শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১. পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়
হাদীস নং: ৬৭০
আন্তর্জাতিক নং: ৬৭১
পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়
তায়াম্মুমের পদ্ধতি কিরূপ
৬৭০-৬৭১। আবু বাকরা (রাহঃ)....... ইবন আবী আব্দির রহমান ইবন আবযা তাঁর পিতা থেকে রিওয়ায়াত করেন যে, একবার জনৈক ব্যক্তি উমার (রাযিঃ)-এর দরবারে এসে বলল, আমি এক সফরে ছিলাম, জুনুৰী (অপবিত্র) হয়েছি কিন্তু আমি পানি পেলাম না। উমার (রাযিঃ) বললেন, তুমি সালাত আদায় করো না। তখন আম্মার (রাযিঃ) বললেন, হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনার স্মরণ আছে কি? একবার আমি এবং আপনি এক যুদ্ধে ছিলাম আর আমরা জানাবাতগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিলাম; কিন্তু পানি পাচ্ছিলাম না। তখন আপনি সালাত আদায় করলেন না। কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম। পরবর্তীতে যখন আমরা নবী (ﷺ) -এর নিকট এলাম এবং তাঁকে তা বর্ণনা করলাম, তিনি বললেন, তোমার জন্য এই যথেষ্ট ছিল- এ বলে তিনি হাত দ্বারা ইশারা করে মাটিতে মারলেন এবং উভয় হাতে ফুঁক দিলেন তারপর উভয় হাত দ্বারা আপন মুখমণ্ডল ও দুই হাত কবজি পর্যন্ত মাসেহ করলেন।
ব্যাখ্যা
সুতরাং আম্মার (রাযিঃ) তায়াম্মুমের উদ্দেশ্যে যে মাটিতে গড়াগড়ি দেন তাঁর এ আমল তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল হওয়ার পরে হলেও আমাদের মতে তিনি এরূপ এ জন্য করেছেন (আল্লাহ্ ভালভাবে জ্ঞাত) তিনি জানাবাতের জন্য তায়াম্মুমকে হাদাসের তায়াম্মুম থেকে পৃথক মনে করতেন। অবশেষে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে শিক্ষা দিলেন, যে উভয় তায়াম্মুম অভিন্ন।
আবু বাকরা (রাযিঃ).....আম্মার (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, তায়াম্মুম কনুই পর্যন্ত । তিনি হাদীসটি মারফু হিসাবে বর্ণনা করেননি।
ব্যাখ্যা
সুতরাং আম্মার (রাযিঃ) তায়াম্মুমের উদ্দেশ্যে যে মাটিতে গড়াগড়ি দেন তাঁর এ আমল তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল হওয়ার পরে হলেও আমাদের মতে তিনি এরূপ এ জন্য করেছেন (আল্লাহ্ ভালভাবে জ্ঞাত) তিনি জানাবাতের জন্য তায়াম্মুমকে হাদাসের তায়াম্মুম থেকে পৃথক মনে করতেন। অবশেষে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে শিক্ষা দিলেন, যে উভয় তায়াম্মুম অভিন্ন।
আবু বাকরা (রাযিঃ).....আম্মার (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, তায়াম্মুম কনুই পর্যন্ত । তিনি হাদীসটি মারফু হিসাবে বর্ণনা করেননি।
كتاب الطهارة
670 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرَةَ، قَالَ: ثنا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ: ثنا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، قَالَ: سَمِعْتُ ذَرَّ بْنَ عَبْدِ اللهِ، يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ: أَنَّ رَجُلًا، أَتَى عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فَقَالَ: إِنِّي كُنْتُ فِي سَفَرٍ , فَأَجْنَبْتُ , فَلَمْ أَجِدِ الْمَاءَ. فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: لَا تُصَلِّ، فَقَالَ عَمَّارٌ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ , أَمَا تَذْكُرُ أَنِّي كُنْتُ أَنَا وَإِيَّاكَ فِي سَرِيَّةٍ , فَأَجْنَبْنَا , فَلَمْ نَجِدِ الْمَاءَ , فَأَمَّا أَنْتَ فَلَمْ تُصَلِّ , وَأَمَّا أَنَا فَتَمَرَّغْتُ فِي التُّرَابِ. فَأَتَيْنَا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرْنَاهُ , فَقَالَ: " أَمَّا أَنْتَ , فَكَانَ يَكْفِيكَ، وَقَالَ: بِيَدَيْهِ , فَضَرَبَ بِهِمَا , وَنَفَخَ فِيهِمَا , وَمَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ " فَفَعَلَ عَمَّارٌ، إِذْ تَمَرَّغَ، يُرِيدُ بِذَلِكَ , التَّيَمُّمَ , وَإِنْ كَانَ ذَلِكَ بَعْدَ نُزُولِ الْآيَةِ , فَإِنَّمَا كَانَ ذَلِكَ مِنْهُ، عِنْدَنَا، وَاللهُ أَعْلَمُ؛ لِأَنَّهُ عَمِلَ عَلَى أَنَّ التَّيَمُّمَ لِلْجَنَابَةِ , غَيْرُ التَّيَمُّمِ لِلْحَدَثِ ; حَتَّى عَلَّمَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُمَا سَوَاءٌ
671 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرَةَ، قَالَ: ثنا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ: ثنا زَائِدَةُ، وَشُعْبَةُ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ، عَنْ عَمَّارٍ، أَنَّهُ قَالَ: (إِلَى الْمُفَصَّلِ) وَلَمْ يَرْفَعْهُ
671 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرَةَ، قَالَ: ثنا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ: ثنا زَائِدَةُ، وَشُعْبَةُ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ، عَنْ عَمَّارٍ، أَنَّهُ قَالَ: (إِلَى الْمُفَصَّلِ) وَلَمْ يَرْفَعْهُ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উপরে বর্ণিত হাদীসে যে ঘটনা বিবৃত হয়েছে তাতে হযরত উমর (রা)-এর সালাত আদায় না করার ব্যাপারে ভাষ্যকারগণ বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তম্মধ্যে সবচেয়ে সহজ ব্যাখ্যা হচ্ছে এই যে, সম্ভবত তিনি পানি প্রাপ্তির লক্ষ্যে প্রতীক্ষা করছিলেন এবং এ ব্যাপারে খানিকটা আশাবাদীও ছিলেন। এ জন্যই তিনি ঐ সময় তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করা সমীচীন মনে করেননি। আর হযরত আম্মার (রা) তখনও জানতেন না যে, নাপাকীর গোসলের জন্য যে তায়াম্মুম করতে হয় তাও উযূর মত। এজন্য তিনি নিজ ইজতিহাদের নিরিখে মাটিতে গড়াগড়ি করেন। তারপর যখন তিনি তাঁর অবস্থা রাসূলুল্লাহ ﷺ কে অবহিত করেন, তখন তিনি তার ভুল সংশোধন করে দেন এবং বলেন, উযূর বিপরীতে তায়াম্মুমে যে সকল অঙ্গ মাসেহ করতে হয়, নাপাকীর গোসলের বিপরীতেও ঠিক একইভাবে যে সব মাসেহ করে নিতে হয়। হযরত আম্মার (রা) উযূর বিপরীতে তায়াম্মুম সম্পর্কীয় বিষয় অবহিত ছিলেন। এজন্যই রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে সে ব্যাপারে শুধু ইঙ্গিত করলেন।
হযরত আম্মার (রা) বর্ণিত এ হাদীস থেকে এও জানা যায় যে, তায়াম্মুমে ধূলা বিযুক্ত হাত দ্বারা চেহারা মাসেহ করা করা জরুরী নয়। বরং মাটিতে হাত রাখার পর উক্ত ধূলা ফুঁক দিয়ে মাসেহ করাই উত্তম।
হযরত আম্মার (রা) বর্ণিত এ হাদীস থেকে এও জানা যায় যে, তায়াম্মুমে ধূলা বিযুক্ত হাত দ্বারা চেহারা মাসেহ করা করা জরুরী নয়। বরং মাটিতে হাত রাখার পর উক্ত ধূলা ফুঁক দিয়ে মাসেহ করাই উত্তম।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: