মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৩০- নবীজী সাঃ এর মর্যাদা ও শামাঈল অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৭৮৩
প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি
৫৭৮৩। হযরত বারা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মধ্যম গড়নের ছিলেন। তাহার উভয় কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান বেশ প্রশস্ত ছিল। তাহার মাথার চুল তাহার দুই কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছিত। আমি তাহাকে লাল (ডোরাকাটা) পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখিয়াছি। আমি তাহার চাইতে অধিক সুন্দর আর কাহাকেও কখনও দেখি নাই। মোত্তাঃ। আর মুসলিমের রেওয়ায়তে আছে, হযরত বারা (রাঃ) বলিয়াছেন, বারী চুলবিশিষ্ট লাল (ডোরা কাটা) পোশাকে রাসুলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপেক্ষা সুন্দর আর কাহাকেও আমি দেখিতে পাই নাই। তাহার মাথার চুল কাধ স্পর্শ করিত এবং তাঁহার দুই কাধের মধ্যবর্তী স্থানটি ছিল বেশ প্রশস্ত। তিনি লম্বাও ছিলেন না আবার খাটও ছিলেন না।
وَعَنِ الْبَرَّاءِ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرْبُوعًا بَعِيدَ مَا بَيْنَ الْمَنْكِبَيْنِ لَهُ شَعْرٌ بَلَغَ شَحْمَةَ أُذُنَيْهِ رَأَيْتُهُ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ لَمْ أَرَ شَيْئًا قَطُّ أَحْسَنَ مِنْهُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ قَالَ: مَا رَأَيْتُ مِنْ ذِي لِمَّةٍ أَحْسَنَ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَعْرُهُ يَضْرِبُ مَنْكِبَيْهِ بَعِيدٌ مَا بَيْنَ الْمَنْكِبَيْنِ لَيْسَ بِالطَّوِيلِ وَلَا بِالْقَصِيرِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. আরবী পরিভাষায় মাথার চুলের তিন অবস্থায় তিন নাম। যথা- جمة - لمة - وفرة ওয়াফরাহ্, লিম্মাহ্ ও জুম্মাহ্। যথাক্রমে و ل ج চুল যখন কানের লতি পর্যন্ত থাকে তাহাকে ‘ওয়াফরাহ্’, ঘাড়ের মাঝামাঝিতে পৌঁছিলে 'লিম্মাহ্' এবং কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছিলে ‘জুম্মাহ্' বলে। হুযূর (ﷺ) হজ্জ ও উমরাহ্ ব্যতীত অন্যান্য সময় সাধারণতঃ বাবরী রাখিতেন। কখনও কিছু খাট করিতেন আবার কখনও কিছু লম্বা, আবার কখনও তদপেক্ষা লম্বা রাখিতেন। ফলে সময় ও অবস্থার প্রেক্ষিতে বর্ণনাকারীদের স্ব স্ব দেখা অনুযায়ী বর্ণনায় পার্থক্য ঘটিয়াছে।
২. এ হাদীছটিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে দু'টি বিষয় বর্ণিত হয়েছে- তাঁর শরীরের গঠন ও তাঁর পোশাক। তাঁর শরীরের গঠন সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি মধ্যম আকৃতির ছিলেন। অর্থাৎ বেশি লম্বাও নয় এবং খাটোও নয়; এর মাঝামাঝি ছিলেন। তবে অন্যান্য বর্ণনা সামনে রাখলে বোঝা যায় তিনি মধ্যম আকৃতির তুলনায় কিছুটা লম্বা ছিলেন।
তাঁর পোশাক সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, হযরত বারা' রাযি. তাঁকে লাল হুল্লা পরিহিত অবস্থায় দেখেছেন। হুল্লা (حلة) বলা হয় একই ধরনের এক জোড়া কাপড়কে। সাধারণত ইযার (লুঙ্গি) ও রিদা (চাদর)-এর ক্ষেত্রে এ নাম প্রযোজ্য। উভয়টি যদি একই কাপড়ের হয়, তখন তাকে বলা হয় হুল্লা।
হযরত বারা' রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সে হুল্লা ছিল লাল রঙের। এর ব্যাখ্যায় সুফয়ান ছাওরী রহ. বলেন, আমার ধারণা সেটি ছিল হিবারা। হিবারা হল এক প্রকার ইয়ামানী কাপড়, যা লাল ডোরাযুক্ত হত। এ কাপড় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খুব প্রিয় ছিল। ইবন হাজার আসকালানী রহ.-ও বলেছেন, লাল হুল্লা দ্বারা লাল ডোরাযুক্ত হুল্লা বোঝানো হয়েছে। প্রবল ধারণা এটাই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে লাল কাপড় পরেছিলেন, তা ছিল লাল ডোরাযুক্ত। সম্পূর্ণ কাপড়টাই লাল ছিল এমন নয়। কেননা বিভিন্ন বর্ণনা দ্বারা জানা যায়, পুরুষের জন্য লাল রঙের পোশাক পরা পসন্দনীয় নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাল পোশাক পরতে নিষেধ করেছেন। যেমন হযরত ইবন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
نهيت عن الثوب الأحمر، وخاتم الذهب، وأن أقرأ وأنا راكع
আমাকে নিষেধ করা হয়েছে লাল কাপড় পরতে, সোনার আংটি ব্যবহার করতে এবং রুকু' অবস্থায় কুরআন পড়তে। ( সুনানে নাসাঈ: ৫২৬৬)
পুরুষের জন্য লাল রঙের পোশাক পরার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে আরও একাধিক বর্ণনা আছে। সেসবের দৃষ্টিতে উলামায়ে কেরাম পুরুষের জন্য লাল রঙের পোশাক পরা মাকরূহ বলেছেন।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
লাল ডোরাযুক্ত কাপড় পরা পুরুষের জন্য জায়েয।
২. এ হাদীছটিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে দু'টি বিষয় বর্ণিত হয়েছে- তাঁর শরীরের গঠন ও তাঁর পোশাক। তাঁর শরীরের গঠন সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি মধ্যম আকৃতির ছিলেন। অর্থাৎ বেশি লম্বাও নয় এবং খাটোও নয়; এর মাঝামাঝি ছিলেন। তবে অন্যান্য বর্ণনা সামনে রাখলে বোঝা যায় তিনি মধ্যম আকৃতির তুলনায় কিছুটা লম্বা ছিলেন।
তাঁর পোশাক সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, হযরত বারা' রাযি. তাঁকে লাল হুল্লা পরিহিত অবস্থায় দেখেছেন। হুল্লা (حلة) বলা হয় একই ধরনের এক জোড়া কাপড়কে। সাধারণত ইযার (লুঙ্গি) ও রিদা (চাদর)-এর ক্ষেত্রে এ নাম প্রযোজ্য। উভয়টি যদি একই কাপড়ের হয়, তখন তাকে বলা হয় হুল্লা।
হযরত বারা' রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সে হুল্লা ছিল লাল রঙের। এর ব্যাখ্যায় সুফয়ান ছাওরী রহ. বলেন, আমার ধারণা সেটি ছিল হিবারা। হিবারা হল এক প্রকার ইয়ামানী কাপড়, যা লাল ডোরাযুক্ত হত। এ কাপড় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খুব প্রিয় ছিল। ইবন হাজার আসকালানী রহ.-ও বলেছেন, লাল হুল্লা দ্বারা লাল ডোরাযুক্ত হুল্লা বোঝানো হয়েছে। প্রবল ধারণা এটাই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে লাল কাপড় পরেছিলেন, তা ছিল লাল ডোরাযুক্ত। সম্পূর্ণ কাপড়টাই লাল ছিল এমন নয়। কেননা বিভিন্ন বর্ণনা দ্বারা জানা যায়, পুরুষের জন্য লাল রঙের পোশাক পরা পসন্দনীয় নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাল পোশাক পরতে নিষেধ করেছেন। যেমন হযরত ইবন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
نهيت عن الثوب الأحمر، وخاتم الذهب، وأن أقرأ وأنا راكع
আমাকে নিষেধ করা হয়েছে লাল কাপড় পরতে, সোনার আংটি ব্যবহার করতে এবং রুকু' অবস্থায় কুরআন পড়তে। ( সুনানে নাসাঈ: ৫২৬৬)
পুরুষের জন্য লাল রঙের পোশাক পরার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে আরও একাধিক বর্ণনা আছে। সেসবের দৃষ্টিতে উলামায়ে কেরাম পুরুষের জন্য লাল রঙের পোশাক পরা মাকরূহ বলেছেন।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
লাল ডোরাযুক্ত কাপড় পরা পুরুষের জন্য জায়েয।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
