মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

২৭- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৩৫৮
- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না
৫৩৫৮। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ আমার পরওয়ারদেগার আমাকে নয়টি কাজের নির্দেশ দিয়াছেন।
(১) প্রকাশ্যে ও গোপনে যেন আল্লাহকে ভয় করি।
(২) ক্রোধ ও সন্তুষ্টি উভয় অবস্থাতে যেন ন্যায় কথা বলি।
(৩) অভাব ও সচ্ছলতা, উভয় অবস্থায় যেন মধ্যমপন্থা অবলম্বন করি।
(৪) যে আমার সহিত সম্পর্ক ছিন্ন করে তাহার সাথে যেন আত্মীয়তা বহাল রাখি।
(৫) যে আমাকে বঞ্চিত করে আমি যেন তাহাকে দান করি।
(৬) যে আমার প্রতি যুলম করে (প্রতিশোধ গ্রহণের শক্তি থাকা সত্ত্বেও) আমি যেন তাহাকে ক্ষমা করি।
(৭) নীরবতায় যেন আমি আল্লাহর চিন্তায় মগ্ন থাকি।
(৮) আমার বচন যেন আল্লাহর যিকরে পরিণত হয়।
(৯) আমার দৃষ্টি যেন উপদেশমূলক হয় এবং আমি যেন ভাল কাজের আদেশ করি। —রাযীন
كتاب الرقاق
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَمَرَنِي رَبِّي بِتِسْعٍ: خَشْيَةِ اللَّهِ فِي السِّرِّ وَالْعَلَانِيَةِ وَكَلِمَةِ الْعَدْلِ فِي الْغَضَبِ وَالرِّضَى وَالْقَصْدِ فِي الْفَقْرِ وَالْغِنَى وَأَنْ أَصِلَ مَنْ قَطَعَنِي وَأُعْطِي مَنْ حَرَمَنِي وَأَعْفُو عَمَّنْ ظَلَمَنِي وَأَنْ يَكُونَ صَمْتِي فِكْرًا وَنُطْقِي ذِكْرًا وَنَظَرِي عِبْرَةً وَآمُرُ بِالْعُرْفِ «وَقِيلَ» بِالْمَعْرُوفِ رَوَاهُ رزين

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আল্লাহ তা'আলার তরফ থেকে হাদীসে বর্ণিত ন'টি বিষয় সম্পর্কে নবী করীম ﷺ-কে বিশেষভাবে নির্দেশ দেয়ার পিছনে এক বিরাট তাৎপর্য নিহিত রয়েছে। মূলত এসব গুণ আমাদের প্রিয় নবীর মধ্যে এমনিতেই ছিল। এরপরও তাঁকে এসব গুণ সম্পর্কে নির্দেশ দেয়ার তাৎপর্য হলো, তাঁর উম্মতরা যাতে এগুলো নিজেদের জীবনে বাস্তবায়িত করে মানব জাতির মধ্যে নিজেদেরকে আদর্শ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। কারণ এসব গুণ ছাড়া কোন মানুষ নিজেকে যেমন আল্লাহ তা'আলার একজন খাঁটি বান্দা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন না। তেমনি অন্য মানুষের জন্যও তিনি আদর্শ ব্যক্তিকে পরিণত হতে পারেন না। নবী করীম ﷺ সুদীর্ঘ ২৩ বছরব্যাপী আল্লাহর বাণী প্রচারের যে মহান দায়িত্ব পালন করেন, তাঁর ইত্তিকালের পর স্বভাবতই এই দায়িত্ব তাঁর উম্মতের উপর বর্তেছে। তাদেরকে এই দায়িত্ব পালনের যোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যেই আল্লাহ তা'আলা তাঁর রাসূলের মাধ্যমে এসব গুণ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

বস্তুত রিসালতে মুহাম্মদীয় পয়গাম মানব সমাজে পেশ করার জন্য উন্নত মানসিকতা, বুলন্দ আখলাক, বলিষ্ঠ চিন্তাধারা এবং শিক্ষামূলক দৃষ্টি প্রত্যেক মু'মিনের জন্য অপরিহার্য। আর তাই হাদীসের প্রথম অংশে এ অপরিহার্য গুণাবলীর উল্লেখ করা হয়েছে। যে ব্যক্তি সর্বদা আল্লাহকে ভয় করেন, রাগ ও খুশিতে ইনসাফের কথা বলেন, দুঃখ-দৈন্য ও প্রাচুর্যে আল্লাহর উপর সন্তুষ্ট থাকেন, ধৈর্য সহকারে শয়তানের যাবতীয় হামলা মোকাবিলা করেন, যুলমের জবাব যুলমের দ্বারা দেন না, অবসর সময়ে আল্লাহর গুণগান, তাঁর সিফাত ও এখতিয়ার প্রচারের কাজে নিযুক্ত করেন, জিহ্বাকে অন্য কাজে নিয়োজিত করেন না এবং যিনি ইতিহাসের ঘটনা থেকে সবক হাসিল করেন, তিনি মূলত ঈমানের এক জীবন্ত নমুনা। তিনি মানবতার অনুসরণযোগ্য ব্যক্তি। তাঁর গোটা জীবন এক নীরব দাওয়াত এবং তাবলীগ। আল্লাহ আমাদের সকলকে এ বুলন্দ আখলাক দান করুন। আমীন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান