মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

৩১- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল

হাদীস নং: ৬০২৪
- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
প্রথম অনুচ্ছেদ - আবু বাকর সিদ্দীক (রাঃ) -এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০২৪। হযরত মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যা (রহঃ) বলেন, আমি আমার পিতা [আলী (রাঃ)]-কে জিজ্ঞাসা করিলাম, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর কোন ব্যক্তি সর্বাপেক্ষা উত্তম? তিনি বলিলেন, আবু বকর। আমি আবার জিজ্ঞাসা করিলাম। তারপর কোন্ ব্যক্তি। তিনি বলিলেন, ওমর। আমার আশংকা হইল, এইবার (জিজ্ঞাসা করিলে তিনি ওসমানের কথা বলিবেন। তাই আমি বলিলাম, অতঃপর তো আপনিই (উত্তম)। তিনি বলিলেন, আমি তো অন্যান্য মুসলমানদের মধ্যে একজন সাধারণ ব্যক্তি। বুখারী
كتاب المناقب
وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَنَفِيَّةِ قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي: أَيُّ النَّاسِ خَيْرٌ بَعْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: أَبُو بَكْرٍ. قُلْتُ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: عُمَرُ. وَخَشِيتُ أَنْ يَقُولَ: عُثْمَانُ. قُلْتُ: ثُمَّ أَنْتَ قَالَ: «مَا أَنَا إِلَّا رجلٌ من الْمُسلمين» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

১. এই মুহাম্মদ ইবনুল হানফিয়্যা হযরত আলী (রাঃ)-এর পুত্র বটে, তবে হযরত ফাতেমা (রাঃ)-এর গর্ভের নহে। তাঁহার মাতা ছিলেন হানফিয়্যা গোত্রের খাওলা বিনতে জা'ফর। আবার কাহারও মতে তাঁহার মা ইয়ামামা যুদ্ধে কয়েদ হইয়া দাসী হিসাবে হযরত আলীর হিস্যায় পড়িয়াছিলেন। আর হযরত আসমা বিনতে আবু বকর (রাঃ) বলিয়াছেন, উক্ত মুহাম্মদের মা বনু হানীফার একজন দাসী ছিলেন।

২. মুহাম্মদ ইবনে হানাফিয়্যা হযরত আলী রাযি.-এর পুত্র। হযরত ফাতেমার গর্ভ থেকে নয়; বরং হযরত আলী রাযি.-এর হেরেমের হানাফিয়্যা নাম্নী মহিলার গর্ভজাত সন্তান। তার আসল নাম ছিল খাওলা। নিজের গোত্রের সম্পর্কের কারণে হানাফিয়্যা নামে পরিচিত। হযরত আবূ বকর রাযি.-এর যুগে নবুওয়াতের মিথ্যা দাবীদার মুসায়লামা কায্যাব ও তার অনুসারীদের সাথে যে জেহাদ ও লড়াই হয়, সেখানে বিজয়ের পর যেসব নারী-পুরুষ যুদ্ধ বন্দী হয়ে আসে, তাদের মধ্যে এ খাওলাও ছিলেন। রীতি অনুযায়ী তিনি হযরত আলী-এর হেরেমে দাখিল হয়ে যান। মুহাম্মদ ইবনে হানাফিয়্যা তারই তরফে হযরত আলী রাযি.-এর পুত্র। জ্ঞান গরিমা, তাকওয়া ও অন্যান্য গুণাবলীতে তিনি উঁচু স্তরের তাবেয়ী ছিলেন। তিনিই বর্ণনা করেন যে, আমার পিতা হযরত আলী রাযি.-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পর উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠতর ব্যক্তি কে? তিনি তখন প্রথম ক্রমিকে হযরত আবূ বকর রাযি. ও দ্বিতীয় ক্রমিকে হযরত উমরের নাম উচ্চারণ করলেন এবং নিজের ব্যাপারে বললেন যে, আমি মুসলমানদের একজন ছাড়া অন্য কিছু নই। এ কথা স্পষ্ট যে, হযরত আলী রাযি. এটা বিনয় ও নিজেকে ছোট করে প্রকাশ করার জন্য বলেছেন। অন্যথায়, উম্মতের মধ্যে সেসময় সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হযরত আলীই ছিলেন। হযরত উসমান তো এর আগেই শহীদ হয়ে গিয়েছিলেন। এ রিওয়ায়াতটি তো মুহাম্মদ ইবনে হানাফিয়্যার। মুহাদ্দিসদের নিকট হযরত আলী রাযি. থেকে একটি রিওয়ায়াত মুতাওয়াতির হিসাবে প্রমাণিত রয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পর উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ও উঁচু মর্যাদার অধিকারী হচ্ছেন, হযরত আবু বকর রাযি. ও হযরত উমর রাযি.। যে ব্যক্তি আমাকে এ দু'জনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করবে, আমি তার উপর হদ (ইসলামী দণ্ডবিধি) জারী করব।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান