শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
২. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ১০৯৬
ফজরের সালাত কখন আদায় করা (মুস্তাহাব)
১০৯৬। ইবন আবী দাউদ (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, প্রথমে সালাত দুই দুই রাক'আত ফরয হয়েছে। যখন নবী (ﷺ) মদীনা আগমন করেন তখন মাগরিব ও ফজরের সালাত ব্যতীত প্রত্যেক সালাতের সঙ্গে অনুরূপ (আরো দুই) রাক'আত মিলিয়ে দেয়া হয়। যেহেতু মাগরিব হল বে-জোড় এবং ফজরের সালাতে দীর্ঘ কিরাআতের কারণে (পূর্বের মত রেখে দেয়া হয়)। আর যখন তিনি সফর করতেন তখন তিনি তাঁর প্রথম সালাতের (দুই রাক'আতের) দিকে ফিরে যেতেন।
আয়েশা (রাযিঃ)-এর বক্তব্যের ব্যাখ্যা
এই হাদীসে আয়েশা (রাযিঃ) ব্যক্ত করেন যে, সালাত পূর্ণ হওয়ার পূর্বে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ওইভাবে সালাত আদায় করতেন যেভাবে তিনি সফর অবস্থায় পড়েন। মুসাফিরের জন্য সালাতে সহজীকরণের বিধান রয়েছে। তারপর কতিপয় সালাতে সংযোজন এবং কিছুতে দীর্ঘ কিরায়াতের হুকুম দেয়া হয়েছে। সুতরাং সম্ভবত তাঁর আঁধারে সালাত আদায় করা এবং মহিলাদের সালাত থেকে সেই সময় বাড়ি প্রত্যাবর্তন করা যে আঁধারের কারণে তাদের চেনা না যাওয়া এটা সেই সময়ের ব্যাপার যখন তিনি বর্তমানে সফরের সালাতের ন্যায় সালাত আদায় করতেন। এরপর তাতে দীর্ঘ কিরাআতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর হতে পারে তিনি আবাসের অবস্থায় দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করতেন এবং সফর অবস্থায় সংক্ষিপ্তভাবে পাঠ করতেন। তিনি বলেছেন, ফজরের সালাত ফর্সা কর অর্থাৎ তাতে দীর্ঘ কিরাআত পাঠ কর। পক্ষান্তরে এর এই মর্ম নয় ফর্সা অবস্থার শেষ সময় সালাত আরম্ভ কর। বরং এর মর্ম হল ফর্সা অবস্থায় তা শেষ কর। এর দ্বারা সাব্যস্ত হল যে, আমাদের উল্লিখিত রিওয়ায়াত দ্বারা আয়েশা (রাযিঃ)-এর রিওয়ায়াত রহিত হয়ে গিয়েছে এবং এর সাথে সাথে পরবর্তীতে সাহাবীগণের আমলও এ কথার প্রমাণ বহন করে যে, তাঁরা ফর্সার ওয়াক্তে সালাত শেষ করে ফিরে যেতেন। আর এ ব্যাপারে তাঁদের ঐকমত্য রয়েছে। এমন কি ইবরাহীম নাখঈ (রাহঃ) বলেছেন, যা আমাদেরকে (নিম্নোক্ত রিওয়ায়াতে) মুহাম্মাদ ইব্ন খুযায়মা (রাহঃ) বর্ণনা করেছেন :
আয়েশা (রাযিঃ)-এর বক্তব্যের ব্যাখ্যা
এই হাদীসে আয়েশা (রাযিঃ) ব্যক্ত করেন যে, সালাত পূর্ণ হওয়ার পূর্বে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ওইভাবে সালাত আদায় করতেন যেভাবে তিনি সফর অবস্থায় পড়েন। মুসাফিরের জন্য সালাতে সহজীকরণের বিধান রয়েছে। তারপর কতিপয় সালাতে সংযোজন এবং কিছুতে দীর্ঘ কিরায়াতের হুকুম দেয়া হয়েছে। সুতরাং সম্ভবত তাঁর আঁধারে সালাত আদায় করা এবং মহিলাদের সালাত থেকে সেই সময় বাড়ি প্রত্যাবর্তন করা যে আঁধারের কারণে তাদের চেনা না যাওয়া এটা সেই সময়ের ব্যাপার যখন তিনি বর্তমানে সফরের সালাতের ন্যায় সালাত আদায় করতেন। এরপর তাতে দীর্ঘ কিরাআতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর হতে পারে তিনি আবাসের অবস্থায় দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করতেন এবং সফর অবস্থায় সংক্ষিপ্তভাবে পাঠ করতেন। তিনি বলেছেন, ফজরের সালাত ফর্সা কর অর্থাৎ তাতে দীর্ঘ কিরাআত পাঠ কর। পক্ষান্তরে এর এই মর্ম নয় ফর্সা অবস্থার শেষ সময় সালাত আরম্ভ কর। বরং এর মর্ম হল ফর্সা অবস্থায় তা শেষ কর। এর দ্বারা সাব্যস্ত হল যে, আমাদের উল্লিখিত রিওয়ায়াত দ্বারা আয়েশা (রাযিঃ)-এর রিওয়ায়াত রহিত হয়ে গিয়েছে এবং এর সাথে সাথে পরবর্তীতে সাহাবীগণের আমলও এ কথার প্রমাণ বহন করে যে, তাঁরা ফর্সার ওয়াক্তে সালাত শেষ করে ফিরে যেতেন। আর এ ব্যাপারে তাঁদের ঐকমত্য রয়েছে। এমন কি ইবরাহীম নাখঈ (রাহঃ) বলেছেন, যা আমাদেরকে (নিম্নোক্ত রিওয়ায়াতে) মুহাম্মাদ ইব্ন খুযায়মা (রাহঃ) বর্ণনা করেছেন :
1096 - فَإِنَّهُ قَدْ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي دَاوُدَ قَالَ: ثنا أَبُو عُمَرَ الْحَوْضِيُّ , قَالَ: ثنا مُرَجَّى بْنُ رَجَاءٍ , قَالَ: ثنا دَاوُدُ , عَنِ الشَّعْبِيِّ , عَنْ مَسْرُوقٍ , عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ " أَوَّلُ مَا فُرِضَتِ الصَّلَاةُ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ فَلَمَّا قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ وَصَلَ إِلَى كُلِّ صَلَاةٍ مِثْلَهَا غَيْرَ الْمَغْرِبِ فَإِنَّهُ وِتْرٌ , وَصَلَاةُ الصُّبْحِ لِطُولِ قِرَاءَتِهَا وَكَانَ إِذَا سَافَرَ عَادَ إِلَى صَلَاتِهِ الْأُولَى فَأَخْبَرَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا فِي هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي قَبْلَ أَنْ يُتِمَّ الصَّلَاةَ , عَلَى مِثَالِ مَا يُصَلِّي إِذَا سَافَرَ وَحُكْمُ الْمُسَافِرِ تَخْفِيفُ الصَّلَاةِ , ثُمَّ أُحْكِمَ بَعْدَ ذَلِكَ , فَزِيدَ فِي بَعْضِ الصَّلَوَاتِ , وَأُمِرَ بِإِطَالَةِ بَعْضِهَا. فَيَجُوزُ وَاللهُ أَعْلَمُ أَنْ يَكُونَ مَا كَانَ يَفْعَلُ مِنْ تَغْلِيسِهِ بِهَا , وَانْصِرَافِ النِّسَاءِ مِنْهَا وَلَا يُعْرَفْنَ مِنَ الْغَلَسِ كَانَ ذَلِكَ فِي الْوَقْتِ الَّذِي كَانَ يُصَلِّيهَا فِيهِ عَلَى مِثْلِ مَا يُصَلِّي فِيهِ الْآنَ فِي السَّفَرِ ثُمَّ أُمِرَ بِإِطَالَةِ الْقِرَاءَةِ فِيهَا وَأَنْ يَكُونَ مَفْعُولَهُ فِي الْحَضَرِ بِخِلَافِ مَا يَفْعَلُ فِي السَّفَرِ مِنْ إِطَالَةِ هَذِهِ , وَتَخْفِيفِ هَذِهِ وَقَالَ: «أَسْفِرُوا بِالْفَجْرِ» أَيْ أَطِيلُوا الْقِرَاءَةَ فِيهَا. لَيْسَ ذَلِكَ عَلَى أَنْ يَدْخُلُوا فِيهَا فِي آخِرِ وَقْتِ الْإِسْفَارِ وَلَكِنْ يَخْرُجُوا مِنْهَا فِي وَقْتِ الْإِسْفَارِ. فَثَبَتَ بِذَلِكَ نَسْخُ مَا رَوَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا بِمَا ذَكَرْنَا , مَعَ مَا قَدْ دَلَّ عَلَى ذَلِكَ أَيْضًا مِنْ فِعْلِ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ بَعْدِهِ فِي إِصَابَتِهِمُ الْإِسْفَارَ فِي وَقْتِ انْصِرَافِهِمْ مِنْهَا , وَاتِّفَاقِهِمْ عَلَى ذَلِكَ. حَتَّى لَقَدْ قَالَ: إِبْرَاهِيمُ النَّخَعِيُّ
