মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৩১- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
হাদীস নং: ৬১৩১
- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
তৃতীয় অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৩১। হযরত উম্মে সালামা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে তাঁহার বিবিগণকে বলিতে শুনিয়াছি, আমার (ওফাতের) পর যেই ব্যক্তি তোমাদিগকে অঞ্জলি ভরিয়া দান করিবে, সে সাচ্চা (ঈমানদার) এবং নেককার। হে আল্লাহ্ ! তুমি আব্দুর রহমান ইবনে আওফকে জান্নাতের সালসাবিল হইতে পান করাও। –আহমদ
كتاب المناقب
وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لِأَزْوَاجِهِ: «إِنَّ الَّذِي يَحْثُو عَلَيْكُنَّ بَعْدِي هُوَ الصَّادِقُ الْبَارُّ اللَّهُمَّ اسْقِ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ مِنْ سلسبيلِ الجنةِ» . رَوَاهُ أَحْمد
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত উম্মে সালমা রাযি.-এর বর্ণিত এ হাদীসে 'সালসাবীল' শব্দ এসেছে, আর এটা হচ্ছে জান্নাতের এক বিশেষ ও সর্বোৎকৃষ্ট ঝর্ণা। কুরআন মজীদের সূরা দাহরে
عَیۡنًا فِیۡہَا تُسَمّٰی سَلۡسَبِیۡلًا
যেহেতু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন, 'আম্বিয়া কেরামের রেখে যাওয়া সম্পদে উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না, তাঁরা যা কিছু রেখে যান, সেটা ফী সাবীলিল্লাহ সদকা হিসাবে গণ্য হয়।" এ জন্য স্বাভাবিকভাবেই হুযুর (ﷺ)-এর স্ত্রীদের জন্য মানুষ হিসাবে এ দুশ্চিন্তা দেখা দিতে পারত যে, হুযুর (ﷺ)-এর পর আমাদের জীবিকা ও ভরণ পোষণের ব্যবস্থা কিভাবে এবং কোথেকে হবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে আশ্বস্ত করার জন্য বললেন, 'আল্লাহ্ তা'আলার এক খাঁটি ঈমানদার বান্দা যার প্রকৃতির মধ্যে এহসান ও অন্যের উপকার করার গুণ বিশেষভাবে দিয়ে রেখেছেন- সে তোমাদের সর্বাত্মক সাহায্য ও খেদমত করবে। সামনে তিনি দু‘আ বাক্যে আব্দুর রহমান ইবনে আউফের নাম নিয়ে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন যে, ঐ বান্দা কে হবে। স্পষ্টত এ ভবিষ্যদ্বাণী হুযুর (ﷺ)-এর একটি মু'জেযা ছিল।
তিরমিযী শরীফে হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযি. থেকে বর্ণিত রয়েছে যে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আউফের ছেলে আবু সালামাকে বলেছিলেন, আল্লাহ্ তোমার পিতা আব্দুর রহমান ইবনে আউফকে জান্নাতের বিশেষ ঝর্ণা থেকে তৃপ্তির পানি দান করুন। সামনে ঐ বর্ণনায়ই রয়েছে যে, হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ নিজের এমন একটি মূল্যবান বাগান নবী পত্নীগণকে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করে দিয়েছিলেন- যা পরবর্তীতে চল্লিশ হাজার মুদ্রায় বিক্রি হয়। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে যে, চার লক্ষ মুদ্রায় বিক্রি হয়েছিল। কোন কোন হাদীস ব্যাখ্যাতা এ উভয় বর্ণনার মধ্যে এভাবে সামঞ্জস্য বিধান করেছেন যে, 'চল্লিশ হাজার' দ্বারা উদ্দেশ্য চল্লিশ হাজার স্বর্ণমুদ্রা এবং 'চার লাখ দ্বারা উদ্দেশ্য চার লাখ রৌপ্যমুদ্রা। (নববী যুগে দেরহাম ও দীনার তথা রৌপ্যমুদ্রা ও স্বর্ণমুদ্রায় মূল্যমানের ক্ষেত্রে এ পার্থক্যই ছিল।)
عَیۡنًا فِیۡہَا تُسَمّٰی سَلۡسَبِیۡلًا
যেহেতু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন, 'আম্বিয়া কেরামের রেখে যাওয়া সম্পদে উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না, তাঁরা যা কিছু রেখে যান, সেটা ফী সাবীলিল্লাহ সদকা হিসাবে গণ্য হয়।" এ জন্য স্বাভাবিকভাবেই হুযুর (ﷺ)-এর স্ত্রীদের জন্য মানুষ হিসাবে এ দুশ্চিন্তা দেখা দিতে পারত যে, হুযুর (ﷺ)-এর পর আমাদের জীবিকা ও ভরণ পোষণের ব্যবস্থা কিভাবে এবং কোথেকে হবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে আশ্বস্ত করার জন্য বললেন, 'আল্লাহ্ তা'আলার এক খাঁটি ঈমানদার বান্দা যার প্রকৃতির মধ্যে এহসান ও অন্যের উপকার করার গুণ বিশেষভাবে দিয়ে রেখেছেন- সে তোমাদের সর্বাত্মক সাহায্য ও খেদমত করবে। সামনে তিনি দু‘আ বাক্যে আব্দুর রহমান ইবনে আউফের নাম নিয়ে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন যে, ঐ বান্দা কে হবে। স্পষ্টত এ ভবিষ্যদ্বাণী হুযুর (ﷺ)-এর একটি মু'জেযা ছিল।
তিরমিযী শরীফে হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযি. থেকে বর্ণিত রয়েছে যে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আউফের ছেলে আবু সালামাকে বলেছিলেন, আল্লাহ্ তোমার পিতা আব্দুর রহমান ইবনে আউফকে জান্নাতের বিশেষ ঝর্ণা থেকে তৃপ্তির পানি দান করুন। সামনে ঐ বর্ণনায়ই রয়েছে যে, হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ নিজের এমন একটি মূল্যবান বাগান নবী পত্নীগণকে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করে দিয়েছিলেন- যা পরবর্তীতে চল্লিশ হাজার মুদ্রায় বিক্রি হয়। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে যে, চার লক্ষ মুদ্রায় বিক্রি হয়েছিল। কোন কোন হাদীস ব্যাখ্যাতা এ উভয় বর্ণনার মধ্যে এভাবে সামঞ্জস্য বিধান করেছেন যে, 'চল্লিশ হাজার' দ্বারা উদ্দেশ্য চল্লিশ হাজার স্বর্ণমুদ্রা এবং 'চার লাখ দ্বারা উদ্দেশ্য চার লাখ রৌপ্যমুদ্রা। (নববী যুগে দেরহাম ও দীনার তথা রৌপ্যমুদ্রা ও স্বর্ণমুদ্রায় মূল্যমানের ক্ষেত্রে এ পার্থক্যই ছিল।)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)