শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১. পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়
হাদীস নং: ২০১
অনুচ্ছেদঃ নামাযের উযূতে পা ধােয়া ফরয হওয়া প্রসঙ্গে
২০১.আবু বাকরা (রাহঃ) ......... আবু আওয়ানা (রাহঃ) থেকে অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।
ইমাম আবু জা’ফর তাহাবী (রাহঃ) বলেনঃ আব্দুল্লাহ্ ইব্ন আমর (রাযিঃ) উল্লেখ করেছেন যে, তাঁরা (সাহাবীগণ পা) মাসেহ্ করতেন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ ﷺ তাঁদেরকে উযূ পূর্ণ করার নির্দেশ দিলেন এবং তাঁদেরকে ভয় প্রদর্শনপূর্বক বললেনঃ গােড়ালির (যা-ভিজেনি) জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি।
বস্তুত এটা প্রমাণ বহন করে যে, মাসেহের বিধান যা তাঁরা করতেন তাকে (পূর্বোল্লিখিত) পরবর্তী বিধান এসে রহিত করে দিয়েছে। আর এটাই হচ্ছে হাদীসের দিক দিয়ে এই অনুচ্ছেদের সঠিক বিশ্লেষণ।
ইমাম তাহাবী (রাহঃ)-এর যুক্তিভিত্তিক প্রমাণ
বস্তুত সংশ্লিষ্ট বিষয়ের যুক্তিভিত্তিক বিশ্লেষণ হল যে, আমরা এই অনুচ্ছেদের পূর্বে রাসূলুল্লাহ্ ﷺথেকে বর্ণিত সেই ব্যক্তির ছওয়াবের বিষয়টি উল্লেখ করেছি, যে উযূতে উভয় পা ধৌত করে। এতে সাব্যস্ত হল যে, এই দু’পা সেই সমস্ত অঙ্গসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা ধৌত করা হয়। এ দু'টি মাথার ন্যায় নয়, যা মাসেহ্ করা হয়। এর ধৌতকারীর জন্য কোনরূপ ছওয়াব নেই। বস্তুত এই সমস্ত হাদীস থেকে প্রমাণিত বিষয়টিই - ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ), ইমাম আবু ইউসুফ (রাহঃ) ও ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) এর অভিমত।
وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ আল্লাহ্ তা'য়ালার বাণী وَأَرْجُلَكُمْ -এর ব্যাখ্যায় আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। একদল আলিম এটিকে وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ -এর সঙ্গে সংযুক্ত করে। وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ (লাম অক্ষর যের দিয়ে) অভিন্ন অর্থে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছেন। (অর্থাৎ এবং তােমাদের মাথা মাসেহ্ করবে এবং পায়ের গিরা পর্যন্ত মাসেহ্ করবে)। পক্ষান্তরে অপর একদল আলিম এটাকে (আল্লাহ্ তা'আলার বাণী) فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ (তখন তােমরা তােমাদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে) এর সঙ্গে সংযুক্ত করে তাঁরা وَأَرْجُلَكُمْ (লাম অক্ষরে যবর দিয়ে) পড়েছেন। যাতে পরস্পরের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা হয়। অর্থাৎ তােমরা তােমাদের মুখমণ্ডল ধৌত করবে; তােমাদের হাত ধৌত করবে; তােমাদের পা ধৌত করবে। এতে পরস্পর সামঞ্জস্য রক্ষা করে واغْسِلُوا উহ্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী আলিমগণ মতবিরােধ করেছেন। এ বিষয়ে তাদের থেকে বর্ণিত কিছু হাদীস নিম্নরূপঃ
ইমাম আবু জা’ফর তাহাবী (রাহঃ) বলেনঃ আব্দুল্লাহ্ ইব্ন আমর (রাযিঃ) উল্লেখ করেছেন যে, তাঁরা (সাহাবীগণ পা) মাসেহ্ করতেন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ ﷺ তাঁদেরকে উযূ পূর্ণ করার নির্দেশ দিলেন এবং তাঁদেরকে ভয় প্রদর্শনপূর্বক বললেনঃ গােড়ালির (যা-ভিজেনি) জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি।
বস্তুত এটা প্রমাণ বহন করে যে, মাসেহের বিধান যা তাঁরা করতেন তাকে (পূর্বোল্লিখিত) পরবর্তী বিধান এসে রহিত করে দিয়েছে। আর এটাই হচ্ছে হাদীসের দিক দিয়ে এই অনুচ্ছেদের সঠিক বিশ্লেষণ।
ইমাম তাহাবী (রাহঃ)-এর যুক্তিভিত্তিক প্রমাণ
বস্তুত সংশ্লিষ্ট বিষয়ের যুক্তিভিত্তিক বিশ্লেষণ হল যে, আমরা এই অনুচ্ছেদের পূর্বে রাসূলুল্লাহ্ ﷺথেকে বর্ণিত সেই ব্যক্তির ছওয়াবের বিষয়টি উল্লেখ করেছি, যে উযূতে উভয় পা ধৌত করে। এতে সাব্যস্ত হল যে, এই দু’পা সেই সমস্ত অঙ্গসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা ধৌত করা হয়। এ দু'টি মাথার ন্যায় নয়, যা মাসেহ্ করা হয়। এর ধৌতকারীর জন্য কোনরূপ ছওয়াব নেই। বস্তুত এই সমস্ত হাদীস থেকে প্রমাণিত বিষয়টিই - ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ), ইমাম আবু ইউসুফ (রাহঃ) ও ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) এর অভিমত।
وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ আল্লাহ্ তা'য়ালার বাণী وَأَرْجُلَكُمْ -এর ব্যাখ্যায় আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। একদল আলিম এটিকে وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ -এর সঙ্গে সংযুক্ত করে। وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ (লাম অক্ষর যের দিয়ে) অভিন্ন অর্থে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছেন। (অর্থাৎ এবং তােমাদের মাথা মাসেহ্ করবে এবং পায়ের গিরা পর্যন্ত মাসেহ্ করবে)। পক্ষান্তরে অপর একদল আলিম এটাকে (আল্লাহ্ তা'আলার বাণী) فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ (তখন তােমরা তােমাদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে) এর সঙ্গে সংযুক্ত করে তাঁরা وَأَرْجُلَكُمْ (লাম অক্ষরে যবর দিয়ে) পড়েছেন। যাতে পরস্পরের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা হয়। অর্থাৎ তােমরা তােমাদের মুখমণ্ডল ধৌত করবে; তােমাদের হাত ধৌত করবে; তােমাদের পা ধৌত করবে। এতে পরস্পর সামঞ্জস্য রক্ষা করে واغْسِلُوا উহ্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী আলিমগণ মতবিরােধ করেছেন। এ বিষয়ে তাদের থেকে বর্ণিত কিছু হাদীস নিম্নরূপঃ
باب فرض الرجلين في وضوء الصلاة
201 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرَةَ، قَالَ: ثنا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ: ثنا أَبُو عَوَانَةَ، فَذَكَرَ مِثْلَهُ. قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَذَكَرَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَمْرٍو أَنَّهُمْ كَانُوا يَمْسَحُونَ حَتَّى أَمَرَهُمْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِإِسْبَاغِ الْوُضُوءِ وَخَوَّفَهُمْ فَقَالَ: «وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ» فَدَلَّ ذَلِكَ أَنَّ حُكْمَ الْمَسْحِ الَّذِي كَانُوا يَفْعَلُونَهُ قَدْ نَسَخَهُ مَا تَأَخَّرَ عَنْهُ مِمَّا ذَكَرْنَا , فَهَذَا حُكْمُ هَذَا الْبَابِ مِنْ طَرِيقِ الْآثَارِ. وَأَمَّا وَجْهُهُ مِنْ طَرِيقِ النَّظَرِ فَإِنَّا قَدْ ذَكَرْنَا فِيمَا تَقَدَّمَ مِنْ هَذَا الْبَابِ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا لِمَنْ غَسَلَ رِجْلَيْهِ فِي وُضُوئِهِ مِنَ الثَّوَابِ , فَثَبَتَ بِذَلِكَ أَنَّهُمَا مِمَّا يُغْسَلُ وَأَنَّهُمَا لَيْسَتَا كَالرَّأْسِ الَّذِي يُمْسَحُ وَغَاسِلُهُ لَا ثَوَابَ لَهُ فِي غَسْلِهِ. وَهَذَا الَّذِي ثَبَتَ بِهَذِهِ الْآثَارِ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ , وَأَبِي يُوسُفَ , وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمُ اللهُ، وَقَدِ اخْتَلَفَ النَّاسُ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: { «وَأَرْجُلَكُمْ» } [المائدة: 6] فَأَضَافَهُ قَوْمٌ إِلَى قَوْلِهِ تَعَالَى { «وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ» } قَصْرًا عَلَى مَعْنَى «وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ» . وَأَضَافَهُ قَوْمٌ إِلَى قَوْلِهِ {فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ} [المائدة: 6] فَقَرَءُوا {وَأَرْجُلَكُمْ} [المائدة: 6] نَسَقًا عَلَى قَوْلِهِ: فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَاغْسِلُوا أَيْدِيَكُمْ وَاغْسِلُوا أَرْجُلَكُمْ عَلَى الْإِضْمَارِ وَالنَّسَقِ. وَقَدِ اخْتَلَفَ فِي ذَلِكَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَنْ دُونَهُمْ. فَمِمَّا رُوِيَ عَنْهُمْ فِي ذَلِكَ
