মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২৭- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
হাদীস নং: ৫২৮৬
- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ইবাদতের জন্য হায়াত ও দৌলতের আকাঙ্ক্ষা করা
৫২৮৬। হযরত উবায়দ ইবনে খালেদ (রাঃ) হইতে বর্ণিত, নবী (ﷺ) দুই ব্যক্তির মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করিলেন। তাহাদের একজন আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হইয়া গেল। অতঃপর দ্বিতীয় জন তাহার এক সপ্তাহ অথবা ইহার কাছাকাছি সময়ে (আপন বাড়ী-ঘরে) মৃত্যুবরণ করিল। লোকেরা এই ব্যক্তির জানাযা পড়িয়া অবসর হইলে নবী (ﷺ) জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমরা (এই মৃত ব্যক্তির জানাযায়) কি দোআ পড়িয়াছ? তাহারা বলিল, আমরা আল্লাহর নিকট এই দো'আ করিয়াছি তিনি যেন তাহাকে মাফ করিয়া দেন, তাহার প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তাহাকে তাহার (শহীদ) বন্ধুর সহিত মিলিত করেন। তখন নবী (ﷺ) বলিলেনঃ এই ব্যক্তির নামায এবং অন্যান্য নেক আমল কোথায় গেল যাহা সে তাহার (শহীদ) ভাইয়ের মৃত্যুর পরে (এক সপ্তাহ জীবিত থাকাকালীন সময়ে) আদায় করিয়াছিল ? অথবা তিনি বলিয়াছেনঃ শহীদ ভাইয়ের রোযার পরে এই ব্যক্তি যে কয়দিন আপন রোযা রাখিয়াছিল ? বস্তুতঃ (জান্নাতে) তাহাদের উভয়ের মর্যাদার ব্যবধান আসমান ও যমীনের মধ্যকার দূরত্বের সমপরিমাণ। – আবু দাউদ ও নাসায়ী
كتاب الرقاق
وَعَن عبيد بن خَالِد أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آخَى بَيْنَ رَجُلَيْنِ فَقُتِلَ أَحَدُهُمَا ثُمَّ مَاتَ الْآخَرُ بَعْدَهُ بِجُمُعَةٍ أَوْ نَحْوِهَا فَصَلَّوْا عَلَيْهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا قُلْتُمْ؟» قَالُوا: دَعَوْنَا اللَّهَ أَنْ يَغْفِرَ لَهُ وَيَرْحَمَهُ وَيُلْحِقَهُ بِصَاحِبِهِ. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَأَيْنَ صَلَاتُهُ بَعْدَ صَلَاتِهِ وَعَمَلُهُ بَعْدَ عَمَلِهِ؟» أَوْ قَالَ: «صِيَامُهُ بَعْدَ صِيَامِهِ لِمَا بَيْنَهُمَا أَبْعَدُ مِمَّا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. অর্থাৎ, এক ভাইয়ের শাহাদাতের পূর্ব পর্যন্ত উভয়ের আমল ও মর্যাদা আল্লাহর নিকট একই সমান থাকিলেও শাহাদাতের পর তাহার আমল বন্ধ হইয়া গিয়াছে। আর অপর ভাই সপ্তাহকাল পর পর্যন্ত জীবিত থাকিয়া যেই সমস্ত নেক আমল করিয়াছে ইহাতে তাহার মর্যাদা সেই ভাইয়ের চাইতে অনেক বুলন্দ হইয়া গিয়াছে। হুযূর (ﷺ)-এর এই বাক্য হইতে পরোক্ষভাবে ইহাও বুঝা গেল যে, কোন কোন ব্যক্তির আমল শহীদী মর্যাদা অপেক্ষাও উচ্চতর হইতে পারে। যেমন, হযরত আবু বকর ছিদ্দীক (রাঃ)-এর মর্যাদা, অথচ তিনি জেহাদে শহীদ হন নাই।
২. শহীদের মর্যাদা অত্যন্ত বেশি। শাহাদাতের মাধ্যমে এ সুমহান মর্যাদা লাভ করার জন্য সর্বদা প্রত্যেক মু'মিন ব্যক্তির আকাঙ্ক্ষা থাকা উচিত। শাহাদাতের কামনা মনে থাকা অবস্থায় কোন ব্যক্তির মৃত্যু হলে আশা করা যায় আল্লাহ তার নেক নিয়্যতের জন্য তাকে শাহাদাতের সওয়াব দান করবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেসব নেক কাজ করেছেন, সে সবের জন্য তাকে বর্ধিত সওয়াব দান করা হবে।
নবী করীম ﷺ সাহাবায়ে কিরামের নিকট থেকে যখন শুনতে পেলেন যে, তাঁরা শহীদ ব্যক্তির কাছে শেষে মৃত্যুবরণকারীকে পৌছানোর জন্য আল্লাহর কাছে দু'আ করেছেন, তখন তিনি তাদেরকে যা বলেছিলেন তার অর্থ হল, প্রথম ব্যক্তির শাহাদাতের পর দ্বিতীয় ব্যক্তি এক সপ্তাহ বা অনুরূপ সময় দুনিয়াতে বেঁচেছিলেন। সে সময়ের মধ্যে নামায-রোযা এবং সৎকর্ম এমন আন্তরিকতার সাথে করেছিলেন যে, আল্লাহ তার উপর প্রীত ও সন্তুষ্ট হয়ে তাকে শহীদ ব্যক্তির চেয়েও বেশি মর্যাদা দান করেছেন। ফলে উভয়ের মর্যাদার মধ্যে আসমান যমীনের ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম ব্যক্তিকে শাহাদাতের সওয়াব দান করা হয়েছে, তাতে তাকে কোনরূপ কম দেয়া হয়নি। কিন্তু শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা পোষণকারী যাহিদ ব্যক্তি তার বন্ধুর মৃত্যুর পর অল্প সময়ের মধ্যে আন্তরিকতা সহকারে যে নেক আমল করেছিলেন, সে নেক আমলের দরুন তিনি তার শহীদ বন্ধুর চেয়েও বেশি মর্যাদা লাভ করেছেন। কাজেই প্রত্যেক নেক কাজে ইখলাস থাকা উচিত এবং ইখলাসের সাথে সামান্য সময়ের মধ্যেও যে ইবাদত-বন্দেগী করা হয়, তার ফল এত বিরাট ও মহান যে, তা আমরা সহজে ধারণাও করতে পারি না।
২. শহীদের মর্যাদা অত্যন্ত বেশি। শাহাদাতের মাধ্যমে এ সুমহান মর্যাদা লাভ করার জন্য সর্বদা প্রত্যেক মু'মিন ব্যক্তির আকাঙ্ক্ষা থাকা উচিত। শাহাদাতের কামনা মনে থাকা অবস্থায় কোন ব্যক্তির মৃত্যু হলে আশা করা যায় আল্লাহ তার নেক নিয়্যতের জন্য তাকে শাহাদাতের সওয়াব দান করবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেসব নেক কাজ করেছেন, সে সবের জন্য তাকে বর্ধিত সওয়াব দান করা হবে।
নবী করীম ﷺ সাহাবায়ে কিরামের নিকট থেকে যখন শুনতে পেলেন যে, তাঁরা শহীদ ব্যক্তির কাছে শেষে মৃত্যুবরণকারীকে পৌছানোর জন্য আল্লাহর কাছে দু'আ করেছেন, তখন তিনি তাদেরকে যা বলেছিলেন তার অর্থ হল, প্রথম ব্যক্তির শাহাদাতের পর দ্বিতীয় ব্যক্তি এক সপ্তাহ বা অনুরূপ সময় দুনিয়াতে বেঁচেছিলেন। সে সময়ের মধ্যে নামায-রোযা এবং সৎকর্ম এমন আন্তরিকতার সাথে করেছিলেন যে, আল্লাহ তার উপর প্রীত ও সন্তুষ্ট হয়ে তাকে শহীদ ব্যক্তির চেয়েও বেশি মর্যাদা দান করেছেন। ফলে উভয়ের মর্যাদার মধ্যে আসমান যমীনের ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম ব্যক্তিকে শাহাদাতের সওয়াব দান করা হয়েছে, তাতে তাকে কোনরূপ কম দেয়া হয়নি। কিন্তু শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা পোষণকারী যাহিদ ব্যক্তি তার বন্ধুর মৃত্যুর পর অল্প সময়ের মধ্যে আন্তরিকতা সহকারে যে নেক আমল করেছিলেন, সে নেক আমলের দরুন তিনি তার শহীদ বন্ধুর চেয়েও বেশি মর্যাদা লাভ করেছেন। কাজেই প্রত্যেক নেক কাজে ইখলাস থাকা উচিত এবং ইখলাসের সাথে সামান্য সময়ের মধ্যেও যে ইবাদত-বন্দেগী করা হয়, তার ফল এত বিরাট ও মহান যে, তা আমরা সহজে ধারণাও করতে পারি না।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)