِّيهِ بَعْدَ الظُّهْرِ. فَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى , أَنَّ حُكْمَ غَيْرِهِ فِيهِمَا , إِذَا فَاتَتَاهُ خِلَافُ حُكْمِهِ , فَلَيْسَ لِأَحَدٍ أَنْ يُصَلِّيَهُمَا بَعْدَ الْعَصْرِ , وَلَا أَنْ يَتَطَوَّعَ بَعْدَ الْعَصْرِ أَصْلًا. وَهَذَا هُوَ النَّظَرُ أَيْضًا , وَذَلِكَ أَنَّ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ لَيْسَتَا فَرْضًا , فَإِذَا تُرِكَتَا حَتَّى يُصَلِّيَ صَلَاةَ الْعَصْرِ , فَإِنْ صُلِّيَتَا بَعْدَ ذَلِكَ فَإِنَّمَا تَطَوَّعَ بِهِمَا مُصَلِّيهِمَا فِي غَيْرِ وَقْتِ تَطَوُّعٍ فَلِذَلِكَ نَهَيْنَا أَحَدًا أَنْ يُصَلِّيَ بَعْدَ الْعَصْرِ تَطَوُّعًا وَجَعَلْنَا هَاتَيْنِ الرَّكْعَتَيْنِ وَغَيْرَهُمَا مِنْ سَائِرِ التَّطَوُّعِ فِي ذَلِكَ سَوَاءً. وَهَذَا قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ , وَأَبِي يُوسُفَ , وَمُحَمَّدٍ , رَحِمَهُمُ اللهُ تَعَالَى