মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২৬- আদাব - শিষ্টাচার অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৭৫০
৮. প্রথম অনুচ্ছেদ - নাম রাখা
৪৭৫০। হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, একদা নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাজারে ছিলেন। এমন সময় জনৈক ব্যক্তি 'হে আবুল কাসেম' বলিয়া ডাক দিল। তখন নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার দিকে তাকাইলেন। তখন লোকটি বলিল, আমি (আপ নাকে ডাকি নাই,) বরং ঐ ব্যক্তিকে ডাকিয়াছি। অতঃপর নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন: তোমরা আমার নামানুসারে নাম রাখিতে পার, কিন্তু আমার কুনিয়াতে (উপনামে) নাম রাখিও না। -মোত্তাঃ
بَابُ الْأَسَامِىْ: الْفَصْل الأول
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي السُّوقِ فَقَالَ رَجُلٌ: يَا أَبَا الْقَاسِمِ فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: إِنَّمَا دَعَوْتُ هَذَا. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسلم: «سموا باسمي وَلَا تكنوا بكنيتي» . مُتَّفق عَلَيْهِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
اسامى ইহা বহুবচন, অনুরূপভাবে اسماء ও اسام ও বহুবচন। এইগুলির একবচন হইল اسم অর্থঃ নাম। হাদীসে বর্ণিত আছে; সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর চাই ছেলে হউক বা মেয়ে হউক, পিতা-মাতার কর্তব্য সপ্তম দিনের মধ্যে তাহার একটি অর্থবোধক নাম রাখা। আল্লাহর বান্দা বা বাঁদীসূচক নাম, নবী, রাসূল কিংবা কোন ওলী-বুযুর্গ ব্যক্তির নামানুসারে নাম রাখাই উত্তম। কোন কাফের, মুশরিক কিংবা প্রসিদ্ধ ফাসেক, পাপী ব্যক্তির নামানুসারে নাম রাখা শরীঅতে নিষেধ করা হইয়াছে। কারণ, নামের প্রতিক্রিয়া সন্তানের চরিত্রে প্রতিফলিত হয়। আল্লাহ্র কালামে উল্লেখ আছেঃ بئس الاسم الفسوق
অধিকাংশ ইমাম ও ফকীহগণ বলেন, আহ্বানকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংশয়ের সম্ভাবনা থাকার দরুন এই হাদীসের বিধান হুযূর (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় কার্যকর ছিল। তাঁহার ওফাতের পর এই সম্ভাবনা না থাকার কারণে হুকুম রহিত হইয়া গিয়াছে। সুতরাং এখন ‘আবুল কাসেম' কাহারও কুনিয়াত বা উপনাম রাখা জায়েয আছে। যেমন, হযরত আলী (রাঃ)-এর পৌত্র মুহাম্মদ বিন হানফীয়ার কুনিয়াত ছিল আবুল কাসেম।
অধিকাংশ ইমাম ও ফকীহগণ বলেন, আহ্বানকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংশয়ের সম্ভাবনা থাকার দরুন এই হাদীসের বিধান হুযূর (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় কার্যকর ছিল। তাঁহার ওফাতের পর এই সম্ভাবনা না থাকার কারণে হুকুম রহিত হইয়া গিয়াছে। সুতরাং এখন ‘আবুল কাসেম' কাহারও কুনিয়াত বা উপনাম রাখা জায়েয আছে। যেমন, হযরত আলী (রাঃ)-এর পৌত্র মুহাম্মদ বিন হানফীয়ার কুনিয়াত ছিল আবুল কাসেম।
