শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

২. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১০৯৫
ফজরের সালাত কখন আদায় করা (মুস্তাহাব)
১০৯৫। আহমদ ইব্‌ন দাউদ (রাহঃ)...... যুবাইর ইবন নুফায়র (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, একবার আমাদেরকে নিয়ে মুআ'বিয়া (রাযিঃ) ফজরের সালাত আঁধারে আদায় করলেন। এতে আবুদ্ দারদা (রাযিঃ) বললেন, এই সালাতকে ফর্সা করে পড়, এটা তোমাদের জন্য অধিক শিক্ষার কারণ। পক্ষান্তরে তোমরা নিজেদের প্রয়োজনে তাড়াতাড়ি অবসর হতে চাচ্ছ।

বিশ্লেষণ
আমাদের মতে এটা (আল্লাহ্ই উত্তমরূপে জ্ঞাত) আবুদ দারদা (রাযিঃ) কর্তৃক তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জ্ঞাপন এ জন্য ছিল যে, তাঁরা ফর্সা হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করেননি, আঁধারে সালাত আরম্ভ করেছেন বলে প্রতিবাদ করেননি।

অতএব আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাহাবীদের থেকে যা রিওয়ায়াত করেছি তা হল ফর্সা হওয়া অবস্থায় তাঁরা সালাত থেকে অবসর হতেন। এর সাথে আমরা এটাও রিওয়ায়াত করেছি যে, তিনি (ﷺ) ওই সালাতে দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করতেন। এতে সব্যাস্ত হল যে, ফজরের সালাতে তা (ফর্সা করা) পরিত্যাগ করা কারো জন্য সমীচীন নয়। আর আঁধারে এই সালাত এরূপভাবে পড়া যেতে পারে যে, এর সাথে আলোও মিলিত হবে। আঁধার হবে সালাতের সূচনায় এবং আলো হবে সালাতের সমাপ্তিতে।

যদি কোন ব্যক্তি প্রশ্ন উত্থাপন করে বলে যে, আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত এই হাদীসের মর্ম হবে কি যাতে তিনি বলছেন, “মহিলাগণ নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে ফজরের সালাত আদায় করতেন। তারপর তাঁরা (বাড়ি) ফিরতেন আর আঁধারের কারণে তাদেরকে চেনা যেত না"? উত্তরে তাকে বলা হবে: সম্ভবত এটা তাতে দীর্ঘ কিরাআতের বিধান চালু হওয়ার পূর্ববর্তী ঘটনা ।
1095 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ دَاوُدَ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ: ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالَ: ثنا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، قَالَ: صَلَّى بِنَا مُعَاوِيَةُ الصُّبْحَ بِغَلَسٍ فَقَالَ: أَبُو الدَّرْدَاءِ " أَسْفِرُوا بِهَذِهِ الصَّلَاةِ فَإِنَّهُ أَفْقَهُ لَكُمْ , إِنَّمَا تُرِيدُونَ أَنْ تُخَلُّوا بِحَوَائِجِكُمْ فَهَذَا عِنْدَنَا - وَاللهُ تَعَالَى أَعْلَمُ - مِنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ عَلَى إِنْكَارِهِ عَلَيْهِمْ تَرْكَ الْمَدِّ بِالْقِرَاءَةِ إِلَى وَقْتِ الْإِسْفَارِ لَا عَلَى إِنْكَارِهِ عَلَيْهِمْ وَقْتَ الدُّخُولِ فِيهَا. فَلَمَّا كَانَ مَا رَوَيْنَا عَنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ الْإِسْفَارُ الَّذِي يَكُونُ الِانْصِرَافُ مِنَ الصَّلَاةِ فِيهِ , مَعَ مَا رَوَيْنَا عَنْهُ مِنْ إِطَالَةِ الْقِرَاءَةِ فِي تِلْكَ الصَّلَاةِ , ثَبَتَ أَنَّ الْإِسْفَارَ بِصَلَاةِ الصُّبْحِ لَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ تَرْكُهُ , وَأَنَّ التَّغْلِيسَ لَا يُفْعَلُ إِلَّا وَمَعَهُ الْإِسْفَارُ , فَيَكُونُ هَذَا فِي أَوَّلِ الصَّلَاةِ , وَهَذَا فِي آخِرِهَا. فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: فَمَا مَعْنَى مَا رُوِيَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا «أَنَّ النِّسَاءَ كُنَّ يُصَلِّينَ الصُّبْحَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , ثُمَّ يَنْصَرِفْنَ وَمَا يُعْرَفْنَ مِنَ الْغَلَسِ» . قِيلَ لَهُ يُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ هَذَا قَبْلَ أَنْ يُؤْمَرَ بِإِطَالَةِ الْقِرَاءَةِ فِيهَا
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
ত্বহাবী শরীফ - হাদীস নং ১০৯৫ | মুসলিম বাংলা