মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

৩১- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল

হাদীস নং: ৬০২৫
- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
প্রথম অনুচ্ছেদ - আবু বাকর সিদ্দীক (রাঃ) -এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০২৫। হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যমানায় আমরা কাহাকেও আবু বকর (রাঃ)-এর সমকক্ষ মনে করিতাম না। তারপর ওমর (রাঃ)-কে এবং তারপর ওসমান (রাঃ)-কে মর্যাদা দিতাম। অতঃপর নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যান্য সাহাবীদের মর্যাদা সম্পর্কিত আলোচনা পরিহার করিতাম। তাহাদের মধ্যে একের উপর অন্যকে প্রাধান্য দিতাম না। -বুখারী
كتاب المناقب
وَعَن ابْن عمرٍ قَالَ: كُنَّا فِي زَمَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا نَعْدِلُ بِأَبِي بَكْرٍ أَحَدًا ثُمَّ عُمَرَ ثُمَّ عُثْمَانَ ثُمَّ نَتْرُكُ أَصْحَابَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا نُفَاضِلُ بَيْنَهُمْ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَفِي رِوَايَةٍ لِأَبِي دَاوُدَ قَالَ: كُنَّا نَقُولُ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَيٌّ: أَفْضَلُ أُمَّةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَهُ أَبُو بَكْرٍ ثُمَّ عمر ثمَّ عُثْمَان رَضِي الله عَنْهُم

হাদীসের ব্যাখ্যা:

১. উল্লিখিত এই তিনজন ব্যক্তিবিশেষের মর্যাদা যে যথাক্রমে সকলের চাইতে উপরে ইহা সে সময়ের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সমানভাবে স্বীকৃত ছিল। অন্যথায় সমষ্টিগতভাবে আহলে বদর, আহলে ওহুদ, আহলে বাইআতে রেযওয়ান ও আহলে আকাবা প্রভৃতিগণের মর্যাদাও যে অন্যদের তুলনায় অনেক বুলন্দ ছিল, তাহাও অনস্বীকার্য।

২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের উদ্দেশ্য বাহ্যতঃ এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে তাঁর কর্মধারা ও আচরণ দেখে আমরা এটা বুঝতাম যে, সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হলেন আবু বকর রাযি.। তাঁর পরে উমর রাযি. এবং তাঁর পরে উসমান রাযি.। এ তিনজনই বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদিতে হুযুর (ﷺ) অধিকাংশ সময় তাঁদের সাথেই পরামর্শ করতেন। হযরত আলী রাযি. হুযূর (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় কম বয়সী ছিলেন। তিনি ঐ সময় ঐ কাতারে ছিলেন না। যদিও এ তিন জনের পর তিনি নিঃসন্দেহে উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং কোন কোন বৈশিষ্ট্যের কারণে তার অবস্থান অনেক উর্ধ্বে।

এখানে এ বিষয়টিও লক্ষণীয় যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের এ বক্তব্যটি ব্যক্তি সম্পর্কে, শ্রেণী ও গুণের দৃষ্টিতে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে যে মর্যাদা ও স্তর রয়েছে, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. এ বিষয়টি সামনে আনেননি। যেমন, আশারা মুবাশশারা, আসহাবে বদর, আসহাবে বায়আতে রেযওয়ান এবং মুহাজির-আনসারদের মধ্য থেকে যারা ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের এ বক্তব্যে তাদের মর্যাদার প্রতি কোন অস্বীকৃতি নেই। তিনি যা বলেছেন, এর সম্পর্ক ঐ বিশেষ ফযীলত ও মর্যাদার সাথে, যা হুযুর (ﷺ)-এর যুগে এ তিন মনীষীর অর্জিত ছিল।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান