মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

২৭- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৩৫৭
- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না
৫৩৫৭। আবু বুরদা ইবনে আবু মুসা (রঃ) বলেন, হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাঃ) আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি কি জান আমার পিতা তোমার পিতাকে কি বলিয়াছিলেন? তিনি বলিলেন, না (জানি না)। তখন আব্দুল্লাহ্ বলিলেন, আমার পিতা তোমার পিতাকে বলিলেন, হে আবু মুসা! তুমি কি ইহাতে সন্তুষ্ট থাকিতে পার যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সহিত আমাদের ইসলাম এবং তাঁহার সাথে আমাদের হিজরত এবং তাঁহার সাথে আমাদের জিহাদ এবং তাঁহার সহিত আমাদের অন্যান্য সকল আমল আমাদের জন্য সম্বল হিসাবে সঞ্চিত থাকুক; আর তাহার ইনতেকালের পর আমরা যেই সমস্ত আমল করিয়াছি; উহাতে যদি আমরা (ভাল-মন্দে) সমানে সমানে বাঁচিয়া যাই, উহাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। এতদূশ্রবণে তোমার পিতা আমার পিতাকে বলিলেন; না, (ইহাতে আমি সন্তুষ্ট নই।) আল্লাহর কসম! নিশ্চয় আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর ওফাতের পরে জিহাদ করিয়াছি, নামায পড়িয়াছি, রোযা রাখিয়াছি, আরও বহু নেক আমল করিয়াছি এবং আমাদের হাতে বহু লোক ইসলাম গ্রহণ করিয়াছে। সুতরাং উহার ব্যাপারেও আমরা (প্রতিদানের) আশা রাখি। আব্দুল্লাহ্ বলেন, (তোমার পিতার কথা শুনিয়া) তখন আমার পিতা বলিলেন, কিন্তু আমি সেই মহান সত্তার কসম করিয়া বলিতেছি, যাহার হাতে আমি উমরের প্রাণ। অবশ্য আমি ইহাই কামনা করিতেছি যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সহিত থাকিয়া আমরা যেই সমস্ত নেক আমলগুলি করিয়াছিলাম শুধু সেইগুলি সঞ্চিত থাকিলেই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আর তাঁহার ওফাতের পর আমরা যেই সমস্ত আমল করিয়াছি উহাতে (উভয় দিক) সমানে সমান থাকিলেই যথেষ্ট। আবু বুরদা বলেন, তখন আমি বলিলাম, আল্লাহর কসম! আমার পিতা (আবু মুসা) হইতে আপনার পিতাই উত্তম ছিলেন। —বুখারী
كتاب الرقاق
وَعَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ أَبِي مُوسَى قَالَ: قَالَ لِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ: هَلْ تَدْرِي مَا قَالَ أَبِي لِأَبِيكَ؟ قَالَ: قُلْتُ: لَا. قَالَ: فَإِنَّ أَبِي قَالَ لِأَبِيكَ يَا أَبَا مُوسَى هَلْ يَسُرُّكَ أَنَّ إِسْلَامَنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِجْرَتَنَا مَعَهُ وَجِهَادَنَا مَعَهُ وَعَمَلَنَا كُلَّهُ مَعَهُ بَرَدَ لَنَا؟ وَأَنَّ كُلَّ عَمَلٍ عَمِلْنَاهُ بَعْدَهُ نَجَوْنَا مِنْهُ كَفَافًا رَأْسًا بِرَأْسٍ؟ فَقَالَ أَبُوكَ لِأَبِي: لَا وَاللَّهِ قَدْ جَاهَدْنَا بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصَلَّيْنَا وَصُمْنَا وَعَمِلْنَا خَيْرًا كَثِيرًا. وَأَسْلَمَ عَلَى أَيْدِينَا بَشَرٌ كَثِيرٌ وَإِنَّا لَنَرْجُو ذَلِكَ. قَالَ أَبِي: وَلَكِنِّي أَنَا وَالَّذِي نَفْسُ عُمَرَ بِيَدِهِ لَوَدِدْتُ أَنَّ ذَلِكَ بَرَدَ لَنَا وَأَنَّ كُلَّ شَيْءٍ عَمِلْنَاهُ بَعْدَهُ نَجَوْنَا مِنْهُ كَفَافًا رَأْسًا بِرَأْسٍ. فَقُلْتُ: إِنَّ أَبَاكَ وَاللَّهِ كَانَ خيرا من أبي. رَوَاهُ البُخَارِيّ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

১. হাদীসটির সারকথা হইল, নিজের কৃত আমলের উপর ভরসা না রাখিয়া আল্লাহকে ও আল্লাহর আযাবকে ভয় করাই উত্তম।

২. আসহাবে রাসূলের আল্লাহ-ভীতি ও তাকওয়ার এক জীবন্ত উদাহরণ এ হাদীসে অঙ্কিত হয়েছে। নবী করীম ﷺ-এর পাক যবান থেকে উমর ইবন খাত্তাব (রা)-কে বারবার জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া সত্ত্বেও তিনি নিজের আমল সম্পর্কে সদা সতর্ক থাকতেন। যথাযথভাবে সৎকর্ম করা সত্ত্বেও মনে ভয় পোষণ করতেন এবং ভাবতেন, আল্লাহ যদি তা কবুল না করেন, তাহলে তাঁর কি পরিণতি হবে। আল্লাহ তাঁর রাসূলের আনুগত্যের সুউচ্চ মনযিলে অবস্থান করার পরও তাঁর মনে আল্লাহর আযাবের আশঙ্কা অত্যধিক থাকার কারণে তিনি ভাবতেন, নবী করীম ﷺ-এ তিরোধানের পর কৃত আমলের কোন হিসাব করা না হলে অর্থাৎ সমান সমানভাবে ভাল কাজের জন্য পুরস্কার ও মন্দ কাজের জন্য কোন আযাব প্রদান করা না হলে কোনরূপ ঝামেলার সৃষ্টি হবে না। কারণ নবী করীম ﷺ-এর আমলে যত ইবাদত সহীহ নিয়্যতে তাঁর সাহাবিগণ করেছেন, তা যে আল্লাহর দরবারে গৃহীত হবে সে সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই।

সাহাবী আবূ মূসা আশআরী (রা) বিষয়টাকে এমনভাবে পরখ করে দেখেননি যেভাবে খলীফা উমর ইবন খাত্তাব (রা) দেখেছেন। আবু মুসা আশআরী (রা) আল্লাহর রাস্তায় সাহাবীগণের দিন-রাতের আমলের আধিক্য লক্ষ্য করে ভেবেছেনঃ যে, নবী করীম ﷺ-এর ইন্তিকালের পর সম্পাদিত এসব আমলের ফল থেকে সাহাবিগণ কেন বঞ্চিত হবেন। তিনি আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী। উমর (রা)-এর মত সূক্ষ্মভাবে চিন্তা-করেন নি যে, তা গৃহীত হবে, না পরিত্যক্ত হবে।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান