মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

২৯- সৃষ্টির সূচনা ও কিয়ামত পরবর্তী বর্ণনা

হাদীস নং: ৫৬৫৬
- সৃষ্টির সূচনা ও কিয়ামত পরবর্তী বর্ণনা
প্রথম অনুচ্ছেদ - আল্লাহ তাআলার দর্শনলাভ
৫৬৫৬। হযরত সুহায়ব (রাঃ) হইতে বর্ণিত, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন: বেহেশতবাসীগণ যখন বেহেশতে প্রবেশ করিবে, তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাহা দিগকে লক্ষ্য করিয়া বলিবেন: তোমরা কি আরও কিছু চাও, যাহা আমি তোমাদিগকে অতিরিক্ত প্রদান করিব ? তাহারা বলিবে, তুমি কি আমাদের মুখমণ্ডলকে উজ্জ্বল কর নাই ? তুমি কি আমা দিগকে বেহেশতে প্রবেশ করাও নাই এবং তুমি কি আমাদিগকে দোযখ হইতে নাজাত দাও নাই ? (তোমার এত বড় বড় নেয়ামতের পর আর কি অবশিষ্ট রহিয়াছে, যাহা আমরা চাহিব ?) হুযূর (ছাঃ) বলেন; অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা (তাহার ও জান্নাতীদের মধ্য হইতে) হেজাব বা পর্দা তুলিয়া ফেলিবেন, তখন তাহারা আল্লাহ্ তা'আলার দীদার বা দর্শন লাভ করিবে। (তখন তাহারা বুঝিতে পারিবে,) বস্তুতঃ আল্লাহ্ তা'আলার দর্শনলাভ ও তাহার দিকে তাকাইয়া থাকা অপেক্ষা অধিকতর প্রিয় কোন বস্তুই এ যাবৎ তাহাদিগকে প্রদান করা হয় নাই। অতঃপর হুযূর (ছা:) কুরআনের এই আয়াতটি তেলাওয়াত করিলেন – (অর্থাৎ,) “যাহারা উত্তম কাজ করিয়াছে উহার প্রতিদান নেকই (অর্থাৎ, জান্নাত)। তাহার উপর অতিরিক্ত হইল— তাহাদের জন্য রহিয়াছে উত্তম প্রতিদান এবং ইহার উপর অতিরিক্ত অবদান (অর্থাৎ, দীদারে এলাহী)। -মুসলিম
كتاب أحوال القيامة وبدء الخلق
وَعَن صُهَيْب عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا دَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: تُرِيدُونَ شَيْئًا أَزِيدُكُمْ؟ فَيَقُولُونَ: أَلَمْ تُبَيِّضْ وُجُوهَنَا؟ أَلَمْ تُدْخِلْنَا الْجَنَّةَ وَتُنَجِّنَا مِنَ النَّارِ؟ قَالَ: «فَيُرْفَعُ الْحِجَابُ فَيَنْظُرُونَ إِلَى وَجْهِ اللَّهِ فَمَا أُعْطُوا شَيْئًا أَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِنَ النَّظَرِ إِلَى رَبِّهِمْ» ثُمَّ تَلَا (لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَة) رَوَاهُ مُسلم

হাদীসের ব্যাখ্যা:

পর্দা সরানোর অর্থ হল দৃষ্টিকে এত শক্তিশালী করা যাতে অনায়াসে মহান প্রভুকে দর্শন করা যায়। কুরআনের আয়াতে উল্লিখিত "زیادة" শব্দের দ্বারা জান্নাত এবং জান্নাতের নি'আমত ছাড়াও মহান আল্লাহর দর্শনের নি'আমতের কথা বলা হয়েছে।

বিঃ-দ্রঃ আল্লাহ তাঁর সৎকর্মশীল বান্দাদেরকে আখিরাতে সাক্ষাৎ দেবেন। দুনিয়াতে আমরা চর্ম চোখে আল্লাহকে দেখতে পাই না। হযরত মূসা (আ) তাঁকে দেখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু দেখতে পারেন নি। জ্যোতির ঝলক দেখে তিনি বেহুশ হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু আখিরাতের অবস্থা হবে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। তার কারণ সেই জগতের স্বভাব প্রকৃতি, ধারণ ক্ষমতা ও সহ্য শক্তিও হবে ব্যতিক্রমধর্মী। মানুষকে আল্লাহ্ রাব্বুর আলামীন আখিরাতের জীবনের সম্পূর্ণ উপযোগী করে দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করবেন। তাই জান্নাতের মধ্যে আল্লাহর দর্শনে কোনরূপ অসুবিধা হবে না। বরং জ্যোতির্ময় আল্লাহর জ্যোতি দর্শন করার জন্য জান্নাতীদের চোখ সম্পূর্ণ উপযোগী হবে। আল্লাহকে দর্শন করে তারা বেহুশ হবে না এবং তাদের চোখ ক্লান্ত ও অসুস্থ হবেনা।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান