মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

২৮- ফিতনাসমূহ ও কিয়ামতের আলামতের বর্ণনা

হাদীস নং: ৫৪১০
প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়
৫৪১০। হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ কিয়ামত কায়েম হইবে না যতক্ষণ পর্যন্ত দুইটি বৃহৎ দল পরস্পরে তুমুল যুদ্ধে লিপ্ত না হইবে, এই উভয় দলের মধ্যে ভীষণ যুদ্ধ সংঘটিত হইবে; অথচ তাহাদের মূল দাবী হইবে এক ও অভিন্ন। আর যতক্ষণ পর্যন্ত প্রায় ত্রিশ জন মিথ্যাবাদী দাজ্জালের আবির্ভাব না ঘটিবে, যাহাদের প্রত্যেকেই নিজেকে আল্লাহর নবী বলিয়া দাবী করিবে। আর যতক্ষণ পর্যন্ত না (দ্বিনী) এলম উঠাইয়া নেওয়া হইবে। ভূমিকম্পের সংখ্যা বা পরিমাণ বৃদ্ধি পাইবে। সময়ের (পরিধি) নিকটবর্তী হইয়া আসিবে। (অর্থাৎ, সময় দ্রুত অতিবাহিত হইয়া যাইবে) ফিতনা সৃষ্টি হইবে। খুন-খারাবী বাড়িয়া যাইবে। আর এমন কি তোমাদের মধ্যে ধন-সম্পদের এমন প্রাচুর্য দেখা দিবে যে, সম্পদশালী ব্যক্তি ও ধন-সম্পদের মালিক (তাহার সদকা যাকাত প্রদান করার জন্য) চিন্তিত ও পেরেশান হইয়া পড়িবে এই জন্য যে, কে তাহার সদকা গ্রহণ করিবে? এমন কি যাহার নিকটই উহা পেশ করা হইবে সে বলিয়া উঠিবে, আমার এই মালের কোন প্রয়োজন নাই। আর যতক্ষণ না লোকজন সুউচ্চ ইমারত নির্মাণ কার্যে পরস্পরে প্রতিযোগিতা করিবে, যতক্ষণ না এক ব্যক্তি কোন ব্যক্তির কবরের নিকট দিয়া গমনকালে (আক্ষেপ করিয়া) বলিবে, হায়। আমি যদি এই স্থানে হইতাম। এবং যতক্ষণ না পশ্চিম দিক হইতে সূর্য উদিত হইবে। অতঃপর সূর্য যখন (পশ্চিম দিক হইতে) উদিত হইবে তখন লোকেরা তাহা প্রত্যক্ষ করার পর সকলেই (আল্লাহর প্রতি ঈমান আনিবে। কিন্তু সেই সময় এমন হইবে যে, “তখনকার ঈমান কোন লোকেরই উপকারে আসিবে না – সেই ব্যক্তি ইতিপূর্বে ঈমান গ্রহণ করে নাই কিংবা ঈমানদার অবস্থায় কোন নেক কাজ করে নাই।" আর কিয়ামত এমন অবস্থায় কায়েম হইবে যে, দুই ব্যক্তি (ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে) একে অন্যের সম্মুখে কাপড় খুলিবে, কিন্তু সেই কাপড় ক্রয়-বিক্রয় কিংবা গুটাইয়া লওয়ারও অবসর পাইবে না এবং কিয়ামত অবশ্য কায়েম হইবে এমতাবস্থায় যে, এক ব্যক্তি তাহার উষ্ট্রী দোহন করিয়া দুগ্ধ লইয়া আসিবে, কিন্তু উহা পান করিবারও সময় পাইবে না। আর কিয়ামত অবশ্য এমন অবস্থায় কায়েম হইবে যে, এক ব্যক্তি তাহার চৌবাচ্চা মেরামত বা নির্মাণ করিতে থাকিবে, কিন্তু উহাতে সে পানি পান করিবার সময় পাইবে না। আর কিয়ামত এমন পরিস্থিতি ও পরিবেশে অবশ্যই কায়েম হইবে যে, এক ব্যক্তি খাদ্যের লোকমা বা গ্রাস তাহার মুখ পর্যন্ত উত্তোলন করিবে, কিন্তু সে উহা খাওয়ার অবকাশ পাইবে না। – -মোত্তাঃ
بَاب الْمَلَاحِمِ: الْفَصْل الأول
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم قا ل: لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَقْتَتِلَ فِئَتَانِ عَظِيمَتَانِ تَكُونُ بَيْنَهُمَا مَقْتَلَةٌ عَظِيمَةٌ دَعَوَاهُمَا وَاحِدَةٌ وَحَتَّى يبْعَث دجالون كذابون قريب مِنْ ثَلَاثِينَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ وَحَتَّى يُقْبَضَ الْعِلْمُ وَتَكْثُرَ الزَّلَازِلُ وَيَتَقَارَبَ الزَّمَانُ وَيظْهر الْفِتَنُ وَيَكْثُرَ الْهَرْجُ وَهُوَ الْقَتْلُ وَحَتَّى يَكْثُرَ فِيكُمُ الْمَالُ فَيَفِيضَ حَتَّى يُهِمَّ رَبَّ الْمَالِ مَنْ يَقْبَلُ صَدَقَتَهُ وَحَتَّى يَعْرِضَهُ فَيَقُولُ الَّذِي يعرضه عَلَيْهِ: لَا أَرَبَ لِي بِهِ وَحَتَّى يَتَطَاوَلَ النَّاسُ فِي الْبُنْيَانِ وَحَتَّى يَمُرَّ الرَّجُلُ بِقَبْرِ الرَّجُلِ فَيَقُولُ: يَا لَيْتَنِي مَكَانَهُ وَحَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا فَإِذَا طَلَعَتْ وَرَآهَا النَّاسُ آمَنُوا أَجْمَعُونَ فَذَلِكَ حِينَ (لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا) وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَقَدْ نَشَرَ الرَّجُلَانِ ثَوْبَهُمَا بَيْنَهُمَا فَلَا يَتَبَايَعَانِهِ وَلَا يَطْوِيَانِهِ وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَقَدِ انْصَرَفَ الرَّجُلُ بِلَبَنِ لِقْحَتِهِ فَلَا يَطْعَمُهُ وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَهُوَ يُلِيطُ حَوْضَهُ فَلَا يَسْقِي فِيهِ وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَقَدْ رَفَعَ أُكْلَتَهُ إِلَى فِيهِ فَلَا يطْعمهَا . مُتَّفق عَلَيْهِ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

مَلَاحِمِ ইহা বহুবচন। অর্থ, তুমুল সংঘর্ষ। لحم অর্থ মাংস। অর্থাৎ, এমন সংঘর্ষ ও হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হইবে, যাহাতে পরস্পরের মাংস একত্রিত হইয়া যাইবে। অত্র অধ্যায়ের হাদীসসমুহে কিয়ামতের পূর্বে এইরূপ সংঘটিত যুদ্ধের বিবরণ দেওয়া হইয়াছে।

অর্থাৎ, কিয়ামতের পটভূমি তথা নিদর্শনসমূহ পর্যায়ক্রমে একটির পর একটি প্রকাশ হইতে থাকিবে এবং মুহূর্তের মধ্যে উহা সংঘটিত হইয়া যাইবে, যাহা লোকেরা ভাবিতে বা কল্পনাও করিতে পারিবে না।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান