মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

২৭- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৩৩১
- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
তৃতীয় অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা
৫৩৩১। হযরত শাদ্দাদ ইবনে আওস (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্যে নামায পড়িল সে শিরক করিল। যে দেখানোর নিয়তে রোযা রাখিল সে শিরক করিল; আর যে দেখানোর জন্য সদকা-খয়রাত করিল সেও শিরক করিল। — হাদীস দুইটি আহমদ রেওয়ায়ত করিয়াছেন।
كتاب الرقاق
وَعَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يَقُول: «من صَلَّى يُرَائِي فَقَدْ أَشْرَكَ وَمَنْ صَامَ يُرَائِي فَقَدْ أَشْرَكَ وَمَنْ تَصَدَّقَ يُرَائِي فَقَدْ أَشْرَكَ» رَوَاهُمَا أَحْمد

হাদীসের ব্যাখ্যা:

১. শরীআতের পরিভাষায় রিয়াকে শিরক বলা হয়। অবশ্য ইহা প্রকাশ্য শিরক নহে ; বরং শিরকে-খফী বা প্রচ্ছন্ন শিরক।

২. আল্লাহর সত্তা, গুণ, অধিকার এবং ক্ষমতার সাথে কোন বস্তু, মানুষ বা প্রতিষ্ঠানকে শরীক করা শিরক। কোন ব্যক্তি, বস্তু বা প্রতিষ্ঠানকে আল্লাহ বলা বা আল্লাহর মর্যাদা দান করা বা আল্লাহর ক্ষমতা ও অধিকার কারো প্রতি জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে আরোপ করা শিরক। যে ব্যাক্তি শিরক করে, আল্লাহ তাকে খুব অপসন্দ করেন এবং তাকে আখিরাতে আগুনের আযাবের দ্বারা শাস্তি প্রদান করবেন।

রিয়া বা লোক দেখানো সৎকাজও এক ধরনের শিরক। যদি কোন বিশ্বাসী ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য সৎকর্ম করে, তাহলে তার ঈমান এবং নামায, রোযা, যাকাত প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতও তাকে আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে পারবে না। আল্লাহর আদালতে সে শিরকের অভিযোগে অভিযুক্ত হবে। নেক আমল করার ব্যাপারে খুব সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। নিয়্যত বিশুদ্ধ হলে সওয়াব পাওয়া যাবে। নিয়্যত বিশুদ্ধ না হলে শুধু নেক আমল বরবাদই হবে না, তার সাথে তথাকথিত নেক আমলকারীকেও শাস্তি ভোগ করতে হবে।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান