মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২৭- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
হাদীস নং: ৫২২৮
- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৫২২৮। হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এই আয়াতটি পাঠ করিলেনঃ (فَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يَهْدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ) অর্থঃ আল্লাহ্ তা'আলা যাহাকে হেদায়তদান করার ইচ্ছা করেন, তাহার অন্তরকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করিয়া দেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিলেনঃ হেদায়তের আলো যখন অন্তরে প্রবেশ করে তখন উহা (ইসলামের বিধানসমূহ গ্রহণ করার জন্য) উন্মুক্ত হইয়া যায়। তখন জিজ্ঞাসা করা হইল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। সেই অবস্থা জানার কোন চিহ্ন বা নিদর্শন আছে কি? বলিলেনঃ হ্যাঁ, আছে। প্রতারণার ঘর (তথা দুনিয়া) হইতে দূরে সরিয়া থাকা ও চিরস্থায়ী ঘর (তথা আখেরাত) -এর প্রতি ঝুঁকিয়া পড়া এবং মৃত্যু আসার পূর্বে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকা।
كتاب الرقاق
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: تَلَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (فَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يَهْدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ) فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ النُّورَ إِذَا دَخَلَ الصَّدْرَ انْفَسَحَ» . فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ لِتِلْكَ مِنْ عِلْمٍ يُعْرَفُ بِهِ؟ قَالَ: «نَعَمْ التَّجَافِي مِنْ دَارِ الْغُرُورِ وَالْإِنَابَةُ إِلَى دَارِ الْخُلُودِ وَالِاسْتِعْدَادُ لِلْمَوْتِ قبل نُزُوله»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ইসলামের জন্য বুক খুলে যাওয়ার তিনটি লক্ষণ আল্লাহর রাসূল ﷺ উল্লেখ করেছেন।
এক: বান্দার মনে অস্থায়ী দুনিয়ার আরাম-আয়েশের প্রতি কোনরূপ লোভের সৃষ্টি হবে না। বান্দা প্রবঞ্চনাভরা দুনিয়ার গৃহের আকর্ষণ থেকে নিজেকে দূরে রাখবে।
দুই: আখিরাতের চিরস্থায়ী সুখ-শান্তির প্রার্থী হবে। তার মনে আখিরাতের মহব্বত প্রবল হবে। আখিরাতের সুখ-শান্তির জন্য দুনিয়ায় চেষ্টা-সাধনা করবে।
তিন: মৃত্যুর জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। সর্বদা উৎকৃষ্ট আমল করবে ও মৃত্যুকে ভয় করবে। সর্বদা তার মনের মধ্যে এ চিন্তা থাকবে, যে কোন মুহূর্তে তার পরপারের নোটিশ এসে যেতে পারে। তাই আয়ু থাকা অবস্থায় যত বেশি ইবাদত করা যায়, ততই মঙ্গল। এ ধরনের বান্দা কখনো মৃত্যুর প্রতি গাফিল থাকে না। মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করার অর্থ হল, অন্যায় অপরাধ থেকে দূরে থাকা, আল্লাহর হুকুমকে লংঘন না করা, সর্বাবস্থায় আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করা, নিজের ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য খুব বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করা।
এক: বান্দার মনে অস্থায়ী দুনিয়ার আরাম-আয়েশের প্রতি কোনরূপ লোভের সৃষ্টি হবে না। বান্দা প্রবঞ্চনাভরা দুনিয়ার গৃহের আকর্ষণ থেকে নিজেকে দূরে রাখবে।
দুই: আখিরাতের চিরস্থায়ী সুখ-শান্তির প্রার্থী হবে। তার মনে আখিরাতের মহব্বত প্রবল হবে। আখিরাতের সুখ-শান্তির জন্য দুনিয়ায় চেষ্টা-সাধনা করবে।
তিন: মৃত্যুর জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। সর্বদা উৎকৃষ্ট আমল করবে ও মৃত্যুকে ভয় করবে। সর্বদা তার মনের মধ্যে এ চিন্তা থাকবে, যে কোন মুহূর্তে তার পরপারের নোটিশ এসে যেতে পারে। তাই আয়ু থাকা অবস্থায় যত বেশি ইবাদত করা যায়, ততই মঙ্গল। এ ধরনের বান্দা কখনো মৃত্যুর প্রতি গাফিল থাকে না। মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করার অর্থ হল, অন্যায় অপরাধ থেকে দূরে থাকা, আল্লাহর হুকুমকে লংঘন না করা, সর্বাবস্থায় আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করা, নিজের ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য খুব বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করা।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)