মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৩১- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
হাদীস নং: ৬০৫১
- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
তৃতীয় অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৫১। হযরত ইবনে ওমর (রাঃ)-এর এক রেওয়ায়তে আছে, হযরত ওমর (রাঃ) বলিলেন, তিন ব্যাপারে আমি আমার রবের সহিত ঐক্যমত হইয়াছি। (১) মাকামে ইবরাহীমের ব্যাপারে। (২) পর্দার ব্যাপারে। (৩) বদরের কয়েদীদের ব্যাপারে। —মোত্তাঃ
كتاب المناقب
وَفِي رِوَايَةٍ لِابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ عُمَرُ: وَافَقْتُ رَبِّي فِي ثَلَاثٍ: فِي مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ وَفِي الْحِجَابِ وَفِي أُسَارَى بَدْرٍ. مُتَّفق عَلَيْهِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ঘটনা এই যে, হাদীস ভাণ্ডারে কমপক্ষে পনেরটি এমন ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় যে, কোন বিষয়ে হযরত উমর রাযি.-এর একটি মত দেখা দিল অথবা তাঁর অন্তরে একটি আকাঙ্খা জাগ্রত হল যে, আহ! আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে যদি এ নির্দেশ এসে যেত, তখন ঐ নির্দেশই আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহীর মাধ্যমে এসে গিয়েছে। এ হাদীসে এগুলোর মধ্যে থেকে কেবল তিনটি বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে। (১) মাকামে ইবরাহীমের ব্যাপারে নির্দেশ, (২) পর্দার ব্যাপারের নির্দেশ ও (৩) বদর যুদ্ধের বন্দীদের ব্যাপারে নির্দেশ। এর সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা এই যে, মাকামে ইবরাহীম সাদা বর্ণের একটি পাথর, যার উপর দাঁড়িয়ে হযরত ইবরাহীম আ. কা'বা ঘর নির্মাণ করেছিলেন। (এতে অলৌকিকভাবে হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর পায়ের দাগ পরিমাণ জায়গা বেশ কিছুটা গর্ত হয়ে এখন পর্যন্ত অবশিষ্ট রয়েছে।) এ পাথরটি ঐ যুগ থেকেই সংরক্ষিত হয়ে আসছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগ পর্যন্ত কা'বা ঘরের নিকটে একটি স্থানে এটা খোলা অবস্থায় ছিল। (পরবর্তী সময়ে একটি স্বতন্ত্র স্থাপনায় এটা সংরক্ষিত করে দেওয়া হয়েছে।)
হযরত উমর রাযি. রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এ আকাঙ্খা প্রকাশ করলেন যে, যদি মাকামে ইবরাহীমকে বিশেষভাবে নামাযের স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হত, তখন সূরা বাকারার ১২৫তম আয়াতটি নাযিল হল এবং এতে নির্দেশ এসে গেলঃ وَاتَّخِذُوۡا مِنۡ مَّقَامِ اِبۡرٰہٖمَ مُصَلًّی (অর্থাৎ, মাকামে ইবরাহীমকে তোমরা নামাযের স্থান বানিয়ে নাও।) আয়াতের সহজ অর্থ এই যে, তওয়াফের পর যে দু'রাকাআত নামায পড়া হয়, এটা যেন মাকামে ইবরাহীমের নিকটে পড়া হয়। ফকীহগণ এ ব্যাপারে একমত যে, এ নির্দেশটি মুস্তাহাব পর্যায়ের। যদি সহজে মাকামে ইবরাহীমের কাছে বা মসজিদের ওই দিককার অংশে পড়া যায়, তাহলে সেখানেই পড়া ভাল। অন্যথায় মসজিদুল হারামের অন্য যে কোন জায়গায় পড়ে নেওয়া যেতে পারে।
দ্বিতীয় বিষয়টি পর্দা প্রসঙ্গে। যে সময় মহিলাদের জন্য পর্দার কোন বিধান নাযিল হয়নি তখন সাধারণ মুসলমানদের মত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঘরেও প্রয়োজনে সাহাবায়ে কিরামের আসা যাওয়া হত। হযরত উমর রাযি. বলেন, আমার মাঝে আল্লাহ তা'আলা আগ্রহ ও মনের টান সৃষ্টি করে দিলেন যে, বিশেষভাবে আযওয়াজে মুতাহহারাতের জন্য যদি পর্দার বিধান নাযিল হয়ে যেত। পরে এ ব্যাপারেও আয়াত নাযিল হয়ে গেল: وَاِذَا سَاَلۡتُمُوۡہُنَّ مَتَاعًا فَسۡـَٔلُوۡہُنَّ مِنۡ وَّرَآءِ حِجَاب সূরা আহযাব: আয়াত-৫৩
তৃতীয় বিষয়টি এই যে, বদর যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় ও মুশরিকদের পরাজয়ের পর তাদের যেসব লোক বন্দী হয়েছিল, তাদের ব্যাপারে আমার মত এই ছিল যে, এরা সবাই যেহেতু ইসলাম, ইসলামের নবী ও মুসলমানদের প্রাণের শত্রু ও জঘন্য অপরাধী, তাই এদের সবাইকে হত্যা করা হোক। তাদেরকে জীবিত ছেড়ে দেওয়া এমনই হবে, যেমন বিষাক্ত সাপকে জীবিত ছেড়ে দেওয়া। কিন্তু আবূ বকর সিদ্দীক রাযি. ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মধ্যে দয়া ও কোমলতা প্রবল ছিল, তাই তাঁরা মুক্তিপণ নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিলেন এবং এরই উপর আমল করা হল। পরে সূরা আনফালের ঐ আয়াত নাযিল হল, যা আমার মতের পক্ষে ছিল।
এখানে এ বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, বাস্তবতা এই ছিল যে, এ তিনটি ব্যাপারে আল্লাহর ওহী হযরত উমরের পক্ষে ছিল। কিন্তু হযরত উমর রাযি. আদবের প্রতি লক্ষ্য রাখতে গিয়ে কথাটি এভাবে বলেছেন যে, আমি তিনটি ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশের অনুকূল মত পোষণ করেছি। নিঃসন্দেহে এ আদব ও শিষ্টাচার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শিক্ষা ও সাহচর্যের ফল ছিল।
হযরত উমর রাযি. রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এ আকাঙ্খা প্রকাশ করলেন যে, যদি মাকামে ইবরাহীমকে বিশেষভাবে নামাযের স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হত, তখন সূরা বাকারার ১২৫তম আয়াতটি নাযিল হল এবং এতে নির্দেশ এসে গেলঃ وَاتَّخِذُوۡا مِنۡ مَّقَامِ اِبۡرٰہٖمَ مُصَلًّی (অর্থাৎ, মাকামে ইবরাহীমকে তোমরা নামাযের স্থান বানিয়ে নাও।) আয়াতের সহজ অর্থ এই যে, তওয়াফের পর যে দু'রাকাআত নামায পড়া হয়, এটা যেন মাকামে ইবরাহীমের নিকটে পড়া হয়। ফকীহগণ এ ব্যাপারে একমত যে, এ নির্দেশটি মুস্তাহাব পর্যায়ের। যদি সহজে মাকামে ইবরাহীমের কাছে বা মসজিদের ওই দিককার অংশে পড়া যায়, তাহলে সেখানেই পড়া ভাল। অন্যথায় মসজিদুল হারামের অন্য যে কোন জায়গায় পড়ে নেওয়া যেতে পারে।
দ্বিতীয় বিষয়টি পর্দা প্রসঙ্গে। যে সময় মহিলাদের জন্য পর্দার কোন বিধান নাযিল হয়নি তখন সাধারণ মুসলমানদের মত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঘরেও প্রয়োজনে সাহাবায়ে কিরামের আসা যাওয়া হত। হযরত উমর রাযি. বলেন, আমার মাঝে আল্লাহ তা'আলা আগ্রহ ও মনের টান সৃষ্টি করে দিলেন যে, বিশেষভাবে আযওয়াজে মুতাহহারাতের জন্য যদি পর্দার বিধান নাযিল হয়ে যেত। পরে এ ব্যাপারেও আয়াত নাযিল হয়ে গেল: وَاِذَا سَاَلۡتُمُوۡہُنَّ مَتَاعًا فَسۡـَٔلُوۡہُنَّ مِنۡ وَّرَآءِ حِجَاب সূরা আহযাব: আয়াত-৫৩
তৃতীয় বিষয়টি এই যে, বদর যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় ও মুশরিকদের পরাজয়ের পর তাদের যেসব লোক বন্দী হয়েছিল, তাদের ব্যাপারে আমার মত এই ছিল যে, এরা সবাই যেহেতু ইসলাম, ইসলামের নবী ও মুসলমানদের প্রাণের শত্রু ও জঘন্য অপরাধী, তাই এদের সবাইকে হত্যা করা হোক। তাদেরকে জীবিত ছেড়ে দেওয়া এমনই হবে, যেমন বিষাক্ত সাপকে জীবিত ছেড়ে দেওয়া। কিন্তু আবূ বকর সিদ্দীক রাযি. ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মধ্যে দয়া ও কোমলতা প্রবল ছিল, তাই তাঁরা মুক্তিপণ নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিলেন এবং এরই উপর আমল করা হল। পরে সূরা আনফালের ঐ আয়াত নাযিল হল, যা আমার মতের পক্ষে ছিল।
এখানে এ বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, বাস্তবতা এই ছিল যে, এ তিনটি ব্যাপারে আল্লাহর ওহী হযরত উমরের পক্ষে ছিল। কিন্তু হযরত উমর রাযি. আদবের প্রতি লক্ষ্য রাখতে গিয়ে কথাটি এভাবে বলেছেন যে, আমি তিনটি ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশের অনুকূল মত পোষণ করেছি। নিঃসন্দেহে এ আদব ও শিষ্টাচার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শিক্ষা ও সাহচর্যের ফল ছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)