মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২৭- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৩৫৬
- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না
৫৩৫৬। হযরত আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ হে আয়েশা! তুমি ঐসকল গুনাহ্ হইতে বাঁচিয়া থাক যেগুলিকে ক্ষুদ্র ধারণা করা হয়। কেননা, এই সমস্ত ছোট ছোট গুনাহ্গুলির খোঁজ রাখার জন্য আল্লাহর তরফ হইতে (ফিরিশতা) নিয়োজিত রহিয়াছেন। —ইবনে মাজাহ্, দারেমী ও বায়হাকী শো আবুল ঈমানে
كتاب الرقاق
وَعَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَا عَائِشَةَ إِيَّاكِ وَمُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ فَإِنَّ لَهَا مِنَ اللَّهِ طَالِبًا» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ والْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
কবীরা গুনাহ থেকে বাঁচবার জন্য চেষ্টা করা হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে সগীরা (ছোট) গুনাহ সম্পর্কে কোন খেয়াল করা হয় না এবং তা থেকে বাঁচবার জন্যও চেষ্টা করা হয় না। কিন্তু তার পরিণাম খুবই খারাপ। সগীরা গুনাহ সম্পর্কে কোন খেয়াল না করার কারণে অজ্ঞাতসারে মানুষ গুনাহ করতে থাকে এবং আমলনামা গুনাহতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। কিয়ামতের দিন মানুষের সামনে যখন আমলনামা খোলা হবে, তখন দেখতে পাবে যে, ছোট থেকে ছোট গুনাহও আমলনামা থেকে বাদ পড়েনি। প্রত্যেককে তার ছোট-বড় গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে এবং তার শাস্তি প্রদান করা হবে।
সূরা যিলযালে এ হাকীকতের উপর আলোকপাত করা হয়েছে:
وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
"এবং যে অণু পরিমাণ মন্দকাজ করবে, সে তা দেখতে পাবে।"
মুসনাদে আহমদে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত অপর এক হাদীসে নবী করীম ﷺ বলেছেন: সাবধান! ছোট গুনাহ থেকে বেঁচে থাক। কেননা তা মানুষের উপর আপতিত হবে এবং তাকে ধ্বংস করে দিবে।
কবীরা গুনাহর তুলনায় সগীরা গুনাহ ছোট। কিন্তু প্রত্যেক গুনাহ আল্লাহর হুকুমের নাফরমানী বিধায় আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হবে। তাই সগীরা গুনাহ ছোট অপরাধ হলেও সে সম্পর্কে মোটেই উদাসীন থাকা উচিত নয়। কবীরা ও সগীরা গুনাহর তুলনা হচ্ছে অতি বিষাক্ত এবং অল্প বিষাক্ত সাপের মত। যেরূপ উভয় ধরনের সাপের দংশন থেকে আমরা আত্মরক্ষা করতে চাই, সেরূপ গুনাহ বড় হোক আর ছোট হোক, তা থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে।
যদিও নবী করীম ﷺ আয়েশা (রা)-কে উদ্দেশ্য করে উক্ত উপদেশ ও সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন, কিন্তু আসলে উম্মতে মুহাম্মদীর নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্যেই তা প্রযোজ্য।
সূরা যিলযালে এ হাকীকতের উপর আলোকপাত করা হয়েছে:
وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
"এবং যে অণু পরিমাণ মন্দকাজ করবে, সে তা দেখতে পাবে।"
মুসনাদে আহমদে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত অপর এক হাদীসে নবী করীম ﷺ বলেছেন: সাবধান! ছোট গুনাহ থেকে বেঁচে থাক। কেননা তা মানুষের উপর আপতিত হবে এবং তাকে ধ্বংস করে দিবে।
কবীরা গুনাহর তুলনায় সগীরা গুনাহ ছোট। কিন্তু প্রত্যেক গুনাহ আল্লাহর হুকুমের নাফরমানী বিধায় আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হবে। তাই সগীরা গুনাহ ছোট অপরাধ হলেও সে সম্পর্কে মোটেই উদাসীন থাকা উচিত নয়। কবীরা ও সগীরা গুনাহর তুলনা হচ্ছে অতি বিষাক্ত এবং অল্প বিষাক্ত সাপের মত। যেরূপ উভয় ধরনের সাপের দংশন থেকে আমরা আত্মরক্ষা করতে চাই, সেরূপ গুনাহ বড় হোক আর ছোট হোক, তা থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে।
যদিও নবী করীম ﷺ আয়েশা (রা)-কে উদ্দেশ্য করে উক্ত উপদেশ ও সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন, কিন্তু আসলে উম্মতে মুহাম্মদীর নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্যেই তা প্রযোজ্য।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)