শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১. পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়
হাদীস নং: ২৯
পানিতে নাপাকী পড়লে কী করণীয়ঃ
২৯. রবীউল মুয়াযযিন (রাহঃ)...... হাম্মাদ ইব্ন সালামা (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তা রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ পর্যন্ত অনুরূপ পৌঁছাননি; বরং তিনি তা আব্দুল্লাহ্ ইবন উমার থেকে মাওকৃফ রূপে বর্ণনা করেছেন।
এই সমস্ত মনীষী বলেছেনঃ যখন পানি এই পরিমাণ পৌছাবে, তখন এতে পতিত নাজাসাত এর ক্ষতি করবে না । কিন্তু সেটি যদি এর গন্ধ বা স্বাদ বা রং এর উপর প্রভাব ফেলে (তাহলে নাপাক হয়ে যাবে)। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁরা ইবন উমার (রাযিঃ)-এর এই হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন। কিন্তু এই প্রমাণ স্বয়ং তাদের বিরুদ্ধে সেই সমস্ত লোকদের প্রমাণ হিসাবে বিবেচিত হবে যারা বলে যে, হাদীসসমূহে দুই কুল্লার পরিমাণ আমাদের জন্য ব্যাখ্যা করা হয়নি। অতএব এর পরিমাণ হিজর এলাকার দুই মটকার সমান হওয়ার সম্ভাবনা আছে, যেমন আপনারা উল্লেখ করেছেন। আবার এ সম্ভাবনাও আছে যে এর দ্বারা মানুষের দেহের উচ্চতা বুঝানো হয়েছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে, যখন পানি দুই দেহের উচ্চতার সমান হয়ে যায়, তখন আধিক্যের কারণে তা নাপাকি বহন করবে না, যেহেতু এই অবস্থায় তা নদীর (পানির) সমপর্যায়ে বিবেচিত হবে।
কেউ যদি প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন যে, আমাদের মতে হাদীসের বাহ্যিক অর্থই গ্রহণযোগ্য। আর মটকা দ্বারা হিজাযের প্রসিদ্ধ মটকা-ই বুঝানো হয়েছে
উত্তরে বলা হবে ঃ আপনাদের বক্তব্য মুতাবিক যদি হাদীসের বাহ্যিক অর্থই গ্রহণ করা হয় তাহলে পানি যখন সেই পরিমাণ পর্যন্ত পৌঁছে যায় তখন নাজাসাত দ্বারা এর রং বা স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তিত হয়ে গেলেও পানি নাপাক না হওয়াই বিধেয় হত, যেহেতু নবী এই হাদীসে তা উল্লেখ করেননি এবং হাদীসের বাহ্যিক অর্থই বিবেচিত হবে। আর যদি বলা হয় যে, যদিও এই হাদীসে এটিরই উল্লেখ নেই, কিন্তু অন্য হাদীসে তা উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নিম্নোক্ত হাদীস উল্লেখ করা হয় ।
এই সমস্ত মনীষী বলেছেনঃ যখন পানি এই পরিমাণ পৌছাবে, তখন এতে পতিত নাজাসাত এর ক্ষতি করবে না । কিন্তু সেটি যদি এর গন্ধ বা স্বাদ বা রং এর উপর প্রভাব ফেলে (তাহলে নাপাক হয়ে যাবে)। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁরা ইবন উমার (রাযিঃ)-এর এই হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন। কিন্তু এই প্রমাণ স্বয়ং তাদের বিরুদ্ধে সেই সমস্ত লোকদের প্রমাণ হিসাবে বিবেচিত হবে যারা বলে যে, হাদীসসমূহে দুই কুল্লার পরিমাণ আমাদের জন্য ব্যাখ্যা করা হয়নি। অতএব এর পরিমাণ হিজর এলাকার দুই মটকার সমান হওয়ার সম্ভাবনা আছে, যেমন আপনারা উল্লেখ করেছেন। আবার এ সম্ভাবনাও আছে যে এর দ্বারা মানুষের দেহের উচ্চতা বুঝানো হয়েছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে, যখন পানি দুই দেহের উচ্চতার সমান হয়ে যায়, তখন আধিক্যের কারণে তা নাপাকি বহন করবে না, যেহেতু এই অবস্থায় তা নদীর (পানির) সমপর্যায়ে বিবেচিত হবে।
কেউ যদি প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন যে, আমাদের মতে হাদীসের বাহ্যিক অর্থই গ্রহণযোগ্য। আর মটকা দ্বারা হিজাযের প্রসিদ্ধ মটকা-ই বুঝানো হয়েছে
উত্তরে বলা হবে ঃ আপনাদের বক্তব্য মুতাবিক যদি হাদীসের বাহ্যিক অর্থই গ্রহণ করা হয় তাহলে পানি যখন সেই পরিমাণ পর্যন্ত পৌঁছে যায় তখন নাজাসাত দ্বারা এর রং বা স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তিত হয়ে গেলেও পানি নাপাক না হওয়াই বিধেয় হত, যেহেতু নবী এই হাদীসে তা উল্লেখ করেননি এবং হাদীসের বাহ্যিক অর্থই বিবেচিত হবে। আর যদি বলা হয় যে, যদিও এই হাদীসে এটিরই উল্লেখ নেই, কিন্তু অন্য হাদীসে তা উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নিম্নোক্ত হাদীস উল্লেখ করা হয় ।
باب الماء يقع فيه النجاسة
29 -. وَكَمَا حَدَّثَنَا رَبِيعٌ الْمُؤَذِّنُ قَالَ: ثنا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ قَالَ: ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ , فَذَكَرَ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ , غَيْرَ أَنَّهُ لَمْ يَرْفَعْهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , وَأَوْقَفَهُ عَلَى ابْنِ عُمَرَ.
فَقَالَ هَؤُلَاءِ الْقَوْمُ: إِذَا بَلَغَ الْمَاءُ هَذَا الْمِقْدَارَ , لَمْ يَضُرَّهُ مَا وَقَعَتْ فِيهِ مِنَ النَّجَاسَةِ , إِلَّا مَا غَلَبَ عَلَى رِيحِهِ أَوْ طَعْمِهِ أَوْ لَوْنِهِ. وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ بِحَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ هَذَا , فَكَانَ مِنَ الْحُجَّةِ عَلَيْهِمْ لِأَهْلِ الْمَقَالَةِ الَّتِي صَحَّحْنَاهَا أَنَّ هَاتَيْنِ الْقُلَّتَيْنِ لَمْ يُبَيَّنْ لَنَا فِي هَذِهِ الْآثَارِ مَا مِقْدَارُهُمَا. فَقَدْ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ مِقْدَارُهُمَا قُلَّتَيْنِ مِنْ قِلَالِ هَجَرَ كَمَا ذَكَرْتُمْ , وَيُحْتَمَلُ أَنْ تَكُونَا قُلَّتَيْنِ أُرِيدَ بِهَا قُلَّتَا الرَّجُلِ , وَهِيَ قَامَتُهُ , فَأُرِيدَ إِذَا كَانَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ أَيْ قَامَتَيْنِ، لَمْ يَحْمِلْ نَجَسًا لِكَثْرَتِهِ، وَلِأَنَّهُ يَكُونُ بِذَلِكَ فِي مَعْنَى الْأَنْهَارِ. فَإِنْ قُلْتُمْ: إِنَّ الْخَبَرَ عِنْدَنَا عَلَى ظَاهِرِهِ , وَالْقِلَالُ هِيَ قِلَالُ الْحِجَازِ الْمَعْرُوفَةُ. قِيلَ لَكُمْ: فَإِنْ كَانَ الْخَبَرُ عَلَى ظَاهِرِهِ كَمَا ذَكَرْتُمْ , فَإِنَّهُ يَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ الْمَاءُ إِذَا بَلَغَ ذَلِكَ الْمِقْدَارَ لَا يَضُرُّهُ النَّجَاسَةُ , وَإِنْ غَيَّرَتْ لَوْنَهُ أَوْ طَعْمَهُ أَوْ رِيحَهُ , لِأَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَذْكُرْ ذَلِكَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ , فَالْحَدِيثُ عَلَى ظَاهِرِهِ.
فَقَالَ هَؤُلَاءِ الْقَوْمُ: إِذَا بَلَغَ الْمَاءُ هَذَا الْمِقْدَارَ , لَمْ يَضُرَّهُ مَا وَقَعَتْ فِيهِ مِنَ النَّجَاسَةِ , إِلَّا مَا غَلَبَ عَلَى رِيحِهِ أَوْ طَعْمِهِ أَوْ لَوْنِهِ. وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ بِحَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ هَذَا , فَكَانَ مِنَ الْحُجَّةِ عَلَيْهِمْ لِأَهْلِ الْمَقَالَةِ الَّتِي صَحَّحْنَاهَا أَنَّ هَاتَيْنِ الْقُلَّتَيْنِ لَمْ يُبَيَّنْ لَنَا فِي هَذِهِ الْآثَارِ مَا مِقْدَارُهُمَا. فَقَدْ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ مِقْدَارُهُمَا قُلَّتَيْنِ مِنْ قِلَالِ هَجَرَ كَمَا ذَكَرْتُمْ , وَيُحْتَمَلُ أَنْ تَكُونَا قُلَّتَيْنِ أُرِيدَ بِهَا قُلَّتَا الرَّجُلِ , وَهِيَ قَامَتُهُ , فَأُرِيدَ إِذَا كَانَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ أَيْ قَامَتَيْنِ، لَمْ يَحْمِلْ نَجَسًا لِكَثْرَتِهِ، وَلِأَنَّهُ يَكُونُ بِذَلِكَ فِي مَعْنَى الْأَنْهَارِ. فَإِنْ قُلْتُمْ: إِنَّ الْخَبَرَ عِنْدَنَا عَلَى ظَاهِرِهِ , وَالْقِلَالُ هِيَ قِلَالُ الْحِجَازِ الْمَعْرُوفَةُ. قِيلَ لَكُمْ: فَإِنْ كَانَ الْخَبَرُ عَلَى ظَاهِرِهِ كَمَا ذَكَرْتُمْ , فَإِنَّهُ يَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ الْمَاءُ إِذَا بَلَغَ ذَلِكَ الْمِقْدَارَ لَا يَضُرُّهُ النَّجَاسَةُ , وَإِنْ غَيَّرَتْ لَوْنَهُ أَوْ طَعْمَهُ أَوْ رِيحَهُ , لِأَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَذْكُرْ ذَلِكَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ , فَالْحَدِيثُ عَلَى ظَاهِرِهِ.
