শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
২. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৩৯১
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৯২
নামাযের অধ্যায়
২২-রূকু ও সিজ্দার সর্বনিম্ন পরিমান, যা অপেক্ষা কম জায়িজ নয়।
১৩৯১-১৩৯২। রবীউল মুয়াযযিন (রঃ).......ইব্ন মাসউদ (রাঃ) সূত্রে নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যদি রূকুতে তিনবার “সুবহানা রবিয়াল আযীম” পাঠ করে নেয় তবে তা রূকু পূর্ণ হলো। আর এ হলো সর্বনিম্ন পরিমাণ। এমনিভাবে কেউ যদি সিজ্দার মাঝে “সুবহানা রবিয়াল আ’লা” তিনবার পাঠ করে নেয় তবে তার সিজ্দাও পূর্ণ হলো। আর এ হলো সিজ্দার সর্বনিম্ন পরিমাণ।
আবু বাকর (রঃ)...…..ইব্ন আবী যি’ন (রঃ) থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন।
আবু জা’ফর তাহাবী (রঃ) বলেনঃ একদল আলিম এই মত গ্র্রহণ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, রূকু ও সিজ্দার সর্বনিম্ন পরিমাণ যা অপেক্ষা কম জায়েয নয়, তা হলো এটাই। তাঁরা এ বিষয়ে উল্লিখিত এই হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন।
পক্ষান্তরে এ বিষয়ে অপরাপর আলিমগণ তাদের বিরোধিতা করেছেন। তাঁরা বলেছেনঃ রূকুর পরিমাণ হলো রূকুতে সম্পূর্ণভাবে সোজা হয়ে যাওয়া এবং সিজ্দার পরিমাণ হলো, সিজ্দাকালে সিজ্দাতে সুস্থির হয়ে যাওয়া। এটাই হলো রূকু-সিজ্দার আবশ্যিক পরিমাণ। তাঁরা এ বিষেয়ে নিম্নোক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশ করেন ।
আবু বাকর (রঃ)...…..ইব্ন আবী যি’ন (রঃ) থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন।
আবু জা’ফর তাহাবী (রঃ) বলেনঃ একদল আলিম এই মত গ্র্রহণ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, রূকু ও সিজ্দার সর্বনিম্ন পরিমাণ যা অপেক্ষা কম জায়েয নয়, তা হলো এটাই। তাঁরা এ বিষয়ে উল্লিখিত এই হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন।
পক্ষান্তরে এ বিষয়ে অপরাপর আলিমগণ তাদের বিরোধিতা করেছেন। তাঁরা বলেছেনঃ রূকুর পরিমাণ হলো রূকুতে সম্পূর্ণভাবে সোজা হয়ে যাওয়া এবং সিজ্দার পরিমাণ হলো, সিজ্দাকালে সিজ্দাতে সুস্থির হয়ে যাওয়া। এটাই হলো রূকু-সিজ্দার আবশ্যিক পরিমাণ। তাঁরা এ বিষেয়ে নিম্নোক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশ করেন ।
كتاب الصلاة
بَابُ مِقْدَارِ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ الَّذِي لَا يُجْزِئُ أَقَلُّ مِنْهُ
1391 - حَدَّثَنَا رَبِيعٌ الْمُؤَذِّنُ , قَالَ: ثنا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ: ثنا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ , عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَوْنِ بْنِ عَبْدِ اللهِ , عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: " إِذَا قَالَ أَحَدُكُمْ فِي رُكُوعِهِ: سُبْحَانَ رَبِّي الْعَظِيمِ ثَلَاثًا , فَقَدْ تَمَّ رُكُوعُهُ وَذَلِكَ أَدْنَاهُ , وَإِذَا قَالَ فِي سُجُودِهِ: سُبْحَانَ رَبِّي الْأَعْلَى ثَلَاثًا فَقَدْ تَمَّ سُجُودُهُ وَذَلِكَ أَدْنَاهُ "
1392 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: ثنا أَبُو عَامِرٍ , قَالَ: ثنا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ , فَذَكَرَ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَذَهَبَ قَوْمٌ إِلَى هَذَا فَقَالُوا: مِقْدَارُ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ الَّذِي لَا يُجْزِئُ أَقَلُّ مِنْ هَذَا وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ بِهَذَا الْحَدِيثِ وَخَالَفَهُمْ فِي ذَلِكَ آخَرُونَ فَقَالُوا: مِقْدَارُ الرُّكُوعِ أَنْ يَرْكَعَ حَتَّى يَسْتَوِيَ رَاكِعًا وَمِقْدَارُ السُّجُودِ أَنْ يَسْجُدَ حَتَّى يَطْمَئِنَّ سَاجِدًا , فَهَذَا مِقْدَارُ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ الَّذِي لَا بُدَّ مِنْهُ. وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ
1392 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: ثنا أَبُو عَامِرٍ , قَالَ: ثنا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ , فَذَكَرَ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَذَهَبَ قَوْمٌ إِلَى هَذَا فَقَالُوا: مِقْدَارُ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ الَّذِي لَا يُجْزِئُ أَقَلُّ مِنْ هَذَا وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ بِهَذَا الْحَدِيثِ وَخَالَفَهُمْ فِي ذَلِكَ آخَرُونَ فَقَالُوا: مِقْدَارُ الرُّكُوعِ أَنْ يَرْكَعَ حَتَّى يَسْتَوِيَ رَاكِعًا وَمِقْدَارُ السُّجُودِ أَنْ يَسْجُدَ حَتَّى يَطْمَئِنَّ سَاجِدًا , فَهَذَا مِقْدَارُ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ الَّذِي لَا بُدَّ مِنْهُ. وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসের মর্ম হচ্ছে এই যে, রুকু সিজদায় যদি তিনবারের কম তাসবীহ্ পাঠ করা হয় তাতেও রুকু-সিজদা আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু তাতে কিছুটা অপূর্ণতা থেকে যায়, পূর্ণরূপে আদায়ের জন্য কমপক্ষে তিনবার তাসবীহ্ পাঠ করা জরুরী এবং এর চেয়ে বাড়িয়ে বলা আরো ভালো। তবে রুকু-সিজদা এমন দীর্ঘ ইমামের জন্য সমীচীন নয় যা মুক্তাদীদের কষ্টের কারণ হয়। বিশিষ্ট তাবিঈ হযরত সাঈদ ইবনে জুবায়র (র) থেকে ইমাম আবু দাউদ ও নাসায়ী (র) বর্ণনা করেন যে, হযরত আনাস (রা) উমর ইবনে আবদুল আযীয (র) সম্পর্কে বলেছেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সালাতের সাথে এই যুবকের সালাতের পূর্ণ সামঞ্জস্য রয়েছে। ইবনে যুবায়র (রা) বলেন, আমরা উমর ইবনে আবদুল আযীযের রুকু-সিজদার তাসবীহর পরিমাণ আন্দায করলাম যে তিনি প্রায় দশবার তসবীহ্ পড়েন। এ ঘটনা থেকে পরিষ্কার জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺও রুক্ সিজদায় প্রায় দশবার তাসবীহ পাঠ করতেন। এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি সালাতে ইমামতি করে সে যেন কমপক্ষে তিনবার এবং বেশির পক্ষে দশবার তাসবীহ্ পাঠ করে।
উল্লিখিত হাদীস থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ রুকূতে 'সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম' এবং সিজদায় 'সুবহানা রাব্বিয়াল আলা' পাঠ করার ব্যাপারে উম্মাতকে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তাঁর নিজের আমল এ এরূপই ছিল। অন্যান্য হাদীসে রুকু-সিজদারত অবস্থায় তাসবীহ্'র এ শব্দগুচ্ছের স্থলে অন্যান্য দু'আ ও তাসবীহ্ পাঠ করার বিষয়ও রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে প্রমাণ রয়েছে।
উল্লিখিত হাদীস থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ রুকূতে 'সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম' এবং সিজদায় 'সুবহানা রাব্বিয়াল আলা' পাঠ করার ব্যাপারে উম্মাতকে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তাঁর নিজের আমল এ এরূপই ছিল। অন্যান্য হাদীসে রুকু-সিজদারত অবস্থায় তাসবীহ্'র এ শব্দগুচ্ছের স্থলে অন্যান্য দু'আ ও তাসবীহ্ পাঠ করার বিষয়ও রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে প্রমাণ রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)